ঢাকা ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩২ ইউপি ভবনে বসছে সোলার প্যানেল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪১:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 29

ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচ উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ও ৩২টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবনে বসানো হচ্ছে সোলার প্যানেল। পাশাপাশি জেলার প্রতিটি ইউনিয়নের স্থায়ী হাট-বাজারের সরকারি ভবনের ছাদ বা টিনের শেডেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। উৎপাদিত বিদ্যুতের অতিরিক্ত অংশ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে আয় করবে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পৃথক সরকারি প্রজ্ঞাপন ও স্মারকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিশেষ বরাদ্দ খাত থেকে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে চোরাকারবারি ধাওয়া- গুলি বর্ষণ, জব্দ ১০ ভারতীয় মহিষ

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা-২ শাখার উপসচিব সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে পাঁচটি উপজেলা পরিষদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য অর্থ বরাদ্দের কথা জানানো হয়। এতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট—প্রতিটি উপজেলার জন্য ২০ লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এই অর্থে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন এবং উপজেলা অডিটোরিয়ামের ছাদে সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

অন্যদিকে জেলার পাঁচ উপজেলার ৩২টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে সোলার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য প্রতিটি ইউপির বিপরীতে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ-২ শাখার উপসচিব বিষ্ণুপদ পাল স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ বরাদ্দের তথ্য জানানো হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোট ৪৫টি ইউনিয়ন পরিষদ থাকলেও এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে ৩২টি। ফলে ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ এই ধাপের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাইরে রয়েছে।

বরাদ্দের তালিকা অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন—বালিয়াডাঙ্গা, বারঘরিয়া, চরঅনুপনগর, চরবাগডাঙ্গা, দেবীনগর, গোবরাতলা, ইসলামপুর, ঝিলিম, মহারাজপুর, নারায়ণপুর, রানীহাটি, শাহজাহানপুর ও সুন্দরপুর ইউপি ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে।

শিবগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়ন—চককীর্তি, দাইপুকুরিয়া, ধাইনগর, দুর্লভপুর, মোবারকপুর, মনাকষা, শাহবাজপুর ও শ্যামপুরও এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।

গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা, গোমস্তাপুর, পার্বতীপুর, রাধানগর ও রহনপুর—এই পাঁচ ইউনিয়ন; নাচোল উপজেলার ফতেপুর, কসবা, নাচোল ও নেজামপুর—চার ইউনিয়ন এবং ভোলাহাট উপজেলার দলদলী ও জামবাড়ীয়া—দুই ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।

এর বাইরে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের স্থায়ী হাট-বাজারেও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা-২ শাখার উপসচিব সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত পৃথক স্মারকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, স্থায়ী হাট-বাজারের সরকারি ভবনের টিনের শেড ও বহুতল ভবনের ছাদে ব্যাটারিসহ সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলেও এসব ব্যবস্থায় অন্তত দুই ঘণ্টার ব্যাকআপ সুবিধা পাওয়া যাবে।

হাট-বাজারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে পৃথক সরকারি অর্থ বরাদ্দ না দিয়ে হাট-বাজার ইজারা থেকে পাওয়া আয়ের ১০ শতাংশ এবং উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ তহবিলের ১০ শতাংশ অর্থ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে রাজস্ব পাবে। এ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে চালু করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু হলে দাপ্তরিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ডিজিটাল সেবা কার্যক্রমও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। এতে সরকারি সেবা নিতে আসা মানুষের ভোগান্তিও কমতে পারে।

সচেতন নাগরিকরাও মনে করছেন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিদিন জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা নিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ আসেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এসব সেবা ও ডিজিটাল সেবাকেন্দ্রের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তিতে পড়তে হতো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান বলেন, চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত এই সমস্যা আরও প্রকট। সরকারের উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে নাগরিক সেবা দ্রুত ও কম ভোগান্তিতে পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে তা দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেও ভূমিকা রাখবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩২ ইউপি ভবনে বসছে সোলার প্যানেল

