ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঈদের উৎসব পরবর্তী গ্যাস ও বদহজম দূর করার সহজ কিছু উপায় জিয়াউর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন প্রশাসনের শীর্ষস্তরে বড় রদবদল: ১২ জন নতুন সচিব, ৫ জনকে প্রত্যাহার তেলআবিবের আকাশে হাজার হাজার কাক, যে কারণে আতঙ্কে ইসরাইলিরা রাজারবাগে হামলা ও স্বাধীনতার ঘোষণার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তৈরি করে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র ৩০ বছর বয়সে প্রাণ হারালেন অভিনেত্রী ইরানিদের অস্ট্রেলিয়ায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞা: ৭ হাজারেরও বেশি ভিসাধারীর ওপর প্রভাব মহান স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে বিরোধী দলের দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদন স্বাধীনতার ৫৬ বছরে বাংলাদেশ: গৌরব, ত্যাগ আর অগ্রযাত্রার দিন মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের পাল্টা ৫ শর্ত প্রদান

এলপিজি সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন উদ্যোগ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৫৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • / 25

ছবি: সংগৃহীত

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একক ঋণগ্রহীতার সীমা শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনে নির্ধারিত ২৫ শতাংশ ঋণসীমার শর্ত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে, যা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

নতুন সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা কত হবে, তা আলাদাভাবে নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন  তরুণদের অংশগ্রহণে সংকট কাটিয়ে উঠবে বাংলাদেশ: অধ্যাপক ইউনূস

সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় ধারাবাহিক উদ্যোগ :

এলপিজি সরবরাহে টানাপড়েন মোকাবিলায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে একাধিক নীতিগত ছাড় দিয়েছে। এর আগে জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এলপিজি আমদানিতে বাকিতে কেনার সুযোগ দেয়।

এতে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট, বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বায়ার্স বা সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটে এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। ঋণের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় সর্বোচ্চ ২৭০ দিন।

বাজারে অস্থিরতা ও মূল্য বৃদ্ধি :

সরবরাহ সংকটের কারণে গত কয়েক মাস ধরে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে অস্থিরতা দেখা যায়। বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডারের দাম ৩৫০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়।

পরবর্তীতে সরকার শুল্ক ও ভ্যাটে ছাড় দেয়। ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাবও অনুমোদন পায়।

তবে এসব পদক্ষেপের পরও বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৫ টাকা কমিয়ে ১৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করলেও বাস্তবে সেই দামে পণ্য পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব :

দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ যেমন কাতার, কুয়েত ও ওমান থেকে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে :

সরবরাহ ও দামে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের গুরুত্ব :

বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত এলপিজি আমদানির অর্থায়ন সহজ করবে এবং সরবরাহ চেইনে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে।

তবে এই সুবিধা শুধু এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। অন্য কোনো পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে একক ঋণগ্রহীতা সীমা শিথিলের সুযোগ থাকছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নিউজটি শেয়ার করুন

এলপিজি সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন উদ্যোগ

আপডেট সময় ০৯:৫৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একক ঋণগ্রহীতার সীমা শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনে নির্ধারিত ২৫ শতাংশ ঋণসীমার শর্ত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে, যা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

নতুন সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা কত হবে, তা আলাদাভাবে নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন  তরুণদের অংশগ্রহণে সংকট কাটিয়ে উঠবে বাংলাদেশ: অধ্যাপক ইউনূস

সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় ধারাবাহিক উদ্যোগ :

এলপিজি সরবরাহে টানাপড়েন মোকাবিলায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে একাধিক নীতিগত ছাড় দিয়েছে। এর আগে জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এলপিজি আমদানিতে বাকিতে কেনার সুযোগ দেয়।

এতে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট, বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বায়ার্স বা সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটে এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। ঋণের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় সর্বোচ্চ ২৭০ দিন।

বাজারে অস্থিরতা ও মূল্য বৃদ্ধি :

সরবরাহ সংকটের কারণে গত কয়েক মাস ধরে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে অস্থিরতা দেখা যায়। বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডারের দাম ৩৫০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়।

পরবর্তীতে সরকার শুল্ক ও ভ্যাটে ছাড় দেয়। ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাবও অনুমোদন পায়।

তবে এসব পদক্ষেপের পরও বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৫ টাকা কমিয়ে ১৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করলেও বাস্তবে সেই দামে পণ্য পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব :

দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ যেমন কাতার, কুয়েত ও ওমান থেকে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে :

সরবরাহ ও দামে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের গুরুত্ব :

বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত এলপিজি আমদানির অর্থায়ন সহজ করবে এবং সরবরাহ চেইনে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে।

তবে এই সুবিধা শুধু এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। অন্য কোনো পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে একক ঋণগ্রহীতা সীমা শিথিলের সুযোগ থাকছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।