১১:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
ফিজি: প্রশান্ত মহাসাগরের হারানো রত্ন ‘বাংলাদেশের পাশে আছে পাকিস্তান, বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলবে না দল: পাকিস্তান স্পিকার না থাকায় এমপিদের শপথ পড়াবেন কে, জেনে নিন বিশ্বে ৭২ শতাংশ মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে আশুলিয়ায় ৬ মরদেহ পোড়ানো মামলার রায় আজ দ্বিতীয়বারের মতো বাবা হলেন জিয়াউল হক পলাশ ভোট কারচুপির ছক? জামায়াত নেতার নির্দেশে সিল তৈরি—মামলা ও বহিষ্কারে উত্তাল রাজনীতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ভূগর্ভস্থ নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি প্রকাশ করল ইরান সৌদি লিগের ভেতরের টানাপোড়েন, ম্যাচ বয়কট করলেন রোনালদো জামায়াত আমিরের এক্স ‘হ্যাকড’: গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের ভেতরে দ্বিমত

নির্মাণশিল্পে মন্দা, শুল্ক-কর হ্রাসের দাবি উদ্যোক্তাদের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:২৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫
  • / 99

ছবি: সংগৃহীত

 

দেশের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের গতি যেমন কমেছে, তেমনি স্থবির হয়ে পড়েছে বেসরকারি পর্যায়ের নির্মাণকাজও। এতে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে পুরো নির্মাণ খাত। হাউজিং, সিমেন্ট, স্টিল, সিরামিক, হার্ডওয়্যারসহ শতাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভবনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের আগে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ) ও বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) সিমেন্ট ও স্টিল খাতকে বাঁচাতে শুল্ক ও কর কমানোর প্রস্তাব দেয়।

সিমেন্টের মূল উপকরণ ক্লিংকারের কাস্টমস ডিউটি (সিডি) প্রতি মেট্রিক টনে ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে গত বাজেটে ৭০০ টাকা করা হয়েছিল। এতে আমদানি মূল্যের প্রায় ১৫ শতাংশ শুল্ক পড়ে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে নির্মাণ খরচ বেড়ে গিয়ে ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বিসিএমএ তাই ক্লিংকারের শুল্ক কমিয়ে ২০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছে।

এদিকে, স্টিল খাতের উদ্যোক্তারা জানান, দেশে লোহার খনি না থাকায় সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভর এই খাত ইতোমধ্যে চাপে পড়েছে। শিল্পকারখানার ৯৫ শতাংশ এবং অবকাঠামো খাতের ১০০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানি করেই টিকে আছে শিল্পটি। তাই এই খাতের বিকাশে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিএসএমএ।

ওষুধশিল্পেও চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। দেশেই ওষুধ উৎপাদন হওয়ায় বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে, তবুও জরুরি জীবন রক্ষাকারী ওষুধের ওপর সর্বোচ্চ ১২৭.৭২ শতাংশ শুল্ক আরোপিত রয়েছে। বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি এই হার কমানোর দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ২০০-৪০০ শতাংশ জরিমানার বিধান সংশোধন, বাধ্যতামূলক পণ্যের তালিকা থেকে কিছু ওষুধ বাদ দেওয়া এবং নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক কমানোর সুপারিশ করেছে।

সিগারেট কোম্পানিগুলোও ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন কমেছে, বরং চোরাচালান বেড়েছে। তারা নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম ৫ টাকা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

মোবাইল টেলিকম অপারেটররা দ্বৈত কর এড়ানো, করপোরেট কর যৌক্তিককরণ এবং টেলিকম যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যারের জন্য পৃথক এইচএস কোড নির্ধারণের দাবি তুলেছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ব্যবসায়ীদের এসব দাবি শোনেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, ব্যবসায়িক বাধা তৈরি করা বিধানগুলো সংশোধন করা হবে। উৎস করের চাপ কমিয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে রাজস্ব বোর্ড কাজ করছে বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

নির্মাণশিল্পে মন্দা, শুল্ক-কর হ্রাসের দাবি উদ্যোক্তাদের

আপডেট সময় ০২:২৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫

 

দেশের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের গতি যেমন কমেছে, তেমনি স্থবির হয়ে পড়েছে বেসরকারি পর্যায়ের নির্মাণকাজও। এতে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে পুরো নির্মাণ খাত। হাউজিং, সিমেন্ট, স্টিল, সিরামিক, হার্ডওয়্যারসহ শতাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভবনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের আগে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ) ও বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) সিমেন্ট ও স্টিল খাতকে বাঁচাতে শুল্ক ও কর কমানোর প্রস্তাব দেয়।

সিমেন্টের মূল উপকরণ ক্লিংকারের কাস্টমস ডিউটি (সিডি) প্রতি মেট্রিক টনে ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে গত বাজেটে ৭০০ টাকা করা হয়েছিল। এতে আমদানি মূল্যের প্রায় ১৫ শতাংশ শুল্ক পড়ে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে নির্মাণ খরচ বেড়ে গিয়ে ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বিসিএমএ তাই ক্লিংকারের শুল্ক কমিয়ে ২০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছে।

এদিকে, স্টিল খাতের উদ্যোক্তারা জানান, দেশে লোহার খনি না থাকায় সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভর এই খাত ইতোমধ্যে চাপে পড়েছে। শিল্পকারখানার ৯৫ শতাংশ এবং অবকাঠামো খাতের ১০০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানি করেই টিকে আছে শিল্পটি। তাই এই খাতের বিকাশে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিএসএমএ।

ওষুধশিল্পেও চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। দেশেই ওষুধ উৎপাদন হওয়ায় বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে, তবুও জরুরি জীবন রক্ষাকারী ওষুধের ওপর সর্বোচ্চ ১২৭.৭২ শতাংশ শুল্ক আরোপিত রয়েছে। বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি এই হার কমানোর দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ২০০-৪০০ শতাংশ জরিমানার বিধান সংশোধন, বাধ্যতামূলক পণ্যের তালিকা থেকে কিছু ওষুধ বাদ দেওয়া এবং নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক কমানোর সুপারিশ করেছে।

সিগারেট কোম্পানিগুলোও ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন কমেছে, বরং চোরাচালান বেড়েছে। তারা নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম ৫ টাকা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

মোবাইল টেলিকম অপারেটররা দ্বৈত কর এড়ানো, করপোরেট কর যৌক্তিককরণ এবং টেলিকম যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যারের জন্য পৃথক এইচএস কোড নির্ধারণের দাবি তুলেছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ব্যবসায়ীদের এসব দাবি শোনেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, ব্যবসায়িক বাধা তৈরি করা বিধানগুলো সংশোধন করা হবে। উৎস করের চাপ কমিয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে রাজস্ব বোর্ড কাজ করছে বলে জানান তিনি।