ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সেনা কর্মকর্তা ও ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারণা: দেশবাসীকে সেনাবাহিনীর সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন রুট ঘোষণা; অমান্য করলেই ধ্বংসের হুঁশিয়ারি চোখের নিচের কালো দাগ: নিছক দাগ নাকি বড় কোনো রোগের সংকেত সেন্ট লুসিয়া প্রকৃতি, পাহাড় আর সমুদ্রের মোহনীয় দ্বীপ গৌরনদীতে ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ল ট্রাক ফতুল্লায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ: শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৩ হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালের ১০ বছরের কারাদণ্ড শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা: সাবেক দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন উত্তরাধিকার সূত্রে সন্তানের শরীর ও মনে মায়ের জিনের প্রভাব কতটুকু ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহ নিহত

সৌদিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: প্রাণ হারালেন একই পরিবারের ৪ জনসহ ৫ বাংলাদেশি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪৭:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 117

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে বাসায় ফেরার আনন্দ বিষাদে রূপ নিল এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়। সৌদি আরবের আবহা এলাকায় এক ভয়াবহ মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় পরিবারের আরেক শিশুসন্তান গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।
নিহতদের সবার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচমুখী এলাকায়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ওই গ্রামজুড়ে এখন শোকের মাতম চলছে।

নিহতরা হলেন—প্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান (৪৫), তাঁর স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমি (৩৬), বড় মেয়ে মোহনা আক্তার (১৩) এবং মাত্র দেড় বছর বয়সী ছোট মেয়ে সুবাহ আক্তার। এই দুর্ঘটনায় তাঁদের বহনকারী গাড়িচালক হোসেন মোহাম্মদ জিলানীও (৩০) প্রাণ হারিয়েছেন। জিলানীর বাড়িও একই এলাকায়।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া মেজ মেয়ে ফাইজা আক্তার (১১) বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

নিহত মিজানুর রহমানের বড় ভাই বাহারুল আলম জানান, মিজানুর দীর্ঘ দিন ধরে সৌদি আরবের আবহা শহরে হোটেল ব্যবসা করে আসছিলেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যাকে নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে পবিত্র মক্কায় যান। ওমরাহ শেষে রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে (সৌদি সময়) নিজস্ব মাইক্রোবাসে করে তাঁরা মক্কা থেকে নিজেদের আবাসস্থল আবহা শহরে ফিরছিলেন। পথে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়িটি থেকে উদ্ধারকারীরা পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

আরও পড়ুন  হজযাত্রায় এখন পর্যন্ত সৌদি গেছেন ১৭ হাজার ৬৯৪ জন

একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মিজানুরের বৃদ্ধ বাবা শহিদ উল্যাহ ও মা খুকি বেগম। রামগঞ্জের পাঁচমুখী এলাকায় তাঁদের বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন সবাই। খুকি বেগম বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন, আর জ্ঞান ফিরলেই সন্তানদের নাম ধরে বিলাপ করছেন।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দীন চৌধুরী জানিয়েছেন, ঘটনার সংবাদ তাঁরা পেয়েছেন এবং পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। মরদেহগুলো দেশে আনার বিষয়ে পরিবার সিদ্ধান্ত নিলে পুলিশ ও প্রশাসন সব ধরনের দাপ্তরিক সহযোগিতা প্রদান করবে।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাশিদ বিন এনাম এই শোকাবহ ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সৌদিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: প্রাণ হারালেন একই পরিবারের ৪ জনসহ ৫ বাংলাদেশি

আপডেট সময় ০৭:৪৭:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে বাসায় ফেরার আনন্দ বিষাদে রূপ নিল এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়। সৌদি আরবের আবহা এলাকায় এক ভয়াবহ মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় পরিবারের আরেক শিশুসন্তান গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।
নিহতদের সবার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচমুখী এলাকায়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ওই গ্রামজুড়ে এখন শোকের মাতম চলছে।

নিহতরা হলেন—প্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান (৪৫), তাঁর স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমি (৩৬), বড় মেয়ে মোহনা আক্তার (১৩) এবং মাত্র দেড় বছর বয়সী ছোট মেয়ে সুবাহ আক্তার। এই দুর্ঘটনায় তাঁদের বহনকারী গাড়িচালক হোসেন মোহাম্মদ জিলানীও (৩০) প্রাণ হারিয়েছেন। জিলানীর বাড়িও একই এলাকায়।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া মেজ মেয়ে ফাইজা আক্তার (১১) বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

নিহত মিজানুর রহমানের বড় ভাই বাহারুল আলম জানান, মিজানুর দীর্ঘ দিন ধরে সৌদি আরবের আবহা শহরে হোটেল ব্যবসা করে আসছিলেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যাকে নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে পবিত্র মক্কায় যান। ওমরাহ শেষে রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে (সৌদি সময়) নিজস্ব মাইক্রোবাসে করে তাঁরা মক্কা থেকে নিজেদের আবাসস্থল আবহা শহরে ফিরছিলেন। পথে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়িটি থেকে উদ্ধারকারীরা পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

আরও পড়ুন  ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশী নিহত

একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মিজানুরের বৃদ্ধ বাবা শহিদ উল্যাহ ও মা খুকি বেগম। রামগঞ্জের পাঁচমুখী এলাকায় তাঁদের বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন সবাই। খুকি বেগম বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন, আর জ্ঞান ফিরলেই সন্তানদের নাম ধরে বিলাপ করছেন।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দীন চৌধুরী জানিয়েছেন, ঘটনার সংবাদ তাঁরা পেয়েছেন এবং পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। মরদেহগুলো দেশে আনার বিষয়ে পরিবার সিদ্ধান্ত নিলে পুলিশ ও প্রশাসন সব ধরনের দাপ্তরিক সহযোগিতা প্রদান করবে।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাশিদ বিন এনাম এই শোকাবহ ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।