ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় একদিনে নিহত ৮১ জন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১৬:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫
  • / 122

ছবি সংগৃহীত

 

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) টানা বিমান হামলায় গাজা উপত্যকায় সোমবার সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৮১ জন ফিলিস্তিনি। এ নিয়ে অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে মোট প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৯৭৭ জনে।

মঙ্গলবার (২৭ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বরাতে এই ভয়াবহ প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-র এক মুখপাত্র উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, “গাজার মানুষ চরম কষ্টে আছে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। ইসরায়েলি হামলার তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি সাহায্য পৌঁছাতেও বাধা দিচ্ছে তারা।”

আরও পড়ুন  নতুন ফাঁস হওয়া নথিতে ইসরায়েলের সঙ্গে অ্যামাজন ও গুগলের গোপন চুক্তি উন্মোচিত

অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকালে অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেরিকো শহরের আল-আরব পাড়ায় অভিযান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ২০ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি যুবক আহমেদ জালাইতা।

গাজার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও চলমান অভিযানে নিত্যদিন ভাঙছে ফিলিস্তিনিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। স্কুল, হাসপাতাল, খাবার সরবরাহ—সব কিছুতেই নেমে এসেছে চরম সংকট। নারী ও শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল একাধিকবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেনি তেলআবিব। নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হামাসকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন না করা পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯৬৬ জন ফিলিস্তিনি। নিহত ও আহতদের মধ্যে অন্তত ৫৬ শতাংশই নারী ও শিশু, যা পুরো বিশ্বে মানবিক সংকটের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

গাজা ও পশ্চিম তীরে জীবনযাত্রা এখন মৃত্যুভয়ে জর্জরিত। চিকিৎসা, খাদ্য ও নিরাপত্তার মৌলিক চাহিদাগুলো প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত যুদ্ধবিরতির দাবি জানাচ্ছেন বিশ্ববাসী। কিন্তু বাস্তবে তা এখনও অনেক দূরের স্বপ্ন হয়ে আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় একদিনে নিহত ৮১ জন

আপডেট সময় ১১:১৬:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫

 

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) টানা বিমান হামলায় গাজা উপত্যকায় সোমবার সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৮১ জন ফিলিস্তিনি। এ নিয়ে অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে মোট প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৯৭৭ জনে।

মঙ্গলবার (২৭ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বরাতে এই ভয়াবহ প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-র এক মুখপাত্র উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, “গাজার মানুষ চরম কষ্টে আছে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। ইসরায়েলি হামলার তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি সাহায্য পৌঁছাতেও বাধা দিচ্ছে তারা।”

আরও পড়ুন  ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়ায় মন্ত্রিসভার বিরোধ, অবশেষে পদত্যাগ

অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকালে অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেরিকো শহরের আল-আরব পাড়ায় অভিযান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ২০ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি যুবক আহমেদ জালাইতা।

গাজার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও চলমান অভিযানে নিত্যদিন ভাঙছে ফিলিস্তিনিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। স্কুল, হাসপাতাল, খাবার সরবরাহ—সব কিছুতেই নেমে এসেছে চরম সংকট। নারী ও শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল একাধিকবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেনি তেলআবিব। নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হামাসকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন না করা পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯৬৬ জন ফিলিস্তিনি। নিহত ও আহতদের মধ্যে অন্তত ৫৬ শতাংশই নারী ও শিশু, যা পুরো বিশ্বে মানবিক সংকটের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

গাজা ও পশ্চিম তীরে জীবনযাত্রা এখন মৃত্যুভয়ে জর্জরিত। চিকিৎসা, খাদ্য ও নিরাপত্তার মৌলিক চাহিদাগুলো প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত যুদ্ধবিরতির দাবি জানাচ্ছেন বিশ্ববাসী। কিন্তু বাস্তবে তা এখনও অনেক দূরের স্বপ্ন হয়ে আছে।