ধর্মঘটের মধ্যেও বন্দরের কার্যক্রম চলমান, বললেন চেয়ারম্যান
- আপডেট সময় ০৫:৩৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 31
শ্রমিক-কর্মচারীদের চলমান ধর্মঘটের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর সচল রয়েছে বলে দাবি করেছেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। রোববার দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
চেয়ারম্যানের দাবি সত্ত্বেও সরেজমিনে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। দুপুর পৌনে ১টার দিকে বন্দর ভবনের বিপরীতে ৪ নম্বর জেটি গেইট এবং পরে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) গেইটে কোনো ধরনের ট্রেলার বা পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল দেখা যায়নি।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনের কথা থাকলেও বন্দর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কারণে তা শুরু হতে দেরি হয়।
সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান বলেন, কিছু কর্মচারী বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আনুগত্য রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিই থাকা উচিত। এর ব্যতিক্রম হলে তা আচরণবিধির পরিপন্থি।
রমজানের আগে এ ধরনের কর্মসূচিকে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরির চেষ্টা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা কাজে যোগ দেবেন বলে তাকে আশ্বস্ত করেছেন।
নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালের পরিচালনা ভার সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া নিয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা এখনো শেষ হয়নি।
এদিকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ চার দফা দাবিতে রোববার সকাল ৮টা থেকে লাগাতার ধর্মঘট শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। ধর্মঘটের কারণে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। পণ্য ডেলিভারিও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল থেকেই বন্দরের ভেতরে কোনো যানবাহন প্রবেশ করেনি এবং অপারেশনাল কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আন্দোলন দমাতে প্রশাসন ভিন্ন কৌশল নিচ্ছে। বন্দর ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের দুজন সদস্যকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীরা ধর্মঘটে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন এবং কেউ কাজে যোগ দেননি। তিনি দাবি করেন, শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদ নামে দুজনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে গেছে।
ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি প্রথম কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। পরে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন চলতে থাকে। গত সপ্তাহে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বন্দরে এসে শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করলে দুই দিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত রাখা হয় এবং তখন বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল।
তবে শনিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রোববার থেকে পুনরায় লাগাতার ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়। ধর্মঘট শুরুর পর বিভিন্ন জেটিতে অন্তত ১২টি জাহাজ আটকা পড়েছে বলে জানা গেছে।
আন্দোলনকারীদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়া এবং চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার।



















