ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধের পরিবেশগত মূল্য: দুই সপ্তাহেই ৫০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ জামালপুরে সেতু ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ ১ ঈদের খাবার: মোগল দরবার থেকে বাঙালির ঘরে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার আছে: জাতিসংঘ মনে হয় নির্বাচনের পর দেশের মালিকানা অনেকাংশেই মানুষ ফিরে পেয়েছে: অর্থমন্ত্রী ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় গড়তে চাই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় ঈদে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা লোকজনের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে: শফিকুর রহমান ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে বিপাকে ট্রাম্প টিকটকার রাকিব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যেভাবে চলে কিলিং মিশন

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে ইরান: ঘোষণা খামেনির

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৩০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
  • / 159

ছবি সংগৃহীত

 

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরান বিজয়ী হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। যুদ্ধবিরতির দুই দিন পর, বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বার্তায় খামেনি বলেন, “প্রতারণাপূর্ণ জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিজয়ের জন্য আমি ইরানি জনগণকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।” তাঁর এ বক্তব্য দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের কাঠামোগত বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা আজ

উল্লেখ্য, ১২ জুন দিবাগত রাত থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা শুরু করে। তাদের দাবি, ইরান পরমাণু বোমা তৈরির চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে গেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করতে পারে। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ইসরায়েল এই অভিযানে নামে।

ইসরায়েলের এই আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরান। দেশটি একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানে। এতে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায় এবং যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হয়।

এই সংঘাতের মাত্র ১০ দিন পর, ২২ জুন মধ্যরাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী হঠাৎই হামলা চালায় ইসরায়েলের তিনটি পরমাণু স্থাপনায়। এই অভিযানের নামকরণ করা হয় ‘দ্য মিডনাইট হ্যামার’। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) এই হামলার নেতৃত্ব দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই হস্তক্ষেপের ফলে ইসরায়েলের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ইরান কৌশলগতভাবে লাভবান হয়।

যুদ্ধবিরতির পরপরই আয়াতুল্লাহ খামেনির বিজয়ের ঘোষণা অনেককে অবাক করলেও ইরানে এটি উদযাপনের রূপ নিয়েছে। তাঁর অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাস্তাঘাটে বিজয়ের উৎসবে মেতে ওঠে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই সংঘাতে ইরান সামরিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে এর পরিণতি দীর্ঘমেয়াদে কেমন হবে, তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।

বর্তমানে দুই দেশই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে ফিরে এলেও এই অঞ্চলের পরিস্থিতি এখনও থমথমে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় পরিস্থিতি আবারও ঘোলাটে হয়ে উঠতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে ইরান: ঘোষণা খামেনির

আপডেট সময় ০৬:৩০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

 

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরান বিজয়ী হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। যুদ্ধবিরতির দুই দিন পর, বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বার্তায় খামেনি বলেন, “প্রতারণাপূর্ণ জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিজয়ের জন্য আমি ইরানি জনগণকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।” তাঁর এ বক্তব্য দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুন  আঞ্চলিক-বৈশ্বিক পরিবর্তনে ইরান-চীন হাত মিলাচ্ছে

উল্লেখ্য, ১২ জুন দিবাগত রাত থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা শুরু করে। তাদের দাবি, ইরান পরমাণু বোমা তৈরির চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে গেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করতে পারে। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ইসরায়েল এই অভিযানে নামে।

ইসরায়েলের এই আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরান। দেশটি একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানে। এতে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায় এবং যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হয়।

এই সংঘাতের মাত্র ১০ দিন পর, ২২ জুন মধ্যরাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী হঠাৎই হামলা চালায় ইসরায়েলের তিনটি পরমাণু স্থাপনায়। এই অভিযানের নামকরণ করা হয় ‘দ্য মিডনাইট হ্যামার’। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) এই হামলার নেতৃত্ব দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই হস্তক্ষেপের ফলে ইসরায়েলের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ইরান কৌশলগতভাবে লাভবান হয়।

যুদ্ধবিরতির পরপরই আয়াতুল্লাহ খামেনির বিজয়ের ঘোষণা অনেককে অবাক করলেও ইরানে এটি উদযাপনের রূপ নিয়েছে। তাঁর অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাস্তাঘাটে বিজয়ের উৎসবে মেতে ওঠে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই সংঘাতে ইরান সামরিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে এর পরিণতি দীর্ঘমেয়াদে কেমন হবে, তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।

বর্তমানে দুই দেশই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে ফিরে এলেও এই অঞ্চলের পরিস্থিতি এখনও থমথমে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় পরিস্থিতি আবারও ঘোলাটে হয়ে উঠতে পারে।