ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাশিয়ার কুরস্কে ইউক্রেনের দখল কমছে, বাড়ছে সংঘর্ষ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫
  • / 145

ছবি সংগৃহীত

 

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় কুরস্ক অঞ্চলে আরও দুটি গ্রাম পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, সুদঝা শহরের পশ্চিম ও উত্তরে অবস্থিত রুবানশ্চিনা ও জোওলেশেঙ্কা গ্রাম এখন রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

গত আগস্টে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে ইউক্রেন এই অঞ্চলের ১০০টিরও বেশি বসতি দখলে নিয়েছিল। তবে সম্প্রতি মস্কো কুরস্ক পুনরুদ্ধারে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে এবং বিশ্লেষকদের মতে, পুরো অঞ্চলটি পুনর্দখলের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে রাশিয়া। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৩০টির বেশি বসতি পুনরুদ্ধার করেছে রুশ বাহিনী। এখন ইউক্রেন সীমান্তের কাছে মাত্র ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা রাশিয়ার দখলে নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বৈঠকের আগে রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী অধ্যায় শেষ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি, কুরস্কে প্রবেশ করা ইউক্রেনীয় সেনারা রুশ বাহিনীর ঘেরাটোপে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে সামরিক বিশ্লেষক মাইকেল কোফম্যান ট্রাম্পের এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তাঁর মতে, ইউক্রেনীয় সেনারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েননি; বরং তাঁরা নিজ উদ্যোগে কুরস্ক থেকে পিছু হটছেন। যদিও এই প্রক্রিয়ায় কিছু সেনা ঝুঁকির মুখে পড়ছেন, তবে ব্যাপকভাবে রুশ সেনাদের দ্বারা ঘেরাও হওয়ার কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য মেলেনি। ইউক্রেনের এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, ‘সাত মাস পর আমরা পরিকল্পিতভাবে সরে যাচ্ছি। অবরুদ্ধ হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

এদিকে, শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার এক দিন পরই দুই পক্ষের মধ্যে ড্রোন হামলার নতুন পর্ব শুরু হয়েছে। রাশিয়া দাবি করেছে, তারা ১২৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে, অন্যদিকে ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়া তাদের ওপর ১৭৮টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে ১৩০টি ধ্বংস করা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই সংঘর্ষ বাড়তে থাকায় এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামরিক ও কূটনৈতিক লড়াইয়ের এই দোলাচল দীর্ঘায়িত হতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাশিয়ার কুরস্কে ইউক্রেনের দখল কমছে, বাড়ছে সংঘর্ষ

আপডেট সময় ১১:৩৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫

 

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় কুরস্ক অঞ্চলে আরও দুটি গ্রাম পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, সুদঝা শহরের পশ্চিম ও উত্তরে অবস্থিত রুবানশ্চিনা ও জোওলেশেঙ্কা গ্রাম এখন রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

গত আগস্টে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে ইউক্রেন এই অঞ্চলের ১০০টিরও বেশি বসতি দখলে নিয়েছিল। তবে সম্প্রতি মস্কো কুরস্ক পুনরুদ্ধারে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে এবং বিশ্লেষকদের মতে, পুরো অঞ্চলটি পুনর্দখলের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে রাশিয়া। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৩০টির বেশি বসতি পুনরুদ্ধার করেছে রুশ বাহিনী। এখন ইউক্রেন সীমান্তের কাছে মাত্র ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা রাশিয়ার দখলে নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

আরও পড়ুন  মিয়ানমার জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের রাশিয়া সফর: পুতিনের প্রশংসায় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত

এদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী অধ্যায় শেষ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি, কুরস্কে প্রবেশ করা ইউক্রেনীয় সেনারা রুশ বাহিনীর ঘেরাটোপে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে সামরিক বিশ্লেষক মাইকেল কোফম্যান ট্রাম্পের এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তাঁর মতে, ইউক্রেনীয় সেনারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েননি; বরং তাঁরা নিজ উদ্যোগে কুরস্ক থেকে পিছু হটছেন। যদিও এই প্রক্রিয়ায় কিছু সেনা ঝুঁকির মুখে পড়ছেন, তবে ব্যাপকভাবে রুশ সেনাদের দ্বারা ঘেরাও হওয়ার কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য মেলেনি। ইউক্রেনের এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, ‘সাত মাস পর আমরা পরিকল্পিতভাবে সরে যাচ্ছি। অবরুদ্ধ হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

এদিকে, শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার এক দিন পরই দুই পক্ষের মধ্যে ড্রোন হামলার নতুন পর্ব শুরু হয়েছে। রাশিয়া দাবি করেছে, তারা ১২৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে, অন্যদিকে ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়া তাদের ওপর ১৭৮টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে ১৩০টি ধ্বংস করা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই সংঘর্ষ বাড়তে থাকায় এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামরিক ও কূটনৈতিক লড়াইয়ের এই দোলাচল দীর্ঘায়িত হতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।