ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে বাড়বে করদাতা: উপদেষ্টা ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ঢাকায়

আঙুর চাষের মাধ্যমে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন জীবননগরের দুই ভাই

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৫৬:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫
  • / 559

ছবি: সংগৃহীত

 

দেশে প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আঙুর চাষ শুরু হয়েছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে। এখানকার তরুণ উদ্যোক্তা দুই ভাই, আশরাফুল ইসলাম (৩৮) ও তরিকুল ইসলাম (৩৫), সাড়ে তিন বিঘা জমিতে সফলভাবে বিদেশি আঙুর চাষ করেছেন। এর আগে অনেক চাষি আঙুর চাষে ব্যর্থ হলেও এবার তারা সফল হয়েছেন।

এক বছর আগে তারা এই জমিতে আঙুরের চারা রোপণ করেন। চারা রোপণের এক বছরের মধ্যে প্রতিটি গাছে প্রচুর ফল এসেছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে আঙুরের বাজারজাতকরণ শুরু হবে। আঙুর ভিটামিন সমৃদ্ধ একটি ফল এবং প্রতিদিন বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে শতশত টন আঙুর আমদানি করা হয়। তবে এবার দেশেই প্রথমবারের মতো আঙুর চাষ হচ্ছে।

আরও পড়ুন  কানাডার ফিলিস্তিন সিদ্ধান্তের জবাবে ট্রাম্পের বাণিজ্যিক প্রতিশোধ

হাসাদাহ গ্রামের ভূষিপাড়া মাঠে এই বাগানে তারা পার্পেল ও বাইকুনুর জাতের ৭৫০টি চারা রোপণ করেছেন। বর্তমানে বাঁশের মাচায় সবুজ পাতার ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে সবুজ আঙুর, যা পরিপক্ক হয়ে লাল হবে এবং রসালো ও মিষ্টি হবে।

আঙুর চাষের মাধ্যমে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন জীবননগরের দুই ভাই
আঙুর চাষের মাধ্যমে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন জীবননগরের দুই ভাই: ছবিটি সংগৃহীত

বাগানটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় করছেন। আশরাফুল ইসলাম জানান, তাদের ৩৮ বিঘা জমিতে ড্রাগন, মাল্টা, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফলের বাগান রয়েছে। আঙুরের বাগান করার সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে নতুন ফলের চাষের আগ্রহ।

তিনি বলেন, “দুই বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু গাছ লাগিয়েছিলাম। ফল মিষ্টি হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ শুরু করেছি। আশা করছি, প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ১৫ কেজি আঙুর হারভেস্ট করতে পারব এবং মোট ২০ লাখ টাকার আঙুর বিক্রি করতে পারব।”
বাগানের দর্শনার্থী ঝিনাইদহ শহরের সবুর খান বলেন, “ফেসবুকে বাগানের সফলতার গল্প শুনে এখানে এসেছি। এমন সফলতা আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে।”

বাগানে কর্মরত শ্রমিক হাসেম আলী জানান, আঙুর বাগানের কারণে অনেক শ্রমিক এখন কাজের সুযোগ পেয়েছেন এবং তাদের জীবিকা নির্বাহ করছেন।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “জীবননগরের মাটি আঙুর চাষের জন্য উপযোগী। চলতি বছরে ৩০ বিঘা জমিতে আঙুর চাষ হয়েছে, যার মধ্যে আশরাফুল ইসলামের বাগানে সবচেয়ে বেশি ফল এসেছে। আশা করা হচ্ছে, তারা লাভবান হবেন।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আঙুর চাষের মাধ্যমে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন জীবননগরের দুই ভাই

আপডেট সময় ১২:৫৬:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫

 

দেশে প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আঙুর চাষ শুরু হয়েছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে। এখানকার তরুণ উদ্যোক্তা দুই ভাই, আশরাফুল ইসলাম (৩৮) ও তরিকুল ইসলাম (৩৫), সাড়ে তিন বিঘা জমিতে সফলভাবে বিদেশি আঙুর চাষ করেছেন। এর আগে অনেক চাষি আঙুর চাষে ব্যর্থ হলেও এবার তারা সফল হয়েছেন।

এক বছর আগে তারা এই জমিতে আঙুরের চারা রোপণ করেন। চারা রোপণের এক বছরের মধ্যে প্রতিটি গাছে প্রচুর ফল এসেছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে আঙুরের বাজারজাতকরণ শুরু হবে। আঙুর ভিটামিন সমৃদ্ধ একটি ফল এবং প্রতিদিন বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে শতশত টন আঙুর আমদানি করা হয়। তবে এবার দেশেই প্রথমবারের মতো আঙুর চাষ হচ্ছে।

আরও পড়ুন  তেলআবিবের আকাশে হাজার হাজার কাক, যে কারণে আতঙ্কে ইসরাইলিরা

হাসাদাহ গ্রামের ভূষিপাড়া মাঠে এই বাগানে তারা পার্পেল ও বাইকুনুর জাতের ৭৫০টি চারা রোপণ করেছেন। বর্তমানে বাঁশের মাচায় সবুজ পাতার ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে সবুজ আঙুর, যা পরিপক্ক হয়ে লাল হবে এবং রসালো ও মিষ্টি হবে।

আঙুর চাষের মাধ্যমে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন জীবননগরের দুই ভাই
আঙুর চাষের মাধ্যমে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন জীবননগরের দুই ভাই: ছবিটি সংগৃহীত

বাগানটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় করছেন। আশরাফুল ইসলাম জানান, তাদের ৩৮ বিঘা জমিতে ড্রাগন, মাল্টা, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফলের বাগান রয়েছে। আঙুরের বাগান করার সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে নতুন ফলের চাষের আগ্রহ।

তিনি বলেন, “দুই বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু গাছ লাগিয়েছিলাম। ফল মিষ্টি হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ শুরু করেছি। আশা করছি, প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ১৫ কেজি আঙুর হারভেস্ট করতে পারব এবং মোট ২০ লাখ টাকার আঙুর বিক্রি করতে পারব।”
বাগানের দর্শনার্থী ঝিনাইদহ শহরের সবুর খান বলেন, “ফেসবুকে বাগানের সফলতার গল্প শুনে এখানে এসেছি। এমন সফলতা আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে।”

বাগানে কর্মরত শ্রমিক হাসেম আলী জানান, আঙুর বাগানের কারণে অনেক শ্রমিক এখন কাজের সুযোগ পেয়েছেন এবং তাদের জীবিকা নির্বাহ করছেন।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “জীবননগরের মাটি আঙুর চাষের জন্য উপযোগী। চলতি বছরে ৩০ বিঘা জমিতে আঙুর চাষ হয়েছে, যার মধ্যে আশরাফুল ইসলামের বাগানে সবচেয়ে বেশি ফল এসেছে। আশা করা হচ্ছে, তারা লাভবান হবেন।”