ঢাকা ১০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ২৬ দিনে প্রাণ হারাল ১৬৬ শিশু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিসে বাংলাদেশের স্বর্ণজয় সংসদ থেকে বিরোধী দলের আবারও ওয়াকআউট: ‘গণবিরোধী’ বিল পাসের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বড় নিয়োগ, আবেদন শেষ ১০ এপ্রিল পুলিশে ২৭০৩ কনস্টেবল নিয়োগ: জেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ৩ হাজারের বেশি পাম্পে তেল নেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব, ছুরিকাঘাতে আহত ৩ সেনা কর্মকর্তা ও ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারণা: দেশবাসীকে সেনাবাহিনীর সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন রুট ঘোষণা; অমান্য করলেই ধ্বংসের হুঁশিয়ারি

আড়াই ঘণ্টা পর রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫৮:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫
  • / 192

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ আড়াই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আবারও স্বাভাবিক হয়েছে। বুধবার (১১ জুন) সকাল ৯টায় আন্দোলনকারীরা নন্দনগাছী রেলস্টেশনের অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। তবে আন্দোলন প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারী দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এর আগে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছী স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও স্টেশন সংস্কারের দাবিতে রেলপথ অবরোধ করেন স্থানীয়রা। এতে রাজশাহী থেকে খুলনাগামী সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ও ঢাকাগামী মধুমতী, বনলতা ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন যোগাযোগে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে।

বিক্ষোভকারীরা স্টেশনের দুই পাশে লাল নিশান টানিয়ে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। পরে স্টেশনের সামনে বিভিন্ন দাবিদাওয়া লেখা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। এতে ঈদ শেষে কর্মস্থলমুখী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

আরও পড়ুন  তীব্র শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশ, রাজশাহীতে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রিতে

আন্দোলনকারীদের দাবি, নন্দনগাছী স্টেশনে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস, বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ও ঢালার চর এক্সপ্রেস ট্রেনের নিয়মিত যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে হবে এবং অবিলম্বে স্টেশনটির জরুরি সংস্কার করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হক বলেন, “চারঘাট, বাঘা ও পুঠিয়ার হাজারো মানুষ এই স্টেশন ব্যবহার করলে উপকৃত হবেন। রাস্তায় যানজট বাড়ছে, রেলই এখন ভরসা। অথচ যাত্রাবিরতি না থাকায় মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।”

উল্লেখ্য, ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত নন্দনগাছী স্টেশনটি ২০১৫ সালের শেষ দিকে কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। একসময় এখানে ১২ জন জনবল থাকলেও বর্তমানে মাত্র একজন পোর্টারম্যান কর্মরত রয়েছেন। এখন শুধু দুটি লোকাল ট্রেন এখানে থামে। প্ল্যাটফর্মে ছাউনি থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্টেশনটি একেবারেই জরাজীর্ণ।

এর আগেও গত ১ মে একই দাবিতে স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেছিলেন। সেদিন বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ও লোকাল মেল ট্রেন বন্ধ হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে এই আন্দোলন বহুদিনের ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। দ্রুত সমাধান না হলে এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও জটিল আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আড়াই ঘণ্টা পর রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

আপডেট সময় ১০:৫৮:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫

রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ আড়াই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আবারও স্বাভাবিক হয়েছে। বুধবার (১১ জুন) সকাল ৯টায় আন্দোলনকারীরা নন্দনগাছী রেলস্টেশনের অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। তবে আন্দোলন প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারী দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এর আগে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছী স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও স্টেশন সংস্কারের দাবিতে রেলপথ অবরোধ করেন স্থানীয়রা। এতে রাজশাহী থেকে খুলনাগামী সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ও ঢাকাগামী মধুমতী, বনলতা ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন যোগাযোগে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে।

বিক্ষোভকারীরা স্টেশনের দুই পাশে লাল নিশান টানিয়ে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। পরে স্টেশনের সামনে বিভিন্ন দাবিদাওয়া লেখা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। এতে ঈদ শেষে কর্মস্থলমুখী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

আরও পড়ুন  রাজশাহী মেডিকেলের পরিচালকের ওপর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ: অবহেলার দায়ে কঠোর সমালোচনা

আন্দোলনকারীদের দাবি, নন্দনগাছী স্টেশনে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস, বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ও ঢালার চর এক্সপ্রেস ট্রেনের নিয়মিত যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে হবে এবং অবিলম্বে স্টেশনটির জরুরি সংস্কার করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হক বলেন, “চারঘাট, বাঘা ও পুঠিয়ার হাজারো মানুষ এই স্টেশন ব্যবহার করলে উপকৃত হবেন। রাস্তায় যানজট বাড়ছে, রেলই এখন ভরসা। অথচ যাত্রাবিরতি না থাকায় মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।”

উল্লেখ্য, ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত নন্দনগাছী স্টেশনটি ২০১৫ সালের শেষ দিকে কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। একসময় এখানে ১২ জন জনবল থাকলেও বর্তমানে মাত্র একজন পোর্টারম্যান কর্মরত রয়েছেন। এখন শুধু দুটি লোকাল ট্রেন এখানে থামে। প্ল্যাটফর্মে ছাউনি থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্টেশনটি একেবারেই জরাজীর্ণ।

এর আগেও গত ১ মে একই দাবিতে স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেছিলেন। সেদিন বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ও লোকাল মেল ট্রেন বন্ধ হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে এই আন্দোলন বহুদিনের ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। দ্রুত সমাধান না হলে এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও জটিল আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।