ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার স্থগিত, আন্দোলনকারীদের ট্রাম্পের ‘সাহায্য’ বার্তা
- আপডেট সময় ১০:০০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
- / 66
ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে চলমান দমন–পীড়নের মুখে থাকা ইরানি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে তিনি ‘সাহায্য আসছে’ বলে আশ্বাস দিয়েছেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানিয়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একাধিক পোস্টে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। তবে কী ধরনের সহায়তার কথা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরানি দেশপ্রেমিকরা, প্রতিবাদ চালিয়ে যান। আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে নিন। হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম সংগ্রহ করে রাখুন। তাদের এর মূল্য দিতে হবে।”
আরেকটি পোস্টে তিনি বলেন, “বিক্ষোভকারীদের এই বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি। সাহায্য আসছে।”
গত কয়েক দিন ধরেই ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন। তিনি আগেও বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন–পীড়ন চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে।
এর আগে সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। পরদিন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক সতর্কবার্তায় ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ত্যাগ করার পরামর্শ দেয়।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে যখন ‘সাহায্য আসছে’ কথাটির অর্থ জানতে চাওয়া হয়, তখন ট্রাম্প নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি শুধু বলেন, “আপনাদেরই এটা বুঝে নিতে হবে।”
পরে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র “খুব কঠোর পদক্ষেপ” নেবে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা তিনি পাননি বলেও জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ ইরানের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রজেক্টের পরিচালক আলী ভায়েজ আল–জাজিরাকে বলেন, ইরানের জনগণ একদিকে দমনমূলক শাসনব্যবস্থা, অন্যদিকে বিদেশি হস্তক্ষেপের আশঙ্কার মধ্যে আটকা পড়েছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হলে দেশটি লিবিয়া বা সিরিয়ার মতো দীর্ঘস্থায়ী সহিংসতার দিকে যেতে পারে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, চলমান বিক্ষোভে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শতাধিক নিরাপত্তা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে। দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা আবদুর রহিম মোসাভি প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ভেতরে সশস্ত্র গোষ্ঠী মোতায়েন।
























