ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধের পরিবেশগত মূল্য: দুই সপ্তাহেই ৫০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ জামালপুরে সেতু ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ ১ ঈদের খাবার: মোগল দরবার থেকে বাঙালির ঘরে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার আছে: জাতিসংঘ মনে হয় নির্বাচনের পর দেশের মালিকানা অনেকাংশেই মানুষ ফিরে পেয়েছে: অর্থমন্ত্রী ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় গড়তে চাই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় ঈদে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা লোকজনের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে: শফিকুর রহমান ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে বিপাকে ট্রাম্প টিকটকার রাকিব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যেভাবে চলে কিলিং মিশন

গাজায় ত্রাণপ্রার্থীদের ওপর ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৭৮

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:২২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
  • / 198

ছবি সংগৃহীত

 

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় টানা ইসরায়েলি হামলায় ফের রক্তাক্ত হল ফিলিস্তিন। ত্রাণ নিতে আসা শিশু ও সাধারণ মানুষসহ অন্তত ৭৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ক্রমবর্ধমান অবরোধে জ্বালানি ও খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ফিলিস্তিনের সংবাদ সংস্থা ওয়াফার বরাতে জানা যায়, সোমবার দক্ষিণ গাজার রাফা এলাকায় একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের নিকট হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ৫ জন ত্রাণপ্রার্থী প্রাণ হারান।

আরও পড়ুন  ‘মার্চ ফর গাজা’য় যা বললেন আহমাদুল্লাহ

এ নিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী এবং মার্কিন সমর্থিত কুখ্যাত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত ত্রাণ কেন্দ্রে হামলায় মোট ৮৩৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হলেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে চালানো হামলায় নিহত হয়েছেন ৯ জন ফিলিস্তিনি। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন আরও ৪ জন।

উত্তর গাজায় হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে জানানো হয়, সেখানে একটি ইসরায়েলি ট্যাংক হামলার শিকার হয়। পরে আইডিএফ জানায়, ওই ঘটনায় তাদের তিন সেনা নিহত হয়েছে। এর জবাবে তুফাহ এবং শুজাইয়া পাড়ায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে আবাসিক ভবনগুলো ধ্বংস করে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী।

এসব হামলায় শুধু গাজা শহরেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৪ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

এদিকে ইসরায়েলের কঠোর অবরোধে গাজায় মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজায় জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। খাদ্য সংকটও চরমে পৌঁছেছে।

মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ইসরায়েল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল যাতে গাজায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে বলা হয়েছিল। তবে বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি মানা হয়নি। গাজার জনগণ এখনো প্রয়োজনীয় ত্রাণ থেকে বঞ্চিত।

গাজায় প্রতিদিনের এই নিষ্ঠুরতা ও মানবিক সংকটে বিশ্ব বিবেক এখনও কার্যকরভাবে সাড়া দেয়নি—এই অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় ত্রাণপ্রার্থীদের ওপর ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৭৮

আপডেট সময় ১২:২২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

 

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় টানা ইসরায়েলি হামলায় ফের রক্তাক্ত হল ফিলিস্তিন। ত্রাণ নিতে আসা শিশু ও সাধারণ মানুষসহ অন্তত ৭৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ক্রমবর্ধমান অবরোধে জ্বালানি ও খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ফিলিস্তিনের সংবাদ সংস্থা ওয়াফার বরাতে জানা যায়, সোমবার দক্ষিণ গাজার রাফা এলাকায় একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের নিকট হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ৫ জন ত্রাণপ্রার্থী প্রাণ হারান।

আরও পড়ুন  গা*জা*য় অস্ত্রবিরতি চুক্তি: স্বাগত জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব 

এ নিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী এবং মার্কিন সমর্থিত কুখ্যাত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত ত্রাণ কেন্দ্রে হামলায় মোট ৮৩৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হলেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে চালানো হামলায় নিহত হয়েছেন ৯ জন ফিলিস্তিনি। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন আরও ৪ জন।

উত্তর গাজায় হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে জানানো হয়, সেখানে একটি ইসরায়েলি ট্যাংক হামলার শিকার হয়। পরে আইডিএফ জানায়, ওই ঘটনায় তাদের তিন সেনা নিহত হয়েছে। এর জবাবে তুফাহ এবং শুজাইয়া পাড়ায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে আবাসিক ভবনগুলো ধ্বংস করে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী।

এসব হামলায় শুধু গাজা শহরেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৪ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

এদিকে ইসরায়েলের কঠোর অবরোধে গাজায় মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজায় জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। খাদ্য সংকটও চরমে পৌঁছেছে।

মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ইসরায়েল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল যাতে গাজায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে বলা হয়েছিল। তবে বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি মানা হয়নি। গাজার জনগণ এখনো প্রয়োজনীয় ত্রাণ থেকে বঞ্চিত।

গাজায় প্রতিদিনের এই নিষ্ঠুরতা ও মানবিক সংকটে বিশ্ব বিবেক এখনও কার্যকরভাবে সাড়া দেয়নি—এই অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা।