ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কলম্বিয়া: আন্দেস, আমাজন ও ক্যারিবিয়ানের মিলনভূমি ইরানি হামলায় আহত দুই প্রবাসীকে দেখতে হাসপাতালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইরানের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সাহায্যের প্রস্তাব ইউক্রেনের আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ৯ এপ্রিল: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষণা পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নেপালে জেন-জি প্রজন্মের জোয়ার; নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানে রায় দিচ্ছে ভোটাররা আত্মসমর্পণ করবে না হিজবুল্লাহ খুলনায় শ্রমিক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা, আটক ১ ভারত মহাসাগরে ডুবল ইরানের যুদ্ধজাহাজ, ৮৭ মরদেহ উদ্ধার দুবাই পালাতে চড়া খরচ!

নবাবগঞ্জে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে হামলা, জামায়াত কর্মী গুরুতর আহত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 350

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-১ আসনের নবাবগঞ্জ উপজেলায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক সহিংস হামলায় জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় যুবদল নেতাকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পবিত্র শবে বরাতের রাতে নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত আমির হোসেন (২৩) জামায়াতে ইসলামীর কর্মী এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বামুয়াহাটিস্থ বাঁশের মেলার পাশে অবস্থানকালে আমির হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগে বলা হয়, যুবদল নেতা মো. কামাল (৪৫) হামলায় নেতৃত্ব দেন। তার সঙ্গে মো. আতিক (৩৫), মো. মজনু (৫০), মো. সাকিব (২২), মো. সাকিল (২১), মো. রাব্বি (২২), মো. জন (২০), মো. বায়েজিত (২১), মো. পারভেজ (১৯) ও মো. ইব্রাহীম (১৯) অংশ নেন। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ৫ থেকে ৬ জন হামলাকারী ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  নির্যাতিত শিশু আছিয়ার মৃত্যু, বিচার দাবি জামায়াত আমিরের

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমির হোসেনের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। একপর্যায়ে প্রধান আসামি মো. কামাল ধারালো দা দিয়ে তার মাথার পেছনে কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে অন্যরা ছুরি ও রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।

স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহত আমির হোসেনকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পর ৫ ফেব্রুয়ারি নবাবগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ১৫৬, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭ ও ৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার আলম আজাদ জানান, তিনি আহত ব্যক্তির খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে গেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।”

এদিকে, অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. কামাল বা তার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হামলার প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামী দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি বাগমারা বাজার থেকে শুরু হয়ে নবাবগঞ্জ গোলচত্বর ঘুরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

নবাবগঞ্জে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে হামলা, জামায়াত কর্মী গুরুতর আহত

আপডেট সময় ০৪:১২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা-১ আসনের নবাবগঞ্জ উপজেলায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক সহিংস হামলায় জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় যুবদল নেতাকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পবিত্র শবে বরাতের রাতে নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত আমির হোসেন (২৩) জামায়াতে ইসলামীর কর্মী এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বামুয়াহাটিস্থ বাঁশের মেলার পাশে অবস্থানকালে আমির হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগে বলা হয়, যুবদল নেতা মো. কামাল (৪৫) হামলায় নেতৃত্ব দেন। তার সঙ্গে মো. আতিক (৩৫), মো. মজনু (৫০), মো. সাকিব (২২), মো. সাকিল (২১), মো. রাব্বি (২২), মো. জন (২০), মো. বায়েজিত (২১), মো. পারভেজ (১৯) ও মো. ইব্রাহীম (১৯) অংশ নেন। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ৫ থেকে ৬ জন হামলাকারী ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  মির্জা ফখরুলের সুস্থতা কামনা করলেন জামায়াত আমির

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমির হোসেনের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। একপর্যায়ে প্রধান আসামি মো. কামাল ধারালো দা দিয়ে তার মাথার পেছনে কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে অন্যরা ছুরি ও রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।

স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহত আমির হোসেনকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পর ৫ ফেব্রুয়ারি নবাবগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ১৫৬, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭ ও ৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার আলম আজাদ জানান, তিনি আহত ব্যক্তির খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে গেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।”

এদিকে, অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. কামাল বা তার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হামলার প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামী দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি বাগমারা বাজার থেকে শুরু হয়ে নবাবগঞ্জ গোলচত্বর ঘুরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।