০৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
প্রকৃতির হাতে আঁকা ভূমি: নর্থ ডাকোটা ব্যাডল্যান্ড সাংবাদিকতার স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখতে আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বনির্ভরতা জরুরি: শফিক রেহমান হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল চরমোনাইয়ের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে জামায়াত জোট আইসিসি ভারতীয় কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি বাংলাদেশ, ভারতীয় মিডিয়ার দাবি একটি দল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ খুঁজছে: সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে : তারেক রহমান আচরণবিধি লঙ্ঘন: অপসাংবাদিকতার শিকার বললেন মামুনুল হক পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনছে ইসি গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে তারেক রহমান

দুর্বল শরীরকে শক্তিশালী করতে যে সকল পুষ্টিকর খাবার খাবেন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৫০:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫
  • / 265

ছবি সংগৃহীত

 

 

অনেকেই মনে করেন, শুধু তিন বেলা পেটভরে খেলেই শরীর শক্তিশালী হয়ে উঠবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। অনেক সময় ভালোমতো খাওয়ার পরও ক্লান্তি আসে, শরীরে শক্তি থাকে না, মন বসে না কাজে। চিকিৎসকদের মতে, পরিমাণে বেশি খাওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাওয়া।

বিজ্ঞাপন

শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে হলে চাই সঠিক পুষ্টির সমন্বয়। সঠিক পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবারই শরীরকে শক্তি জোগায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আমিষ, প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলসমৃদ্ধ কিছু নির্দিষ্ট খাবার নিয়মিত খেলে শারীরিক সক্ষমতা ও প্রাণশক্তি বাড়ানো সম্ভব। মাছ-মাংসের বাইরেও কিছু উপাদান রয়েছে, যেগুলো শরীরের শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সতেজ মৌসুমি ফল ও সবজি: খাদ্য তালিকায় এমন ফল ও সবজি রাখা জরুরি, যেগুলো পুষ্টিসমৃদ্ধ ও বিষমুক্ত। মৌসুমি ফল যেমন পেঁপে, আম, কলা, লিচু ইত্যাদি ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। একইভাবে, শাকসবজি যেমন পালংশাক, ঢেঁড়স, লাউ, গাজর নিয়মিত খাওয়া শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।

প্রসেসড ফুড পরিহার: চিজ বার্গার, ফ্রাই কিংবা প্যাকেটজাত খাবার খেতে সুস্বাদু হলেও এগুলোর পুষ্টিমূল্য খুবই কম। এই ধরনের খাবারে থাকে ট্রান্স ফ্যাট, অতিরিক্ত সোডিয়াম ও কৃত্রিম উপাদান, যা শরীরকে দুর্বল করে তোলে। তাই এগুলো এড়িয়ে চলা ভালো।

চর্বিহীন প্রোটিন: শরীর গঠনে প্রোটিনের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে চর্বিযুক্ত লাল মাংস নয়, বরং চিকেন, মাছ, টার্কির মতো কম চর্বিযুক্ত প্রোটিন বেছে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে স্যামন বা টুনার মতো ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ মাছ খাওয়া উপকারী।

বাদাম ও বীজ: শক্তির প্রাকৃতিক উৎস বাদাম ও বীজ। কাজুবাদাম, আখরোট, সূর্যমুখীর বীজ ও কুমড়ার বীজে রয়েছে প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইবার ও প্রোটিন। কাঁচা ও লবণবিহীন অবস্থায় এগুলো খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী।

শস্য ও কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট: সাদা ময়দা ও চিনি শরীরে সাময়িক শক্তি দিলেও দীর্ঘস্থায়ী নয়। বরং চাল, ডাল, ভুট্টা, সয়াবিন ও শিম জাতীয় খাদ্য শরীরে শক্তি জোগায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।

পানি: পানির কোনো বিকল্প নেই। এটি শরীরের সব কার্যক্রমকে সহজ করে তোলে। নিয়মিত পানি পান করলে ক্লান্তি কমে, মন সতেজ থাকে।

কলা: সহজলভ্য এই ফলটিই হতে পারে প্রাকৃতিক শক্তির অন্যতম উৎস। কলায় রয়েছে পটাসিয়াম, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট ও ভিটামিন যা দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনে।

ওটস: ওটস শুধু সকালের নাশতার জন্য নয়, এটি যে কোনো সময় খাওয়া যেতে পারে। এতে রয়েছে ফাইবার ও হালকা প্রোটিন, যা দীর্ঘস্থায়ী শক্তি দেয়।

ভিটামিন ও সম্পূরক খাবার: প্রতিদিনের খাবার থেকে প্রয়োজনীয় সব উপাদান না মিললে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন বা পুষ্টিসমৃদ্ধ সম্পূরক গ্রহণ করা যেতে পারে।

