যুদ্ধসহ যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তায় আব্বাস আরাগচি
- আপডেট সময় ১১:২৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / 44
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সামরিক সক্ষমতা যাচাই করতে চায়, তবে তেহরান যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির প্রেক্ষাপটে এ কড়া অবস্থানের কথা জানান তিনি।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ এখনো উন্মুক্ত আছে। তবে একই সঙ্গে ইরান সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তাঁর ভাষায়, প্রয়োজনে ইরান আত্মরক্ষায় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করবে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত বছরের ১২ দিনের সংঘাতের সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশটির সামরিক প্রস্তুতি অনেক বেশি বিস্তৃত ও শক্তিশালী। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যদি আবারও ইরানের সামরিক শক্তি পরীক্ষা করার চেষ্টা করে, তাহলে তার জবাব দেওয়ার সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত সংঘাতের পথ ছেড়ে আলোচনার টেবিলকেই বেছে নেবে।
আরাগচি আরও বলেন, ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় যারা যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে উৎসাহিত করছে, তাদের উচিত এর পরিণতি নিয়ে ভাবা। এ ধরনের পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, চলমান বিক্ষোভে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ঢুকে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই অস্থিরতার জন্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আসছে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সহিংসতায় এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর শতাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের দাবি, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি এবং এর মধ্যে শত শত সাধারণ মানুষ রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেখান থেকেই আন্দোলনের সূচনা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই এই বিক্ষোভ ইরানের ৩১টি প্রদেশের শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনের তীব্রতা বাড়তে থাকে এবং বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের কারণে দেশের বড় অংশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।




















