ঢাকা ০৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

করাচির লিয়ারিতে পাঁচতলা ভবন ধসে নিহত বেড়ে ১০, আহত ৯

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৩৮:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
  • / 121

ছবি সংগৃহীত

 

পাকিস্তানের করাচির লিয়ারি এলাকায় শুক্রবার একটি পাঁচতলা ভবন ধসের ঘটনায় নিহত বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। শহীদ মোতরমা বেনজির ভুট্টো ইনস্টিটিউট অব ট্রমা (এসএমবিবিআইটি) জানিয়েছে, এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৯ জন।

স্থানীয় গণমাধ্যম ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করাচির সিভিল হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৯টি মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান। করাচির পুলিশ সার্জন ডা. সুমাইয়া সৈয়দও একই সংখ্যক নিহতের খবর নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন  আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউতে যোগ দিতে করাচির পথে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ

এসএমবিবিআইটির নির্বাহী পরিচালক ডা. সাবির মেমন জানান, আহতদের মধ্যে ৬ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে করাচির খারাদার এলাকায়ও একটি ভবন ধসের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই লিয়ারিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে গত বছরের ডিসেম্বরে সিন্ধু বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি করাচিজুড়ে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত ৫৭০টিরও বেশি ভবন দ্রুত খালি করার জন্য প্রাদেশিক সরকারকে নির্দেশনা দেয়। কিন্তু বাস্তবতার আলোকে দেখা যাচ্ছে, সেই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়নি।

নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী, দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভবন নিয়মের শিথিল প্রয়োগ এবং অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে করাচির পুরোনো ভবনগুলো ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রায় দুই কোটির বেশি মানুষের এই মহানগরীতে দ্রুত নগরায়ণ এবং অবৈধ সম্প্রসারণের কারণে এমন ঘটনার ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত ভেঙে ফেলা বা মেরামত করা জরুরি, পাশাপাশি নতুন নির্মাণে মান নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর তদারকি বাড়াতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতেও করাচির মতো জনবহুল নগরীতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে থাকবে।

পুলিশ এবং উদ্ধারকর্মীরা ভবনটির ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না, যার ফলে তাদের জীবনের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

করাচির লিয়ারিতে পাঁচতলা ভবন ধসে নিহত বেড়ে ১০, আহত ৯

আপডেট সময় ১০:৩৮:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫

 

পাকিস্তানের করাচির লিয়ারি এলাকায় শুক্রবার একটি পাঁচতলা ভবন ধসের ঘটনায় নিহত বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। শহীদ মোতরমা বেনজির ভুট্টো ইনস্টিটিউট অব ট্রমা (এসএমবিবিআইটি) জানিয়েছে, এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৯ জন।

স্থানীয় গণমাধ্যম ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করাচির সিভিল হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৯টি মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান। করাচির পুলিশ সার্জন ডা. সুমাইয়া সৈয়দও একই সংখ্যক নিহতের খবর নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন  নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোরে ভিসা সেবা বন্ধ

এসএমবিবিআইটির নির্বাহী পরিচালক ডা. সাবির মেমন জানান, আহতদের মধ্যে ৬ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে করাচির খারাদার এলাকায়ও একটি ভবন ধসের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই লিয়ারিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে গত বছরের ডিসেম্বরে সিন্ধু বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি করাচিজুড়ে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত ৫৭০টিরও বেশি ভবন দ্রুত খালি করার জন্য প্রাদেশিক সরকারকে নির্দেশনা দেয়। কিন্তু বাস্তবতার আলোকে দেখা যাচ্ছে, সেই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়নি।

নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী, দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভবন নিয়মের শিথিল প্রয়োগ এবং অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে করাচির পুরোনো ভবনগুলো ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রায় দুই কোটির বেশি মানুষের এই মহানগরীতে দ্রুত নগরায়ণ এবং অবৈধ সম্প্রসারণের কারণে এমন ঘটনার ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত ভেঙে ফেলা বা মেরামত করা জরুরি, পাশাপাশি নতুন নির্মাণে মান নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর তদারকি বাড়াতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতেও করাচির মতো জনবহুল নগরীতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে থাকবে।

পুলিশ এবং উদ্ধারকর্মীরা ভবনটির ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না, যার ফলে তাদের জীবনের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।