ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ব্যাংক পেতে যাচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৫৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
  • / 296

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ২০২৫’ নামে একটি খসড়া অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপর আর্থিক খাতের পূর্ণ কর্তৃত্ব, স্বায়ত্তশাসন এবং জবাবদিহিমূলক ক্ষমতা অর্পণ করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই খসড়া আইন ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের পর্যালোচনা শেষ করেছে। অনুমান করা হচ্ছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই অধ্যাদেশ আকারে এটি প্রণয়ন করা হতে পারে। আইন কার্যকর হলে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে এবং কেবল সংসদের কাছে জবাবদিহি করবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের বিতর্কিত অধ্যায়ের অবসান ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধে জার্মান চ্যান্সেলরের সমর্থন

নতুন আইনের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক সংবিধান স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পাবে, যা রাষ্ট্রের একটি সাংবিধানিক স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হবে। গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরদের ছয় বছরের মেয়াদে নিয়োগের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা সংসদের অনুমোদন এবং প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশের ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে। অপসারণের ক্ষেত্রে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং আনুষ্ঠানিক শুনানির সুযোগ থাকবে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, নিয়োগপ্রাপ্ত গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নররা দায়িত্ব নেওয়ার আগে দেশের প্রধান বিচারপতির সামনে শপথ গ্রহণ করবেন, যা তাদের সাংবিধানিক মর্যাদাকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে।

নতুন আইনের আরেকটি বড় পরিবর্তন হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন দেওয়া। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক খাতের একক নিয়ন্ত্রক এবং তদারকি কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে। রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি উভয় ধরনের ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। পাশাপাশি মুদ্রানীতি নির্ধারণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ পাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংককে ‘নির্বাহী বিভাগের অধীন একটি সংযুক্ত দফতর’ থেকে বের করে এনে সত্যিকারের আর্থিক সংবিধান রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ব্যাংক পেতে যাচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা

আপডেট সময় ০৪:৫৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

 

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ২০২৫’ নামে একটি খসড়া অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপর আর্থিক খাতের পূর্ণ কর্তৃত্ব, স্বায়ত্তশাসন এবং জবাবদিহিমূলক ক্ষমতা অর্পণ করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই খসড়া আইন ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের পর্যালোচনা শেষ করেছে। অনুমান করা হচ্ছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই অধ্যাদেশ আকারে এটি প্রণয়ন করা হতে পারে। আইন কার্যকর হলে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে এবং কেবল সংসদের কাছে জবাবদিহি করবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের বিতর্কিত অধ্যায়ের অবসান ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  আ.লীগ নামে কোনো রাজনৈতিক দল রাজনীতি করতে পারবে না: নুর

নতুন আইনের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক সংবিধান স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পাবে, যা রাষ্ট্রের একটি সাংবিধানিক স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হবে। গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরদের ছয় বছরের মেয়াদে নিয়োগের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা সংসদের অনুমোদন এবং প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশের ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে। অপসারণের ক্ষেত্রে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং আনুষ্ঠানিক শুনানির সুযোগ থাকবে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, নিয়োগপ্রাপ্ত গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নররা দায়িত্ব নেওয়ার আগে দেশের প্রধান বিচারপতির সামনে শপথ গ্রহণ করবেন, যা তাদের সাংবিধানিক মর্যাদাকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে।

নতুন আইনের আরেকটি বড় পরিবর্তন হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন দেওয়া। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক খাতের একক নিয়ন্ত্রক এবং তদারকি কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে। রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি উভয় ধরনের ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। পাশাপাশি মুদ্রানীতি নির্ধারণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ পাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংককে ‘নির্বাহী বিভাগের অধীন একটি সংযুক্ত দফতর’ থেকে বের করে এনে সত্যিকারের আর্থিক সংবিধান রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।