০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, উইকিপিডিয়া স্ক্রিনশট ভাইরাল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:২০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 49

ছবি সংগৃহীত

 

ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে নিজের নাম উল্লেখ করা একটি উইকিপিডিয়া পাতার আদলে তৈরি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার স্থানীয় সময় নিজের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ছবিটি পোস্ট করেন তিনি। বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

শেয়ার করা স্ক্রিনশটে দেখা যায়, সেখানে ট্রাম্পকে ‘ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং দায়িত্বকাল লেখা রয়েছে জানুয়ারি ২০২৬ থেকে। উইকিপিডিয়ার নকশায় তৈরি ওই পাতায় তাঁর একটি অফিসিয়াল ছবি যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে প্রকৃত উইকিপিডিয়া পাতায় ভেনেজুয়েলার কোনো দায়িত্বে ট্রাম্পের নাম নেই। আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থা বা দেশও এমন দাবি স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে এটি একটি ভুয়া বা বিকৃত তথ্যভিত্তিক স্ক্রিনশট বলেই নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এই পোস্টটি এমন এক সময় সামনে আসে, যখন এর কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। পরে নিউইয়র্কে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ফেডারেল মাদক পাচার মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
এই ঘটনার পর মাদুরো অভিযোগ করেন, তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে। চীন, রাশিয়া, কলম্বিয়া এবং স্পেনসহ একাধিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দেয়।

অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প ঘোষণা দেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রয়োজন বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ভেনেজুয়েলার প্রশাসনিক দায়িত্ব নেবে। তিনি জানান, এই সময়ের মধ্যে দেশটির তেল উৎপাদন ও রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকবে।

এরপর ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা দেলসি রদ্রিগুয়েজ নিজেকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে শপথ নেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রত্যাখ্যান করেন এবং নিকোলাস মাদুরোকেই দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে মাদুরোর মুক্তির আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা না করলে রদ্রিগুয়েজকে গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে হবে। তাঁর দাবি, সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি মাদুরোর চেয়েও কঠিন হতে পারে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার তেল খাত নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, উৎপাদন দ্রুত বাড়াতে মার্কিন তেল

কোম্পানিগুলোকে দেশটিতে সর্বোচ্চ ১০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে হবে। হোয়াইট হাউসে তেল খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করেন, কোন কোম্পানি ভেনেজুয়েলায় কাজ করবে তা যুক্তরাষ্ট্রই নির্ধারণ করবে।

ট্রাম্প আরও জানান, অন্তর্বর্তী ভেনেজুয়েলা প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানির একটি চুক্তি হয়েছে। এই সরবরাহ অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমতে সহায়তা করবে।

এ ছাড়া তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্ত অর্থ বিশেষ সুরক্ষার আওতায় রাখা হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, উইকিপিডিয়া স্ক্রিনশট ভাইরাল

আপডেট সময় ০৭:২০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

 

ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে নিজের নাম উল্লেখ করা একটি উইকিপিডিয়া পাতার আদলে তৈরি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার স্থানীয় সময় নিজের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ছবিটি পোস্ট করেন তিনি। বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

শেয়ার করা স্ক্রিনশটে দেখা যায়, সেখানে ট্রাম্পকে ‘ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং দায়িত্বকাল লেখা রয়েছে জানুয়ারি ২০২৬ থেকে। উইকিপিডিয়ার নকশায় তৈরি ওই পাতায় তাঁর একটি অফিসিয়াল ছবি যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে প্রকৃত উইকিপিডিয়া পাতায় ভেনেজুয়েলার কোনো দায়িত্বে ট্রাম্পের নাম নেই। আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থা বা দেশও এমন দাবি স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে এটি একটি ভুয়া বা বিকৃত তথ্যভিত্তিক স্ক্রিনশট বলেই নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এই পোস্টটি এমন এক সময় সামনে আসে, যখন এর কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। পরে নিউইয়র্কে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ফেডারেল মাদক পাচার মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
এই ঘটনার পর মাদুরো অভিযোগ করেন, তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে। চীন, রাশিয়া, কলম্বিয়া এবং স্পেনসহ একাধিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দেয়।

অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প ঘোষণা দেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রয়োজন বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ভেনেজুয়েলার প্রশাসনিক দায়িত্ব নেবে। তিনি জানান, এই সময়ের মধ্যে দেশটির তেল উৎপাদন ও রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকবে।

এরপর ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা দেলসি রদ্রিগুয়েজ নিজেকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে শপথ নেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রত্যাখ্যান করেন এবং নিকোলাস মাদুরোকেই দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে মাদুরোর মুক্তির আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা না করলে রদ্রিগুয়েজকে গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে হবে। তাঁর দাবি, সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি মাদুরোর চেয়েও কঠিন হতে পারে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার তেল খাত নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, উৎপাদন দ্রুত বাড়াতে মার্কিন তেল

কোম্পানিগুলোকে দেশটিতে সর্বোচ্চ ১০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে হবে। হোয়াইট হাউসে তেল খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করেন, কোন কোম্পানি ভেনেজুয়েলায় কাজ করবে তা যুক্তরাষ্ট্রই নির্ধারণ করবে।

ট্রাম্প আরও জানান, অন্তর্বর্তী ভেনেজুয়েলা প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানির একটি চুক্তি হয়েছে। এই সরবরাহ অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমতে সহায়তা করবে।

এ ছাড়া তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্ত অর্থ বিশেষ সুরক্ষার আওতায় রাখা হবে।