ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিসে বাংলাদেশের স্বর্ণজয় সংসদ থেকে বিরোধী দলের আবারও ওয়াকআউট: ‘গণবিরোধী’ বিল পাসের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বড় নিয়োগ, আবেদন শেষ ১০ এপ্রিল পুলিশে ২৭০৩ কনস্টেবল নিয়োগ: জেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ৩ হাজারের বেশি পাম্পে তেল নেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব, ছুরিকাঘাতে আহত ৩ সেনা কর্মকর্তা ও ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারণা: দেশবাসীকে সেনাবাহিনীর সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন রুট ঘোষণা; অমান্য করলেই ধ্বংসের হুঁশিয়ারি চোখের নিচের কালো দাগ: নিছক দাগ নাকি বড় কোনো রোগের সংকেত

উত্তরাধিকার সূত্রে সন্তানের শরীর ও মনে মায়ের জিনের প্রভাব কতটুকু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:২১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 28

ছবি: সংগৃহীত

একটি শিশুর বেড়ে ওঠা এবং তার শারীরিক ও মানসিক গঠনের পেছনে জীনতাত্ত্বিক উত্তরাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তান তার জিনের অর্ধেক মায়ের কাছ থেকে পেলেও নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য ও গুণের ক্ষেত্রে মায়ের প্রভাব থাকে অনস্বীকার্য। শরীরের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া (বিপাকক্রিয়া) থেকে শুরু করে বুদ্ধিমত্তা, বার্ধক্যের গতি এবং ঘুমের অভ্যাসের মতো জটিল বিষয়গুলো অনেকাংশেই মাতৃপক্ষের জিনের ওপর নির্ভর করে।

বিজ্ঞানীদের মতে, বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ-এর ক্ষেত্রে সন্তানের ওপর মায়ের প্রভাব বেশি থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সন্তানের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা তার মায়ের কাছাকাছি হয়ে থাকে। এ ছাড়া শরীরের কোষের শক্তিকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ‘মাইটোকন্ড্রিয়া’ কেবল মায়ের মাধ্যমেই সন্তানের শরীরে পৌঁছায়। এই মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ মানুষের মেটাবলিজম বা বিপাক হার নিয়ন্ত্রণ করে এবং একজন মানুষ কত দ্রুত বার্ধক্যের দিকে ধাবিত হবে, তাও নির্ধারণ করে থাকে।

শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রেও মায়ের অবদান উল্লেখযোগ্য। চুলের গঠন ও রং, ত্বকের বর্ণ এমনকি চোখের রঙের মতো বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যগুলো সন্তান সাধারণত মায়ের কাছ থেকেই পায়। এছাড়া ভ্যারিকোজ ভেইন (শিরা ফুলে যাওয়া) বা বিশেষ ধরনের হেয়ারলাইনের প্রবণতাও মায়ের দিক থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে আসতে পারে। শারীরিক ওজনের নিয়ন্ত্রণ এবং শরীর কীভাবে শক্তি খরচ করবে, সেই ধরণটিও মায়ের জিনের মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে।

আরও পড়ুন  ফেসবুক মানসিক ক্ষতি করে—প্রমাণ মেলার পর গবেষণা গোপন করেছিল Meta

মানসিক স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার অভ্যাসের ওপরও মায়ের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যা এবং কিছু বিশেষ মেজাজ বা মুড-সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্য (যেমন বিষণ্নতার প্রবণতা) মায়ের কাছ থেকে আসতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, মায়েদের ঘুমের ধরন বা মেজাজের সঙ্গে সন্তানের আচরণের অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

কিছু নির্দিষ্ট রোগব্যাধির ঝুঁকিও মাতৃপক্ষের জিন বহন করে। যেমন—মায়োপিয়া (ক্ষীণদৃষ্টি), গ্লুকোমা, ছানি বা ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদী রোগের সম্ভাবনা মায়ের দিক থেকে সন্তানের শরীরে স্থানান্তরিত হতে পারে। বিশেষ করে ছেলে সন্তানের ক্ষেত্রে বর্ণান্ধতার মতো বৈশিষ্ট্য সরাসরি মায়ের ‘X’ ক্রোমোজোমের মাধ্যমে আসার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

নারী সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রজনন স্বাস্থ্য ও ঋতুচক্রের শুরু বা শেষের সময়সীমা অনেক সময় মায়ের ইতিহাসের সঙ্গেই মিলে যায়। একজন মায়ের মেনোপজ বা প্রথম মাসিকের সময়কাল তার কন্যার ক্ষেত্রেও প্রায় একই হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটি প্রজনন ক্ষমতার ক্ষেত্রে জীনতাত্ত্বিক ধারাবাহিকতার একটি বড় উদাহরণ।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জিনগত এই প্রভাব চূড়ান্ত কোনো বিষয় নয়। জিনের পাশাপাশি সন্তানের বেড়ে ওঠার পরিবেশ, পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস এবং সামগ্রিক জীবনযাপন পদ্ধতি তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, ভালো গুণাবলী বজায় রাখা এবং রোগের ঝুঁকি এড়াতে সুস্থ জীবনধারা চর্চার কোনো বিকল্প নেই।

