ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধের পরিবেশগত মূল্য: দুই সপ্তাহেই ৫০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ জামালপুরে সেতু ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ ১ ঈদের খাবার: মোগল দরবার থেকে বাঙালির ঘরে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার আছে: জাতিসংঘ মনে হয় নির্বাচনের পর দেশের মালিকানা অনেকাংশেই মানুষ ফিরে পেয়েছে: অর্থমন্ত্রী ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় গড়তে চাই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় ঈদে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা লোকজনের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে: শফিকুর রহমান ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে বিপাকে ট্রাম্প টিকটকার রাকিব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যেভাবে চলে কিলিং মিশন

সিরিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী ও দ্রুজদের সংঘর্ষে নিহত ৩০, আহত শতাধিক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
  • / 261

ছবি সংগৃহীত

 

সিরিয়ার দ্রুজ সম্প্রদায় অধ্যুষিত শহর সুইদায় স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র উপজাতি সদস্যদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে রক্তপাত ঘটেছে। এতে অন্তত ৩০ জন নিহত ও ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, সোমবার সকালে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সুইদা শহরে স্থানীয় সামরিক বাহিনীর সঙ্গে দ্রুজ সম্প্রদায়ের সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে প্রাথমিকভাবে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১০০ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও সহিংসতা থামাতে নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে বলেও জানানো হয়।

আরও পড়ুন  আলেপ্পোতে যুদ্ধবিরতি: সিরীয় সেনা ও কুর্দি বাহিনীর সংঘর্ষের অবসান

এদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সুইদা, চিকিৎসা সূত্রের বরাতে জানায়, সংঘর্ষের কারণে গুরুত্বপূর্ণ দামেস্ক-সুইদা মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। শহরের গভর্নর মুস্তাফা আল-বাকুর জনগণকে ধৈর্য ধরতে এবং দেশের সংস্কারমূলক জাতীয় আহ্বানে সাড়া দিতে অনুরোধ করেছেন।

সুইদা অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই সিরিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রস্থল হিসেবে বিবেচিত। চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসেও এই অঞ্চলে দ্রুজ সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে বহু প্রাণহানি ঘটে। তবে রবিবারের সহিংসতাই চলতি বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুজ সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক সম্প্রতি আরও টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে। রাজনৈতিক সংস্কার, অর্থনৈতিক সংকট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবনতি সব মিলিয়ে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে সুইদায় আরও বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। স্থানীয় জনগণ এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সহনশীলতা ও সংলাপের পরিবেশ তৈরি করাই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

সিরিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী ও দ্রুজদের সংঘর্ষে নিহত ৩০, আহত শতাধিক

আপডেট সময় ০৩:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

 

সিরিয়ার দ্রুজ সম্প্রদায় অধ্যুষিত শহর সুইদায় স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র উপজাতি সদস্যদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে রক্তপাত ঘটেছে। এতে অন্তত ৩০ জন নিহত ও ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, সোমবার সকালে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সুইদা শহরে স্থানীয় সামরিক বাহিনীর সঙ্গে দ্রুজ সম্প্রদায়ের সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে প্রাথমিকভাবে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১০০ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও সহিংসতা থামাতে নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে বলেও জানানো হয়।

আরও পড়ুন  সিরিয়া হারিয়ে এবার লিবিয়াতে চোখ দিচ্ছে রাশিয়া

এদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সুইদা, চিকিৎসা সূত্রের বরাতে জানায়, সংঘর্ষের কারণে গুরুত্বপূর্ণ দামেস্ক-সুইদা মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। শহরের গভর্নর মুস্তাফা আল-বাকুর জনগণকে ধৈর্য ধরতে এবং দেশের সংস্কারমূলক জাতীয় আহ্বানে সাড়া দিতে অনুরোধ করেছেন।

সুইদা অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই সিরিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রস্থল হিসেবে বিবেচিত। চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসেও এই অঞ্চলে দ্রুজ সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে বহু প্রাণহানি ঘটে। তবে রবিবারের সহিংসতাই চলতি বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুজ সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক সম্প্রতি আরও টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে। রাজনৈতিক সংস্কার, অর্থনৈতিক সংকট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবনতি সব মিলিয়ে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে সুইদায় আরও বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। স্থানীয় জনগণ এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সহনশীলতা ও সংলাপের পরিবেশ তৈরি করাই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।