শরীরকে শুধু পূর্ণ পেটে নয়, সঠিক পুষ্টিতে শক্তিশালী করা সম্ভব। তাই খাদ্য তালিকায় চিন্তাভাবনা করে খাবার রাখুন। আপনার খাদ্যই আপনার শক্তি।

নিউজটি শেয়ার করুন

দুর্বল শরীরকে শক্তিশালী করতে যে সকল পুষ্টিকর খাবার খাবেন

আপডেট সময় ১১:৫০:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫

 

 

অনেকেই মনে করেন, শুধু তিন বেলা পেটভরে খেলেই শরীর শক্তিশালী হয়ে উঠবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। অনেক সময় ভালোমতো খাওয়ার পরও ক্লান্তি আসে, শরীরে শক্তি থাকে না, মন বসে না কাজে। চিকিৎসকদের মতে, পরিমাণে বেশি খাওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাওয়া।

বিজ্ঞাপন

শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে হলে চাই সঠিক পুষ্টির সমন্বয়। সঠিক পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবারই শরীরকে শক্তি জোগায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আমিষ, প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলসমৃদ্ধ কিছু নির্দিষ্ট খাবার নিয়মিত খেলে শারীরিক সক্ষমতা ও প্রাণশক্তি বাড়ানো সম্ভব। মাছ-মাংসের বাইরেও কিছু উপাদান রয়েছে, যেগুলো শরীরের শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সতেজ মৌসুমি ফল ও সবজি: খাদ্য তালিকায় এমন ফল ও সবজি রাখা জরুরি, যেগুলো পুষ্টিসমৃদ্ধ ও বিষমুক্ত। মৌসুমি ফল যেমন পেঁপে, আম, কলা, লিচু ইত্যাদি ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। একইভাবে, শাকসবজি যেমন পালংশাক, ঢেঁড়স, লাউ, গাজর নিয়মিত খাওয়া শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।

প্রসেসড ফুড পরিহার: চিজ বার্গার, ফ্রাই কিংবা প্যাকেটজাত খাবার খেতে সুস্বাদু হলেও এগুলোর পুষ্টিমূল্য খুবই কম। এই ধরনের খাবারে থাকে ট্রান্স ফ্যাট, অতিরিক্ত সোডিয়াম ও কৃত্রিম উপাদান, যা শরীরকে দুর্বল করে তোলে। তাই এগুলো এড়িয়ে চলা ভালো।

চর্বিহীন প্রোটিন: শরীর গঠনে প্রোটিনের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে চর্বিযুক্ত লাল মাংস নয়, বরং চিকেন, মাছ, টার্কির মতো কম চর্বিযুক্ত প্রোটিন বেছে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে স্যামন বা টুনার মতো ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ মাছ খাওয়া উপকারী।

বাদাম ও বীজ: শক্তির প্রাকৃতিক উৎস বাদাম ও বীজ। কাজুবাদাম, আখরোট, সূর্যমুখীর বীজ ও কুমড়ার বীজে রয়েছে প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইবার ও প্রোটিন। কাঁচা ও লবণবিহীন অবস্থায় এগুলো খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী।

শস্য ও কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট: সাদা ময়দা ও চিনি শরীরে সাময়িক শক্তি দিলেও দীর্ঘস্থায়ী নয়। বরং চাল, ডাল, ভুট্টা, সয়াবিন ও শিম জাতীয় খাদ্য শরীরে শক্তি জোগায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।

পানি: পানির কোনো বিকল্প নেই। এটি শরীরের সব কার্যক্রমকে সহজ করে তোলে। নিয়মিত পানি পান করলে ক্লান্তি কমে, মন সতেজ থাকে।

কলা: সহজলভ্য এই ফলটিই হতে পারে প্রাকৃতিক শক্তির অন্যতম উৎস। কলায় রয়েছে পটাসিয়াম, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট ও ভিটামিন যা দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনে।

ওটস: ওটস শুধু সকালের নাশতার জন্য নয়, এটি যে কোনো সময় খাওয়া যেতে পারে। এতে রয়েছে ফাইবার ও হালকা প্রোটিন, যা দীর্ঘস্থায়ী শক্তি দেয়।

ভিটামিন ও সম্পূরক খাবার: প্রতিদিনের খাবার থেকে প্রয়োজনীয় সব উপাদান না মিললে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন বা পুষ্টিসমৃদ্ধ সম্পূরক গ্রহণ করা যেতে পারে।

শরীরকে শুধু পূর্ণ পেটে নয়, সঠিক পুষ্টিতে শক্তিশালী করা সম্ভব। তাই খাদ্য তালিকায় চিন্তাভাবনা করে খাবার রাখুন। আপনার খাদ্যই আপনার শক্তি।