ঢাকা ০৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

চট্টগ্রামে যৌথবাহিনীর অভিযানে বাধা, কালভার্ট ভেঙে দিল দুর্বৃত্তরা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:১১:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • / 18

ছবি সংগৃহীত

 

চট্টগ্রামের জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তিন হাজারের বেশি সদস্য কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে অভিযান চালাচ্ছে। অভিযানের সময় সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে কাছাকাছি একটি খালের ওপর নির্মিত কালভার্ট ভেঙে ফেলেছে।

সোমবার (৯ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নাজমুল হাসান, অতিরিক্ত ডিআইজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যৌথভাবে একটি কর্মপরিকল্পনার আওতায় অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানে ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, জঙ্গল ছলিমপুর এলাকা বড় হওয়ায় বিভিন্ন অংশে অভিযান চালানো হচ্ছে। পুরো অভিযান শেষ হলে কী উদ্ধার হয়েছে, তা জানা যাবে।

অভিযান চলাকালে সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়েছে বায়েজিদ লিঙ্ক রোড, চট্টগ্রাম এলাকায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে ছিন্নমূল এলাকা পার হয়ে আলীনগরের শুরুতে একটি বড় ট্রাক আড়াআড়ি করে রেখে দেওয়া হয় বলেও জানান অতিরিক্ত ডিআইজি। এছাড়া খালের ওপর থাকা কালভার্ট ভেঙে ফেলা হয়, যাতে কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে না পারে। পরে খালে ইট, বালু ও সিমেন্ট ফেলে পথ তৈরি করে বাহিনীর গাড়ি প্রবেশ করানো হয়।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি ওই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযানে গিয়ে স্থানীয়দের হামলায় নিহত হন মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া, যিনি র‍্যাব-৭-এর নায়েক সুবেদার ছিলেন। পরে নিহত সদস্যের জানাজায় এসে র‍্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহীদুর রহমান জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন। প্রশাসনিকভাবে জঙ্গল ছলিমপুর পড়েছে সীতাকুণ্ড উপজেলা-র আওতায়। তবে সেখানে প্রবেশ করতে হয় বায়েজিদ থানা, চট্টগ্রাম এলাকার বাংলাবাজার হয়ে। প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাস জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বসতি টিলা কেটে তৈরি করা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্ভেদ্য এলাকায় পরিণত হয়েছে। ২০২২ সালে এ খাস জমি দখলমুক্ত করে সেখানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আইকনিক মসজিদ ও ইকো পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেয় সরকার। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযানে বারবার বাধার মুখে পড়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এলাকায় আবারও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়ে যায়। কয়েক দফা সংঘর্ষ ও খুনোখুনির ঘটনাও ঘটে। ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর ভোরে জঙ্গল ছলিমপুরের আলীনগর এলাকায় ইয়াছিন ও রোকন-গফুর বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। এতে রোকন বাহিনীর এক সদস্য নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। সেই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিকও।  এরপর চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি অভিযানে গিয়ে র‍্যাব সদস্য মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার মৃত্যু ঘটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে যৌথবাহিনীর অভিযানে বাধা, কালভার্ট ভেঙে দিল দুর্বৃত্তরা

আপডেট সময় ০৭:১১:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

 

চট্টগ্রামের জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তিন হাজারের বেশি সদস্য কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে অভিযান চালাচ্ছে। অভিযানের সময় সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে কাছাকাছি একটি খালের ওপর নির্মিত কালভার্ট ভেঙে ফেলেছে।

সোমবার (৯ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নাজমুল হাসান, অতিরিক্ত ডিআইজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যৌথভাবে একটি কর্মপরিকল্পনার আওতায় অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানে ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, জঙ্গল ছলিমপুর এলাকা বড় হওয়ায় বিভিন্ন অংশে অভিযান চালানো হচ্ছে। পুরো অভিযান শেষ হলে কী উদ্ধার হয়েছে, তা জানা যাবে।

অভিযান চলাকালে সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়েছে বায়েজিদ লিঙ্ক রোড, চট্টগ্রাম এলাকায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে ছিন্নমূল এলাকা পার হয়ে আলীনগরের শুরুতে একটি বড় ট্রাক আড়াআড়ি করে রেখে দেওয়া হয় বলেও জানান অতিরিক্ত ডিআইজি। এছাড়া খালের ওপর থাকা কালভার্ট ভেঙে ফেলা হয়, যাতে কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে না পারে। পরে খালে ইট, বালু ও সিমেন্ট ফেলে পথ তৈরি করে বাহিনীর গাড়ি প্রবেশ করানো হয়।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি ওই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযানে গিয়ে স্থানীয়দের হামলায় নিহত হন মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া, যিনি র‍্যাব-৭-এর নায়েক সুবেদার ছিলেন। পরে নিহত সদস্যের জানাজায় এসে র‍্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহীদুর রহমান জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন। প্রশাসনিকভাবে জঙ্গল ছলিমপুর পড়েছে সীতাকুণ্ড উপজেলা-র আওতায়। তবে সেখানে প্রবেশ করতে হয় বায়েজিদ থানা, চট্টগ্রাম এলাকার বাংলাবাজার হয়ে। প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাস জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বসতি টিলা কেটে তৈরি করা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্ভেদ্য এলাকায় পরিণত হয়েছে। ২০২২ সালে এ খাস জমি দখলমুক্ত করে সেখানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আইকনিক মসজিদ ও ইকো পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেয় সরকার। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযানে বারবার বাধার মুখে পড়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এলাকায় আবারও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়ে যায়। কয়েক দফা সংঘর্ষ ও খুনোখুনির ঘটনাও ঘটে। ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর ভোরে জঙ্গল ছলিমপুরের আলীনগর এলাকায় ইয়াছিন ও রোকন-গফুর বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। এতে রোকন বাহিনীর এক সদস্য নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। সেই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিকও।  এরপর চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি অভিযানে গিয়ে র‍্যাব সদস্য মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার মৃত্যু ঘটে।