১৩৩ অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষ: সংসদে উঠছে না ‘গণভোট অধ্যাদেশ’, জামায়াতের তীব্র আপত্তি
- আপডেট সময় ১০:১৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
- / 23
সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার কাজ সম্পন্ন করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। আগামী ২ এপ্রিল এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে সংসদে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ বিল আকারে উত্থাপন না করার সরকারি সিদ্ধান্তের ফলে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা লিখিত আপত্তি প্রদান করেছে।
রোববার (২৯ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে আয়োজিত এক দীর্ঘ বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই আলোচনা চলে।
গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত
বৈঠক শেষে জানা গেছে, বিশেষ কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশ যাচাই-বাছাই করলেও গণভোট অধ্যাদেশটি বিল হিসেবে সংসদে না তোলার পক্ষেই মত দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই অধ্যাদেশের কার্যকারিতা ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, “গণভোট অধ্যাদেশের প্রয়োগ ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। যে বিশেষ প্রয়োজনে এটি করা হয়েছিল, তার প্রয়োজনীয়তা এখন আর নেই। ভবিষ্যতে এর অধীনে আর কোনো গণভোটের পরিকল্পনা নেই বিধায় এটিকে আইনে রূপান্তরের বা পুনরায় অনুমোদনের (রেটিফিকেশন) কোনো যৌক্তিকতা নেই।”
তবে সরকারের এই অবস্থানকে প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। দলটির সংসদ সদস্য ও বিশেষ কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “গণভোটের রায়ের সঙ্গে গোটা জাতির আবেগ ও সিদ্ধান্ত জড়িত।
সরকার এটি বাতিলের যে উদ্যোগ নিয়েছে, আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি। আমাদের প্রশ্ন—যদি গণভোট সংবিধানবহির্ভূত হয়, তবে একই দিনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধতা পায়?” তিনি দাবি করেন, জনগণ গণভোটে ইতিবাচক রায় দিয়েছে, তাই এটি কার্যকর রাখা অপরিহার্য।
অধ্যাদেশগুলো স্থায়ী আইনে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সরকারি দলের কিছু প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে বিরোধী পক্ষ। জামায়াত সদস্যদের অভিযোগ, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় দলীয়করণের পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।
রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করে বলেন, “সংস্কারের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় এবং বিচারপতি নিয়োগের যে বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছিল, সরকারি দল তা বাতিল করে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চাইছে।
আমরা মনে করি, এতে জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে। এই ধরনের প্রায় ১৫টি বিষয়ে আমরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি।”
সরকারি দলের অবস্থান ও পরবর্তী প্রক্রিয়া
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রতিটি অধ্যাদেশ নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হয়েছে। কিছু অধ্যাদেশ অবিকল এবং কিছু সংশোধনীসহ বিল আকারে আনা হবে। তিনি বলেন, “বিরোধীদের আপত্তিগুলো প্রতিবেদনে যথাযথভাবে উল্লেখ থাকবে। যখন এগুলো সংসদে বিল আকারে আসবে, তখন সব সদস্যই নিজ নিজ বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন।”
কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আরও উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান ও জি এম নজরুল ইসলাম। বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে যোগ দেন মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান।
আগামী ২ এপ্রিল সংসদ অধিবেশনে এই প্রতিবেদন পেশ করার পর জানা যাবে কোন অধ্যাদেশগুলো শেষ পর্যন্ত স্থায়ী আইনে পরিণত হচ্ছে আর কোনগুলো বাতিলের খাতায় যাচ্ছে।























