ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বাংলাদেশে সেবা প্রদানের অনুমোদন পেল স্টারলিংক – চালু হচ্ছে আকাশপথে ইন্টারনেট সেবার নতুন দিগন্ত  বিদেশি সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কিছু যেন না প্রচারিত হয় : তথ্য উপদেষ্টা দক্ষিণ কোরিয়ায় আগুন নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত পাইলট মারাত্মক ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণহানি ১৬, ব্যাপক ধ্বংস ও বন্যার আশঙ্কা ঈদের আগেই রেমিট্যান্সের রেকর্ড, প্রবাসীরা পাঠালেন ৩২৯ কোটি ডলার – রেমিটেন্সে নতুন মাইলফলক এপ্রিলেও এলপি গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত, সামান্য কমলো অটোগ্যাসের মূল্য গাজার জন্য হরতাল কর্মসূচিতে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের আহ্বান সারজিস আলমের   গারো অঞ্চলের বনে আগুনের পরিকল্পিত ছোবল, সংকটে পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আগ্রাসন নিয়ে আরবদের প্রতি ইরানের হুঁশিয়ারি বার্তা  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বাস খাদে পড়ে আহত অন্তত ২৫ 

বাণিজ্য যুদ্ধের ছায়ায় মার্কিন শেয়ারবাজারে রেকর্ড পতন, উধাও ৫ ট্রিলিয়ন ডলার

খবরের কথা ডেস্ক

ছবি সংগৃহীত

 

 

করোনার মহামারির পর সবচেয়ে বড় ধাক্কায় কাঁপছে মার্কিন শেয়ারবাজার। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ওয়াল স্ট্রিট থেকে উধাও হয়ে গেছে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সৃষ্টি করেছে ভয়াবহ আতঙ্ক।

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে শত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই চীন পাল্টা জবাব দিয়ে জানায়, তারা ১০ এপ্রিল থেকে আমেরিকার সব পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৩৪ শতাংশ শুল্ক বসাবে। এ ঘোষণার পরপরই বিশ্বের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক শক্তি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধের রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ট্রাম্পের এই শুল্কনীতি শুধু চীন নয়, আরও প্রায় ৭০টি দেশের ওপর প্রযোজ্য। তবে চীনের পাল্টা ঘোষণাই শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে। শুক্রবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ভয়াবহ পতন ঘটে ওয়াল স্ট্রিটে।

বিশ্বখ্যাত সূচক ডাউ জোন্স, এসঅ্যান্ডপি-৫০০ ও নাসডাক কম্পোজিট সবকটিই ২০২০ সালের পর তাদের সবচেয়ে বড় দরপতনের সাক্ষী হয়। এসঅ্যান্ডপি-৫০০ এক দিনে পড়ে যায় ৬ শতাংশ, আর দুই দিনে মোট পতন দাঁড়ায় ১০ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে, ডাউ সূচক কমে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নাসডাক হারায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ।

শেয়ারবাজারের এই পতনের মধ্য দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে ঠেকেছে। ‘ভীতি সূচক’ হিসেবে পরিচিত সিবিওই ভোলাটিলিটি ইনডেক্স এপ্রিল ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।

বিশ্বজুড়ে এই বাণিজ্য উত্তেজনার জেরে মন্দার আশঙ্কা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগ্যানের সর্বশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বছরের শেষ নাগাদ বিশ্ব অর্থনীতি মন্দায় ঢোকার সম্ভাবনা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ শতাংশে যেখানে আগের পূর্বাভাস ছিল ৪০ শতাংশ।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এটি এক অশনি সংকেত। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অভিঘাত যে কতটা ব্যাপক হতে পারে, মার্কিন শেয়ারবাজার তার জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০২:৩৬:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
৫০৬ বার পড়া হয়েছে

বাণিজ্য যুদ্ধের ছায়ায় মার্কিন শেয়ারবাজারে রেকর্ড পতন, উধাও ৫ ট্রিলিয়ন ডলার

আপডেট সময় ০২:৩৬:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

 

 

করোনার মহামারির পর সবচেয়ে বড় ধাক্কায় কাঁপছে মার্কিন শেয়ারবাজার। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ওয়াল স্ট্রিট থেকে উধাও হয়ে গেছে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সৃষ্টি করেছে ভয়াবহ আতঙ্ক।

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে শত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই চীন পাল্টা জবাব দিয়ে জানায়, তারা ১০ এপ্রিল থেকে আমেরিকার সব পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৩৪ শতাংশ শুল্ক বসাবে। এ ঘোষণার পরপরই বিশ্বের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক শক্তি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধের রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ট্রাম্পের এই শুল্কনীতি শুধু চীন নয়, আরও প্রায় ৭০টি দেশের ওপর প্রযোজ্য। তবে চীনের পাল্টা ঘোষণাই শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে। শুক্রবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ভয়াবহ পতন ঘটে ওয়াল স্ট্রিটে।

বিশ্বখ্যাত সূচক ডাউ জোন্স, এসঅ্যান্ডপি-৫০০ ও নাসডাক কম্পোজিট সবকটিই ২০২০ সালের পর তাদের সবচেয়ে বড় দরপতনের সাক্ষী হয়। এসঅ্যান্ডপি-৫০০ এক দিনে পড়ে যায় ৬ শতাংশ, আর দুই দিনে মোট পতন দাঁড়ায় ১০ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে, ডাউ সূচক কমে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নাসডাক হারায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ।

শেয়ারবাজারের এই পতনের মধ্য দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে ঠেকেছে। ‘ভীতি সূচক’ হিসেবে পরিচিত সিবিওই ভোলাটিলিটি ইনডেক্স এপ্রিল ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।

বিশ্বজুড়ে এই বাণিজ্য উত্তেজনার জেরে মন্দার আশঙ্কা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগ্যানের সর্বশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বছরের শেষ নাগাদ বিশ্ব অর্থনীতি মন্দায় ঢোকার সম্ভাবনা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ শতাংশে যেখানে আগের পূর্বাভাস ছিল ৪০ শতাংশ।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এটি এক অশনি সংকেত। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অভিঘাত যে কতটা ব্যাপক হতে পারে, মার্কিন শেয়ারবাজার তার জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।