ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী বলিভিয়া: আন্দেসের হৃদয়ে লুকানো বৈচিত্র্যময় দেশ মধ্যপ্রাচ্যের ১৫ দেশ ছাড়ার জরুরি নির্দেশ দিল যুক্তরাষ্ট্র

পাটওয়ারীকে ডিম: কী ঘটেছিল সেদিন, তদন্তে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 297

ছবি: সংগৃহীত

 

কলেজ অধ্যক্ষের দাবি কোনো রাজনৈতিক নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, পুলিশ বলছে ছিল না কোনো পূর্ব অনুমতি।

শান্তিনগরের একটি কলেজে পিঠা উৎসবে ঢাকা-৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার।

আরও পড়ুন  ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি

ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও ঢাকা-৮ আসনের রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এ ঘটনায় নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে শুক্রবার ঢাকা-৮ আসনের অনুসন্ধান কমিটির সভাপতি ও সিভিল জজ মো. শামসুল হকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়।

গত ২৭ জানুয়ারি শান্তিনগরের হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে আয়োজিত পিঠা উৎসবে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পাটওয়ারী সেখানে গেলে তার দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হয়।

এ ঘটনায় এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিএনপি প্রার্থীর নির্দেশে তার সমর্থকরা এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। তবে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ঘটনার পর রিটার্নিং অফিসার রমনা থানার পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত প্রতিবেদন চান। বৃহস্পতিবার কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং শুক্রবার রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাদের প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

কলেজ অধ্যক্ষের বক্তব্য:

হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের অধ্যক্ষ ইমরুল কায়েস তার লিখিত প্রতিবেদনে রিটার্নিং অফিসারকে জানান, পিঠা উৎসবে কলেজের বাইরের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, “এ পিঠা উৎসবে কলেজের বাইরের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিশেষ করে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে কলেজ কর্তৃপক্ষ আমন্ত্রণ করেনি। এ উৎসবে প্রচার-প্রচারণার কোনো বিষয়ও ছিল না।”

রমনা থানার ওসির বক্তব্য:

রমনা থানার ওসি তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা ২১ জানুয়ারি থেকে প্রচারে নেমেছেন এবং কোনো জনসভা বা রাজনৈতিক কর্মসূচির বিষয়ে স্থানীয় পুলিশকে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে জানানোর বিধান রয়েছে।

তিনি বলেন, “হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ২৭ জানুয়ারির পিঠা উৎসবে রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বা কোনো রাজনৈতিক পক্ষই পুলিশকে অবগত করেনি।”

তবে পুলিশ ‘বিশ্বস্ত সূত্রে’ জানতে পারে যে, ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উৎসবে যোগ দিতে পারেন।

ওসি জানান, “বিএনপি ও এনসিপির দুই প্রার্থীর এক স্থানে কর্মসূচির তথ্য পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করি এবং হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পুলিশ ফোর্স ও অফিসার মোতায়েন করি। উভয় পক্ষকে উৎসবে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করা হয়।”
তিনি আরও জানান,

“ক্যাম্পাসে আনুমানিক আড়াই থেকে তিন হাজার শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আগমন উপলক্ষে ১১ দলীয় জোটের ছাত্র শিবির, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত হয়। অন্যদিকে মির্জা আব্বাসের আগমন উপলক্ষে ছাত্রদলসহ বিএনপির কর্মী-সমর্থকরাও সেখানে জড়ো হন।”
ওসি বলেন,

“বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পিঠা উৎসবে যোগ দিলে তুমুল উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।”
তিনি আরও বলেন,

“বারান্দায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য প্রদানকালে উশৃঙ্খল জনতার মধ্য থেকে তার অভিমুখে ডিম ও পানি নিক্ষেপ করা হয় এবং বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও শিক্ষকদের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিবারণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।”

রমনা থানার ওসি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন,
“সার্বক্ষণিক পুলিশি উপস্থিতি এবং তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের কারণে ঘটনাস্থলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

পাটওয়ারীকে ডিম: কী ঘটেছিল সেদিন, তদন্তে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি

আপডেট সময় ১১:০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

 

কলেজ অধ্যক্ষের দাবি কোনো রাজনৈতিক নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, পুলিশ বলছে ছিল না কোনো পূর্ব অনুমতি।

শান্তিনগরের একটি কলেজে পিঠা উৎসবে ঢাকা-৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার।

আরও পড়ুন  আপনারা যদি পাশে থাকেন, মার্কা যা-ই হোক, নির্বাচন করব: রুমিন

ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও ঢাকা-৮ আসনের রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এ ঘটনায় নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে শুক্রবার ঢাকা-৮ আসনের অনুসন্ধান কমিটির সভাপতি ও সিভিল জজ মো. শামসুল হকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়।

গত ২৭ জানুয়ারি শান্তিনগরের হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে আয়োজিত পিঠা উৎসবে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পাটওয়ারী সেখানে গেলে তার দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হয়।

এ ঘটনায় এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিএনপি প্রার্থীর নির্দেশে তার সমর্থকরা এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। তবে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ঘটনার পর রিটার্নিং অফিসার রমনা থানার পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত প্রতিবেদন চান। বৃহস্পতিবার কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং শুক্রবার রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাদের প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

কলেজ অধ্যক্ষের বক্তব্য:

হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের অধ্যক্ষ ইমরুল কায়েস তার লিখিত প্রতিবেদনে রিটার্নিং অফিসারকে জানান, পিঠা উৎসবে কলেজের বাইরের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, “এ পিঠা উৎসবে কলেজের বাইরের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিশেষ করে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে কলেজ কর্তৃপক্ষ আমন্ত্রণ করেনি। এ উৎসবে প্রচার-প্রচারণার কোনো বিষয়ও ছিল না।”

রমনা থানার ওসির বক্তব্য:

রমনা থানার ওসি তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা ২১ জানুয়ারি থেকে প্রচারে নেমেছেন এবং কোনো জনসভা বা রাজনৈতিক কর্মসূচির বিষয়ে স্থানীয় পুলিশকে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে জানানোর বিধান রয়েছে।

তিনি বলেন, “হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ২৭ জানুয়ারির পিঠা উৎসবে রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বা কোনো রাজনৈতিক পক্ষই পুলিশকে অবগত করেনি।”

তবে পুলিশ ‘বিশ্বস্ত সূত্রে’ জানতে পারে যে, ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উৎসবে যোগ দিতে পারেন।

ওসি জানান, “বিএনপি ও এনসিপির দুই প্রার্থীর এক স্থানে কর্মসূচির তথ্য পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করি এবং হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পুলিশ ফোর্স ও অফিসার মোতায়েন করি। উভয় পক্ষকে উৎসবে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করা হয়।”
তিনি আরও জানান,

“ক্যাম্পাসে আনুমানিক আড়াই থেকে তিন হাজার শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আগমন উপলক্ষে ১১ দলীয় জোটের ছাত্র শিবির, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত হয়। অন্যদিকে মির্জা আব্বাসের আগমন উপলক্ষে ছাত্রদলসহ বিএনপির কর্মী-সমর্থকরাও সেখানে জড়ো হন।”
ওসি বলেন,

“বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পিঠা উৎসবে যোগ দিলে তুমুল উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।”
তিনি আরও বলেন,

“বারান্দায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য প্রদানকালে উশৃঙ্খল জনতার মধ্য থেকে তার অভিমুখে ডিম ও পানি নিক্ষেপ করা হয় এবং বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও শিক্ষকদের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিবারণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।”

রমনা থানার ওসি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন,
“সার্বক্ষণিক পুলিশি উপস্থিতি এবং তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের কারণে ঘটনাস্থলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।”