টোঙ্গা: প্রশান্ত মহাসাগর একমাত্র প্রাচীন রাজতন্ত্র
- আপডেট সময় ০৬:৩২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 30
টোঙ্গা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপ রাষ্ট্র, যা ওশেনিয়া মহাদেশের পলিনেশিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। দেশটি প্রায় ১৭০টিরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে প্রায় ৩৬টিতে মানুষ বসবাস করে। রাজধানী নুকু‘আলোফা।
ইতিহাসের দিক থেকে, টোঙ্গা প্রশান্ত মহাসাগরের অন্যতম প্রাচীন সভ্যতার অংশ। হাজার বছর আগে পলিনেশীয়রা এখানে বসতি স্থাপন করে। ইউরোপীয়দের আগমন ঘটে ১৭শ শতকে। তবে আশপাশের অনেক দ্বীপের মতো টোঙ্গা পুরোপুরি উপনিবেশে পরিণত হয়নি। ১৯০০ সালে এটি ব্রিটিশ সুরক্ষিত রাষ্ট্র হয়, কিন্তু নিজস্ব রাজতন্ত্র বজায় রাখে।
১৯৭০ সালে টোঙ্গা পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। এই কারণে টোঙ্গা প্রশান্ত মহাসাগরের একমাত্র দেশ যেখানে ঐতিহ্যবাহী রাজতন্ত্র আজও টিকে আছে।
রাজনৈতিকভাবে, টোঙ্গা একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র। রাজা রাষ্ট্রপ্রধান, আর প্রধানমন্ত্রী সরকার পরিচালনা করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে, টোঙ্গায় প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে এবং সাক্ষরতার হার তুলনামূলক ভালো। অনেক টোঙ্গান নাগরিক বিদেশে কাজ করেন এবং সেখান থেকে অর্থ পাঠান, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে অর্থনীতি ছোট এবং কৃষি, মৎস্য ও প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ঘূর্ণিঝড় ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতও একটি বড় ঝুঁকি। ২০২২ সালে হুঙ্গা টোঙ্গা–হুঙ্গা হাʻআপাই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয় এবং দেশের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।
ধর্মীয়ভাবে, টোঙ্গার অধিকাংশ মানুষ খ্রিস্টান, বিশেষ করে ফ্রি ওয়েসলিয়ান চার্চের অনুসারী। তবে ধর্মীয় স্বাধীনতা এখানে বিদ্যমান।
ভ্রমণ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে, টোঙ্গা পরিচিত তার স্বচ্ছ নীল সমুদ্র, প্রবাল প্রাচীর এবং তিমি দর্শনের জন্য। বছরে নির্দিষ্ট সময়ে পর্যটকরা এখানে হাম্পব্যাক তিমি দেখার সুযোগ পান। এছাড়া ডাইভিং, সমুদ্রভ্রমণ এবং ঐতিহ্যবাহী পলিনেশীয় সংস্কৃতি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। তবে দূরত্ব ও সীমিত ফ্লাইট সংযোগের কারণে পর্যটন এখনো সীমিত পরিসরে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, টোঙ্গা একটি ছোট কিন্তু সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র, যেখানে ঐতিহ্যবাহী রাজতন্ত্র, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং আধুনিক চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে অবস্থান করছে।





















