অপরাধ যত বড় হোক, পিটিয়ে হত্যা গ্রহণযোগ্য নয়: ধর্ম উপদেষ্টা
- আপডেট সময় ০৫:৩৬:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 168
ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গার্মেন্টস কর্মী দিপু চন্দ্র দাশকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, যত বড় অপরাধীই হোক, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে পিটিয়ে হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সোমবার সকালে ময়মনসিংহ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের জেলা কর্মশালায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, হিন্দু ধর্ম কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, প্রকল্প পরিচালক নিত্য প্রকাশ বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ময়মনসিংহে দিপু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরকার প্রথম দিন থেকেই দুঃখ প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং বা গণপিটুনি গ্রহণযোগ্য নয়। মব জাস্টিস চলতে থাকলে রাষ্ট্র, সরকার ও প্রশাসনের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি ধর্ম অবমাননা করে থাকে, সে ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগ আছে। আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে। কিন্তু ধর্ম অবমাননার অজুহাতে কাউকে পিটিয়ে হত্যা করা বা পুড়িয়ে ফেলা জঘন্যতম অপরাধ। সরকার এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়।
দিপু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে শিল্প উপদেষ্টাকে দিপুর বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। দিপু দরিদ্র পরিবারের সন্তান উল্লেখ করে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং দিপুর পরিবারের সব খরচ সরকার বহন করবে।
রাজবাড়ীর পাংশায় সংঘটিত আরেকটি হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ওই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত অমিতের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ডাকাতির অভিযোগ ছিল। ডাকাতির সময় গুলি ছোড়ার ঘটনায় স্থানীয়রা তাকে ধরে পিটিয়ে হত্যা করে।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যত বড় অপরাধীই হোক, পিটিয়ে মারার সংস্কৃতি থেকে দেশকে বেরিয়ে আসতে হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। ডাকাত হলেও তার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রয়েছে। অন্যথায় একের পর এক মানুষকে পিটিয়ে হত্যা ও ঘরে আগুন দেওয়ার মতো সহিংসতা বাড়তেই থাকবে। সরকার দেশে আইনের শাসন ও রুল অব ল প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে দেশ একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন শেষে জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করাই বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার।






















