ইতিহাস বিকৃতি রুখতে কঠোর অবস্থানে বিএনপি: জাতীয় প্রেসক্লাবে তথ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৭:২৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
- / 16
দেশের জাতীয় ইতিহাসে কোনো ধরনের বিকৃতি বা বিভ্রান্তি সহ্য করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ইতিহাসকে বিকৃত করেছিল। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘স্বাধীনতার ঘোষক ও রণাঙ্গনের জিয়া’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, অতীতে যারা পরিকল্পিতভাবে ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন এবং আইন লঙ্ঘন করেছেন, তাদের অবশ্যই সাজার আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিটি বিতর্কিত ঘটনাকে আইনের মাধ্যমে খতিয়ে দেখব। তবে আইনের বাইরে গিয়ে ইতিহাস বিকৃত করার কোনো দায়ভার আমরা গ্রহণ করব না।” তার মতে, দেশ নির্দিষ্ট কোনো দলের নয়, বরং এটি সবার—এই চেতনাতেই বিএনপি বিশ্বাসী।
ইতিহাসের পাতা থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানান, সব দলকে সাথে নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী ও সুসংহত করতে কাজ করে যাচ্ছে বিএনপি। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, সরকার অত্যন্ত সফলভাবে এই সংকট সামাল দিচ্ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং তালিকায় থাকা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। যারা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা জোর দিয়ে বলেন যে, একটি জাতির উন্নতির জন্য সঠিক ইতিহাস জানা অপরিহার্য। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে যারা জাতীয় বীরদের অবদানকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছে, তাদের সময় শেষ হয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেন নেতৃবৃন্দ।





















