বাংলাদেশিদের জন্য বি-১ ভিসা বন্ড নীতি পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের
- আপডেট সময় ০৮:৫০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
- / 130
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ (ব্যবসায়িক) ভিসায় আরোপিত ‘ভিসা বন্ড’ নীতি পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত একাধিক বৈঠকে এই বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, ভিসা নীতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ কর্তৃক যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্যের বড় পরিসরে আমদানি বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান ভিসা বন্ড শর্ত শিথিল করা জরুরি।
বিশেষ করে বি-১ ভিসার ক্ষেত্রে এই বন্ড বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানালে মার্কিন পক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দেয়।
মার্কিন রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন। তিনি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার প্রশংসা করেন।
জবাবে অ্যালিসন হুকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করে। তিনি জানান, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে যাবে।
ভিসা বন্ড প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যদি বাংলাদেশি নাগরিকদের ওভারস্টে হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামগ্রিকভাবে এই নীতির পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে। একই সঙ্গে অনিবন্ধিত বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। ড. খলিলুর রহমান রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করে তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। অ্যালিসন হুকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসার দাবিদার। তিনি মনে করেন, এই সংকটের দায় কেবল বাংলাদেশের নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ ছাড়া বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের উন্নয়নে মার্কিন ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন (ডিএফসি) থেকে অর্থায়ন এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে মার্কিন বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন ড. খলিলুর রহমান। মার্কিন পক্ষ এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয়।
গাজায় সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের নীতিগত আগ্রহের কথাও আলোচনায় উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে এ বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।
সফরের অংশ হিসেবে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন। শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ দেখতে চায় এবং নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতসহ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
























