১০:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

আজ পবিত্র শবে মেরাজ, ইসলামের ইতিহাসে মহিমান্বিত ও তাৎপর্যপূর্ণ এক রাত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 56

ছবি: সংগৃহীত

 

আজ পবিত্র শবে মেরাজ। ‘শবে’ শব্দটি ফারসি ভাষায় রাত বোঝায় এবং আরবি ‘মেরাজ’ শব্দের অর্থ ঊর্ধ্বগমন। ইসলামের ইতিহাসে এ রাত বিশেষ মর্যাদা ও তাৎপর্যে সমুজ্জ্বল।

এই রাতে মহান আল্লাহ তায়ালার আদেশে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আসমানি সফরে অংশ নেওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেন। তিনি আরশে আজিম পর্যন্ত গমন করেন, আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফরজ বিধান গ্রহণ করে একই রাতে পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করেন। এই অনন্য ঘটনাই শবে মেরাজকে মুসলমানদের কাছে গভীর ধর্মীয় গুরুত্বে অধিষ্ঠিত করেছে।

বিজ্ঞাপন

মুসলিম বিশ্ব প্রতি বছর ২৬ রজবের দিবাগত রাতটি শবে মেরাজ হিসেবে পালন করে। বাংলাদেশেও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই পবিত্র রাতে কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির-আজকার, দোয়া ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন।

ইতিহাস ও ধর্মীয় বর্ণনায় বলা হয়েছে, নবুওত লাভের একাদশ বছরে, ৬২০ খ্রিস্টাব্দে রজব মাসের এক রাতে হজরত জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে বোরাক নামের বাহনে চড়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথমে মক্কার পবিত্র কাবা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসে গমন করেন। সেখানে তিনি অন্যান্য নবী ও রাসুলদের সঙ্গে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন।

পরবর্তী সময়ে হজরত জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গেই তিনি সপ্তম আসমান অতিক্রম করে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত সফর করেন। এ যাত্রাপথে তিনি আসমান, জান্নাত, জাহান্নাম এবং সৃষ্টিজগতের নানা রহস্য প্রত্যক্ষ করেন এবং পূর্ববর্তী বহু নবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ করেন। এরপর রফরফ নামক বিশেষ বাহনে আরোহণ করে তিনি আরশে আজিমে পৌঁছান এবং মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের দিদার লাভ করেন।

এই সফর শেষে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নিয়ে নবীজি (সা.) পৃথিবীতে ফিরে আসেন। মুসলমানরা প্রতিদিন নামাজে ‘আত্তাহিয়্যাতু’ পাঠের মাধ্যমে এই মহিমান্বিত ঘটনার স্মরণ ও সাক্ষ্য প্রদান করে থাকেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আজ পবিত্র শবে মেরাজ, ইসলামের ইতিহাসে মহিমান্বিত ও তাৎপর্যপূর্ণ এক রাত

আপডেট সময় ১০:০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

 

আজ পবিত্র শবে মেরাজ। ‘শবে’ শব্দটি ফারসি ভাষায় রাত বোঝায় এবং আরবি ‘মেরাজ’ শব্দের অর্থ ঊর্ধ্বগমন। ইসলামের ইতিহাসে এ রাত বিশেষ মর্যাদা ও তাৎপর্যে সমুজ্জ্বল।

এই রাতে মহান আল্লাহ তায়ালার আদেশে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আসমানি সফরে অংশ নেওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেন। তিনি আরশে আজিম পর্যন্ত গমন করেন, আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফরজ বিধান গ্রহণ করে একই রাতে পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করেন। এই অনন্য ঘটনাই শবে মেরাজকে মুসলমানদের কাছে গভীর ধর্মীয় গুরুত্বে অধিষ্ঠিত করেছে।

বিজ্ঞাপন

মুসলিম বিশ্ব প্রতি বছর ২৬ রজবের দিবাগত রাতটি শবে মেরাজ হিসেবে পালন করে। বাংলাদেশেও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই পবিত্র রাতে কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির-আজকার, দোয়া ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন।

ইতিহাস ও ধর্মীয় বর্ণনায় বলা হয়েছে, নবুওত লাভের একাদশ বছরে, ৬২০ খ্রিস্টাব্দে রজব মাসের এক রাতে হজরত জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে বোরাক নামের বাহনে চড়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথমে মক্কার পবিত্র কাবা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসে গমন করেন। সেখানে তিনি অন্যান্য নবী ও রাসুলদের সঙ্গে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন।

পরবর্তী সময়ে হজরত জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গেই তিনি সপ্তম আসমান অতিক্রম করে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত সফর করেন। এ যাত্রাপথে তিনি আসমান, জান্নাত, জাহান্নাম এবং সৃষ্টিজগতের নানা রহস্য প্রত্যক্ষ করেন এবং পূর্ববর্তী বহু নবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ করেন। এরপর রফরফ নামক বিশেষ বাহনে আরোহণ করে তিনি আরশে আজিমে পৌঁছান এবং মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের দিদার লাভ করেন।

এই সফর শেষে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নিয়ে নবীজি (সা.) পৃথিবীতে ফিরে আসেন। মুসলমানরা প্রতিদিন নামাজে ‘আত্তাহিয়্যাতু’ পাঠের মাধ্যমে এই মহিমান্বিত ঘটনার স্মরণ ও সাক্ষ্য প্রদান করে থাকেন।