সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
- আপডেট সময় ০৮:৫১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
- / 11
দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইনে এবং বাকি তিন দিন সশরীরে (অফলাইনে) ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের প্রধান, শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় উপস্থিত এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, আপাতত সপ্তাহে ছয় দিনই শিক্ষা কার্যক্রম সচল থাকবে। তবে যানজট ও জ্বালানি খরচ কমাতে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন অফলাইন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জোড় ও বিজোড় দিন ভাগ করে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বয় করা হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষকরা সশরীরে স্কুলে উপস্থিত থেকে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করবেন। এর ফলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কমবে, অন্যদিকে জ্বালানি সংকটের মধ্যেও পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখে শিক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরনের রদবদল আনতে যাচ্ছে। মহানগরী এলাকার যানজট ও বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এই হাইব্রিড মডেলের (অনলাইন ও অফলাইন) পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই সিদ্ধান্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হচ্ছে। বিশেষ করে মহানগর এলাকার স্কুলগুলোতে এই নিয়ম কঠোরভাবে মানার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে আলাদা নির্দেশনা আসতে পারে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাময়িকভাবে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি সংকটের মাঝেও পড়াশোনা সচল রাখার এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তবে অনলাইন ক্লাসের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার দাবিও উঠেছে।





















