হিন্দি ভাষার বাধ্যতামূলক প্রয়োগের বিরুদ্ধে তামিলনাড়ুর প্রতিবাদ, কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে উত্তাল রাজ্য
দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুতে নতুন করে ভাষা আন্দোলনের ঢেউ উঠেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকে ধীরে ধীরে তীব্র হয়ে ওঠা এই আন্দোলনে হিন্দি ভাষার বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলছে রাজ্যের জনগণ। চেন্নাইয়ের উপকণ্ঠে আয়াপক্কম অঞ্চলে বাড়ির দেয়ালে হিন্দিবিরোধী স্লোগান লেখা হচ্ছে, ট্রেন স্টেশন থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে হিন্দি লেখা।
এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের এক বক্তব্যকে ঘিরে, যেখানে তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি (ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি – নেপ) বাস্তবায়ন না করলে তামিলনাড়ু কেন্দ্রের শিক্ষাখাতের অর্থ বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হবে। নেপ অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি ভাষা ইংরেজি, তামিল ও হিন্দি শেখানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু তামিলনাড়ু বহু বছর ধরে দ্বিভাষা নীতি (তামিল ও ইংরেজি) অনুসরণ করে আসছে এবং হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করছে।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন ও উপমুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিজেপি সরকারের এই নীতি রাজ্য মানবে না। স্টালিন ২২ ফেব্রুয়ারির এক জনসভায় বলেন, “যদি আমাদের ১০ হাজার কোটি রুপি দেওয়া হয়, তবুও আমি মুখ্যমন্ত্রী থাকা পর্যন্ত নয়া শিক্ষানীতি কার্যকর হবে না।” তিনি আরও বলেন, এই নীতি চালু হলে তামিলনাড়ু দুই হাজার বছর পিছিয়ে যাবে।
কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছে, তামিলনাড়ুর অবস্থান সংবিধানের বিরোধী। তবে তামিলরা মনে করে, এটি তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর আঘাত। রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিজেপি বাদে সবাই নেপের বিরোধিতা করছে। এমনকি বিজেপির সহযোগী দলগুলিও হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করছে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা কী হবে? রাজ্যের বিভিন্ন সংগঠন ইতিমধ্যেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, নয়া শিক্ষানীতি বাংলার প্রচার কমিয়ে হিন্দির আধিপত্য বিস্তার করবে।
ভাষার রাজনীতির এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক কোন পথে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে তামিলনাড়ু যে তাদের মাতৃভাষার জন্য আপসহীন অবস্থানে রয়েছে, তা স্পষ্ট।