ঢাকা ১১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধের পরিবেশগত মূল্য: দুই সপ্তাহেই ৫০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ জামালপুরে সেতু ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ ১ ঈদের খাবার: মোগল দরবার থেকে বাঙালির ঘরে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার আছে: জাতিসংঘ মনে হয় নির্বাচনের পর দেশের মালিকানা অনেকাংশেই মানুষ ফিরে পেয়েছে: অর্থমন্ত্রী ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় গড়তে চাই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় ঈদে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা লোকজনের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে: শফিকুর রহমান ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে বিপাকে ট্রাম্প টিকটকার রাকিব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যেভাবে চলে কিলিং মিশন

রমজান ঘিরে লালমির বাম্পার ফলন, হাসি ফুটেছে ফরিদপুরের কৃষকের মুখে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৫১:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫
  • / 166

ছবি সংগৃহীত

 

রমজানকে সামনে রেখে ফরিদপুরে লালমির চাষে এসেছে বাম্পার ফলন। জেলার সদরপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার মাঠজুড়ে এখন লালমির ব্যস্ত মৌসুম। চাহিদা ও দাম দুই-ই ভালো থাকায় কৃষকের মুখে ফিরেছে স্বস্তির হাসি। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর প্রায় ৪৫ কোটি টাকার লালমি বাণিজ্যের আশা করা হচ্ছে।

বাঙ্গির মতো দেখতে হলেও লালমি স্বাদে ও ঘ্রাণে আলাদা। পানি ও স্বাদে ভরপুর এই ফল রোজাদারদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। সরেজমিনে সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে দেখা যায়, নারী-পুরুষ সবাই মিলেই ক্ষেত থেকে লালমি তুলে ধুয়ে হাটে পাঠাচ্ছেন। এখানে সরাসরি কৃষক থেকে পাইকাররা লালমি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

আরও পড়ুন  রসুনের ভালো ফলনেও লোকসানের শঙ্কায় খানসামার কৃষকরা

কৃষক আবেদ আলী বলেন, ‘আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন দারুণ হয়েছে, দামও ভালো মিলছে। খরচ কিছুটা বেশি হলেও লাভ ভালোই হচ্ছে।’ আরেক চাষি ছলেমান শেখ বলেন, ‘চার মাসেই ফসল তোলা যায়, খরচ কম, লাভ বেশি—এজন্যই লালমির দিকে ঝুঁকছে সবাই।’

নারীদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য। গৃহবধূ লাকি খাতুন বলেন, ‘লালমির মৌসুমে প্রতিদিন দুই-তিনশ টাকা রোজগার করি, সংসার চালাতে তা খুবই সাহায্য করে।’ চাষি শিউলি আক্তার বলেন, ‘বাবা অসুস্থ, তাই আমি নিজেই চাষ করি। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় লালমিই আমার ভরসা।’

চর দড়িকৃষ্ণপুর এলাকায় গড়ে উঠেছে জমজমাট লালমির হাট। ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম জানালেন, ‘প্রতিদিন এখানে চার লাখ টাকার লালমি বিক্রি হচ্ছে।’ রাসায়নিকমুক্ত হওয়ায় ফরিদপুরের লালমির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, ‘লালমি চাষ কম খরচে লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এর আবাদ বাড়ছে। চাহিদা বেশি থাকায় ফরিদপুরের লালমি এখন দেশজুড়ে পৌঁছে যাচ্ছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

রমজান ঘিরে লালমির বাম্পার ফলন, হাসি ফুটেছে ফরিদপুরের কৃষকের মুখে

আপডেট সময় ১১:৫১:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫

 

রমজানকে সামনে রেখে ফরিদপুরে লালমির চাষে এসেছে বাম্পার ফলন। জেলার সদরপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার মাঠজুড়ে এখন লালমির ব্যস্ত মৌসুম। চাহিদা ও দাম দুই-ই ভালো থাকায় কৃষকের মুখে ফিরেছে স্বস্তির হাসি। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর প্রায় ৪৫ কোটি টাকার লালমি বাণিজ্যের আশা করা হচ্ছে।

বাঙ্গির মতো দেখতে হলেও লালমি স্বাদে ও ঘ্রাণে আলাদা। পানি ও স্বাদে ভরপুর এই ফল রোজাদারদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। সরেজমিনে সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে দেখা যায়, নারী-পুরুষ সবাই মিলেই ক্ষেত থেকে লালমি তুলে ধুয়ে হাটে পাঠাচ্ছেন। এখানে সরাসরি কৃষক থেকে পাইকাররা লালমি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

আরও পড়ুন  চলনবিলের কৃষকদের স্বপ্ন এখন পানির নিচে

কৃষক আবেদ আলী বলেন, ‘আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন দারুণ হয়েছে, দামও ভালো মিলছে। খরচ কিছুটা বেশি হলেও লাভ ভালোই হচ্ছে।’ আরেক চাষি ছলেমান শেখ বলেন, ‘চার মাসেই ফসল তোলা যায়, খরচ কম, লাভ বেশি—এজন্যই লালমির দিকে ঝুঁকছে সবাই।’

নারীদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য। গৃহবধূ লাকি খাতুন বলেন, ‘লালমির মৌসুমে প্রতিদিন দুই-তিনশ টাকা রোজগার করি, সংসার চালাতে তা খুবই সাহায্য করে।’ চাষি শিউলি আক্তার বলেন, ‘বাবা অসুস্থ, তাই আমি নিজেই চাষ করি। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় লালমিই আমার ভরসা।’

চর দড়িকৃষ্ণপুর এলাকায় গড়ে উঠেছে জমজমাট লালমির হাট। ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম জানালেন, ‘প্রতিদিন এখানে চার লাখ টাকার লালমি বিক্রি হচ্ছে।’ রাসায়নিকমুক্ত হওয়ায় ফরিদপুরের লালমির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, ‘লালমি চাষ কম খরচে লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এর আবাদ বাড়ছে। চাহিদা বেশি থাকায় ফরিদপুরের লালমি এখন দেশজুড়ে পৌঁছে যাচ্ছে।’