ঢাকা ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরানে নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়, মোজতবা খামেনি সুপ্রিম লিডার নির্বাচিত ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির

নেপালের কাঠমান্ডুতে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে বিশাল মিছিল, রাজনীতির প্রতি হতাশ জনতা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫
  • / 143

ছবি: সংগৃহীত

 

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং হিন্দুধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ফিরিয়ে আনার দাবিতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছে। রবিবার, রাজধানীর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন প্রধান ফটক বন্ধ করে প্রায় ১০ হাজার লোক সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহকে সংবর্ধনা জানিয়ে এই দাবি উত্থাপন করেন।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা নানা স্লোগান দিতে থাকে—‘রাজার জন্য রাজপ্রাসাদ খালি করুন’, ‘রাজা ফিরে আসুন, দেশকে রক্ষা করুন’, ‘আমাদের প্রিয় রাজা দীর্ঘজীবী হোন’, ‘আমরা রাজতন্ত্র চাই’। সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ দেশের পশ্চিমাঞ্চল সফর শেষে বিমানবন্দরে ফিরলে, তাঁকে সংবর্ধনা জানাতে এই মিছিল শুরু হয়। বিমানবন্দর গেট বন্ধ থাকায় যাত্রীরা পা দিয়ে বিমানবন্দরে আসা-যাওয়া করতে বাধ্য হন।

আরও পড়ুন  কারফিউ প্রত্যাহার, স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে নেপাল

স্থানীয় দাঙ্গা পুলিশ মিছিলকারীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে বাধা দিলেও, কোন ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটেনি। তবে এই বিক্ষোভ ছিল দৃশ্যমান, প্রভাবশালী এবং দাবি ছিল স্পষ্ট—রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হোক।

২০০৬ সালে নেপালে ব্যাপক গণবিক্ষোভের পর রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং জ্ঞানেন্দ্র শাহকে তাঁর কর্তৃত্ব থেকে সরে যেতে হয়। এরপর, ২০০৮ সালে সংসদ রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করার পক্ষে ভোট দেয়। তার পর থেকে জ্ঞানেন্দ্র সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন শুরু করেন।

তবে সম্প্রতি অনেক নেপালি নাগরিক প্রজাতন্ত্রের প্রতি হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রজাতন্ত্র দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হয়েছে এবং রাষ্ট্রের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। তারা বিশ্বাস করেন যে, নেপালের দুর্বল অর্থনীতি এবং ব্যাপক দুর্নীতির জন্য প্রজাতন্ত্র দায়ী। ২০০৮ সালে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ার পর, নেপালে ১৩টি সরকার পরিবর্তিত হয়েছে, যা দেশের শাসনব্যবস্থাকে আরও অস্থির করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে, রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবির সঙ্গে আরও অনেকেই একাত্মতা ঘোষণা করেছে। তাদের মতে, দেশের শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য একমাত্র উপায় রাজতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপালের কাঠমান্ডুতে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে বিশাল মিছিল, রাজনীতির প্রতি হতাশ জনতা

আপডেট সময় ০৫:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫

 

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং হিন্দুধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ফিরিয়ে আনার দাবিতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছে। রবিবার, রাজধানীর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন প্রধান ফটক বন্ধ করে প্রায় ১০ হাজার লোক সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহকে সংবর্ধনা জানিয়ে এই দাবি উত্থাপন করেন।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা নানা স্লোগান দিতে থাকে—‘রাজার জন্য রাজপ্রাসাদ খালি করুন’, ‘রাজা ফিরে আসুন, দেশকে রক্ষা করুন’, ‘আমাদের প্রিয় রাজা দীর্ঘজীবী হোন’, ‘আমরা রাজতন্ত্র চাই’। সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ দেশের পশ্চিমাঞ্চল সফর শেষে বিমানবন্দরে ফিরলে, তাঁকে সংবর্ধনা জানাতে এই মিছিল শুরু হয়। বিমানবন্দর গেট বন্ধ থাকায় যাত্রীরা পা দিয়ে বিমানবন্দরে আসা-যাওয়া করতে বাধ্য হন।

আরও পড়ুন  আগামী জুন থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করবে নেপাল

স্থানীয় দাঙ্গা পুলিশ মিছিলকারীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে বাধা দিলেও, কোন ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটেনি। তবে এই বিক্ষোভ ছিল দৃশ্যমান, প্রভাবশালী এবং দাবি ছিল স্পষ্ট—রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হোক।

২০০৬ সালে নেপালে ব্যাপক গণবিক্ষোভের পর রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং জ্ঞানেন্দ্র শাহকে তাঁর কর্তৃত্ব থেকে সরে যেতে হয়। এরপর, ২০০৮ সালে সংসদ রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করার পক্ষে ভোট দেয়। তার পর থেকে জ্ঞানেন্দ্র সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন শুরু করেন।

তবে সম্প্রতি অনেক নেপালি নাগরিক প্রজাতন্ত্রের প্রতি হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রজাতন্ত্র দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হয়েছে এবং রাষ্ট্রের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। তারা বিশ্বাস করেন যে, নেপালের দুর্বল অর্থনীতি এবং ব্যাপক দুর্নীতির জন্য প্রজাতন্ত্র দায়ী। ২০০৮ সালে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ার পর, নেপালে ১৩টি সরকার পরিবর্তিত হয়েছে, যা দেশের শাসনব্যবস্থাকে আরও অস্থির করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে, রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবির সঙ্গে আরও অনেকেই একাত্মতা ঘোষণা করেছে। তাদের মতে, দেশের শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য একমাত্র উপায় রাজতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা।