ঢাকা ১১:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

সরকারের মেয়াদ বাড়ছে এমন দাবি ভিত্তিহীন: প্রেস উইং

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৯:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 2624

ছবি সংগৃহীত

 

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়বে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে তথ্য ছড়িয়েছে, তাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টস-এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই স্পষ্টীকরণ দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে একটি ফটোকার্ড ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যেখানে দাবি করা হচ্ছে, গণভোটে ইতিবাচক ফলাফল এলে বর্তমান সরকার আরও ১৮০ দিন ক্ষমতায় থাকবে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের একটি ফটোকার্ড বিকৃতভাবে ব্যাখ্যা করে এই গুজব ছড়ানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ওই কার্ডটির শিরোনাম ছিল— ‘নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবেন: আলী রীয়াজ’।

আরও পড়ুন  দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়, তেলাপোকা দমনে মরিয়া সরকার

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ এই বিভ্রান্তি নিরসনে জানান, গণপরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধা সৃষ্টি হবে—এমন ধারণা ভুল। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা প্রথম দিন থেকেই স্বাভাবিক রাষ্ট্র পরিচালনা, সরকার গঠন ও বাজেট প্রণয়ন করবেন। তবে সংবিধানকে সংস্কার করার জন্য তারা আলাদা শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করবেন। এটি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, বরং পরবর্তী নির্বাচিত সংসদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

প্রেস উইংয়ের বিবৃতিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর বরাত দিয়ে জানানো হয়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই পরিষদ প্রথম বৈঠকের পর থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ করবে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিনিধিরা একই সাথে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বৈত ভূমিকা পালন করবেন।

সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, প্রচলিত আদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো ইঙ্গিত বা সুযোগ নেই। সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সংসদের দ্বৈত ভূমিকার অবসান ঘটবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্যগুলো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির একটি অপচেষ্টা মাত্র।

নিউজটি শেয়ার করুন

সরকারের মেয়াদ বাড়ছে এমন দাবি ভিত্তিহীন: প্রেস উইং

আপডেট সময় ১১:০৯:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

 

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়বে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে তথ্য ছড়িয়েছে, তাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টস-এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই স্পষ্টীকরণ দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে একটি ফটোকার্ড ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যেখানে দাবি করা হচ্ছে, গণভোটে ইতিবাচক ফলাফল এলে বর্তমান সরকার আরও ১৮০ দিন ক্ষমতায় থাকবে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের একটি ফটোকার্ড বিকৃতভাবে ব্যাখ্যা করে এই গুজব ছড়ানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ওই কার্ডটির শিরোনাম ছিল— ‘নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবেন: আলী রীয়াজ’।

আরও পড়ুন  এক দফা এক দাবি: জাহাঙ্গীরের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ এই বিভ্রান্তি নিরসনে জানান, গণপরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধা সৃষ্টি হবে—এমন ধারণা ভুল। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা প্রথম দিন থেকেই স্বাভাবিক রাষ্ট্র পরিচালনা, সরকার গঠন ও বাজেট প্রণয়ন করবেন। তবে সংবিধানকে সংস্কার করার জন্য তারা আলাদা শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করবেন। এটি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, বরং পরবর্তী নির্বাচিত সংসদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

প্রেস উইংয়ের বিবৃতিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর বরাত দিয়ে জানানো হয়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই পরিষদ প্রথম বৈঠকের পর থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ করবে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিনিধিরা একই সাথে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বৈত ভূমিকা পালন করবেন।

সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, প্রচলিত আদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো ইঙ্গিত বা সুযোগ নেই। সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সংসদের দ্বৈত ভূমিকার অবসান ঘটবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্যগুলো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির একটি অপচেষ্টা মাত্র।