আপডেট সময় ১২:৪১:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচ উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ও ৩২টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবনে বসানো হচ্ছে সোলার প্যানেল। পাশাপাশি জেলার প্রতিটি ইউনিয়নের স্থায়ী হাট-বাজারের সরকারি ভবনের ছাদ বা টিনের শেডেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। উৎপাদিত বিদ্যুতের অতিরিক্ত অংশ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে আয় করবে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পৃথক সরকারি প্রজ্ঞাপন ও স্মারকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিশেষ বরাদ্দ খাত থেকে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ভারত থেকে ফেরার পথে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ১০ বাংলাদেশি আটক

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা-২ শাখার উপসচিব সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে পাঁচটি উপজেলা পরিষদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য অর্থ বরাদ্দের কথা জানানো হয়। এতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট—প্রতিটি উপজেলার জন্য ২০ লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এই অর্থে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন এবং উপজেলা অডিটোরিয়ামের ছাদে সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

অন্যদিকে জেলার পাঁচ উপজেলার ৩২টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে সোলার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য প্রতিটি ইউপির বিপরীতে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ-২ শাখার উপসচিব বিষ্ণুপদ পাল স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ বরাদ্দের তথ্য জানানো হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোট ৪৫টি ইউনিয়ন পরিষদ থাকলেও এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে ৩২টি। ফলে ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ এই ধাপের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাইরে রয়েছে।

বরাদ্দের তালিকা অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন—বালিয়াডাঙ্গা, বারঘরিয়া, চরঅনুপনগর, চরবাগডাঙ্গা, দেবীনগর, গোবরাতলা, ইসলামপুর, ঝিলিম, মহারাজপুর, নারায়ণপুর, রানীহাটি, শাহজাহানপুর ও সুন্দরপুর ইউপি ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে।

শিবগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়ন—চককীর্তি, দাইপুকুরিয়া, ধাইনগর, দুর্লভপুর, মোবারকপুর, মনাকষা, শাহবাজপুর ও শ্যামপুরও এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।

গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা, গোমস্তাপুর, পার্বতীপুর, রাধানগর ও রহনপুর—এই পাঁচ ইউনিয়ন; নাচোল উপজেলার ফতেপুর, কসবা, নাচোল ও নেজামপুর—চার ইউনিয়ন এবং ভোলাহাট উপজেলার দলদলী ও জামবাড়ীয়া—দুই ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।

এর বাইরে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের স্থায়ী হাট-বাজারেও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা-২ শাখার উপসচিব সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত পৃথক স্মারকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, স্থায়ী হাট-বাজারের সরকারি ভবনের টিনের শেড ও বহুতল ভবনের ছাদে ব্যাটারিসহ সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলেও এসব ব্যবস্থায় অন্তত দুই ঘণ্টার ব্যাকআপ সুবিধা পাওয়া যাবে।

হাট-বাজারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে পৃথক সরকারি অর্থ বরাদ্দ না দিয়ে হাট-বাজার ইজারা থেকে পাওয়া আয়ের ১০ শতাংশ এবং উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ তহবিলের ১০ শতাংশ অর্থ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে রাজস্ব পাবে। এ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে চালু করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু হলে দাপ্তরিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ডিজিটাল সেবা কার্যক্রমও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। এতে সরকারি সেবা নিতে আসা মানুষের ভোগান্তিও কমতে পারে।

সচেতন নাগরিকরাও মনে করছেন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিদিন জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা নিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ আসেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এসব সেবা ও ডিজিটাল সেবাকেন্দ্রের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তিতে পড়তে হতো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান বলেন, চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত এই সমস্যা আরও প্রকট। সরকারের উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে নাগরিক সেবা দ্রুত ও কম ভোগান্তিতে পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে তা দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেও ভূমিকা রাখবে।