সূত্র: ফ্যামিলি এডুকেশন

নিউজটি শেয়ার করুন

উত্তরাধিকার সূত্রে সন্তানের শরীর ও মনে মায়ের জিনের প্রভাব কতটুকু

আপডেট সময় ০২:২১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

একটি শিশুর বেড়ে ওঠা এবং তার শারীরিক ও মানসিক গঠনের পেছনে জীনতাত্ত্বিক উত্তরাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তান তার জিনের অর্ধেক মায়ের কাছ থেকে পেলেও নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য ও গুণের ক্ষেত্রে মায়ের প্রভাব থাকে অনস্বীকার্য। শরীরের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া (বিপাকক্রিয়া) থেকে শুরু করে বুদ্ধিমত্তা, বার্ধক্যের গতি এবং ঘুমের অভ্যাসের মতো জটিল বিষয়গুলো অনেকাংশেই মাতৃপক্ষের জিনের ওপর নির্ভর করে।

বিজ্ঞানীদের মতে, বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ-এর ক্ষেত্রে সন্তানের ওপর মায়ের প্রভাব বেশি থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সন্তানের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা তার মায়ের কাছাকাছি হয়ে থাকে। এ ছাড়া শরীরের কোষের শক্তিকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ‘মাইটোকন্ড্রিয়া’ কেবল মায়ের মাধ্যমেই সন্তানের শরীরে পৌঁছায়। এই মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ মানুষের মেটাবলিজম বা বিপাক হার নিয়ন্ত্রণ করে এবং একজন মানুষ কত দ্রুত বার্ধক্যের দিকে ধাবিত হবে, তাও নির্ধারণ করে থাকে।

শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রেও মায়ের অবদান উল্লেখযোগ্য। চুলের গঠন ও রং, ত্বকের বর্ণ এমনকি চোখের রঙের মতো বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যগুলো সন্তান সাধারণত মায়ের কাছ থেকেই পায়। এছাড়া ভ্যারিকোজ ভেইন (শিরা ফুলে যাওয়া) বা বিশেষ ধরনের হেয়ারলাইনের প্রবণতাও মায়ের দিক থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে আসতে পারে। শারীরিক ওজনের নিয়ন্ত্রণ এবং শরীর কীভাবে শক্তি খরচ করবে, সেই ধরণটিও মায়ের জিনের মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে।

আরও পড়ুন  ফেসবুক মানসিক ক্ষতি করে—প্রমাণ মেলার পর গবেষণা গোপন করেছিল Meta

মানসিক স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার অভ্যাসের ওপরও মায়ের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যা এবং কিছু বিশেষ মেজাজ বা মুড-সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্য (যেমন বিষণ্নতার প্রবণতা) মায়ের কাছ থেকে আসতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, মায়েদের ঘুমের ধরন বা মেজাজের সঙ্গে সন্তানের আচরণের অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

কিছু নির্দিষ্ট রোগব্যাধির ঝুঁকিও মাতৃপক্ষের জিন বহন করে। যেমন—মায়োপিয়া (ক্ষীণদৃষ্টি), গ্লুকোমা, ছানি বা ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদী রোগের সম্ভাবনা মায়ের দিক থেকে সন্তানের শরীরে স্থানান্তরিত হতে পারে। বিশেষ করে ছেলে সন্তানের ক্ষেত্রে বর্ণান্ধতার মতো বৈশিষ্ট্য সরাসরি মায়ের ‘X’ ক্রোমোজোমের মাধ্যমে আসার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

নারী সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রজনন স্বাস্থ্য ও ঋতুচক্রের শুরু বা শেষের সময়সীমা অনেক সময় মায়ের ইতিহাসের সঙ্গেই মিলে যায়। একজন মায়ের মেনোপজ বা প্রথম মাসিকের সময়কাল তার কন্যার ক্ষেত্রেও প্রায় একই হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটি প্রজনন ক্ষমতার ক্ষেত্রে জীনতাত্ত্বিক ধারাবাহিকতার একটি বড় উদাহরণ।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জিনগত এই প্রভাব চূড়ান্ত কোনো বিষয় নয়। জিনের পাশাপাশি সন্তানের বেড়ে ওঠার পরিবেশ, পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস এবং সামগ্রিক জীবনযাপন পদ্ধতি তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, ভালো গুণাবলী বজায় রাখা এবং রোগের ঝুঁকি এড়াতে সুস্থ জীবনধারা চর্চার কোনো বিকল্প নেই।

সূত্র: ফ্যামিলি এডুকেশন