ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঈদে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা লোকজনের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে: শফিকুর রহমান ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে বিপাকে ট্রাম্প টিকটকার রাকিব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যেভাবে চলে কিলিং মিশন ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু রাজবাড়ীতে রেলব্রিজে ধাক্কা লেগে ট্রেনের ছাদে থাকা যুবকের মৃত্যু শাহেদ ধাঁচে নতুন ড্রোন: ব্যাপক উৎপাদনে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘লুকাস’ সস্তা ড্রোনে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের সমীকরণ: ব্যয়ের অসমতায় চাপে প্রচলিত শক্তি আফগানিস্তানে আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কমপ্লেক্সের একটি ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলা বিশ্বজুড়ে তিন দিন ঈদ: আজ, কাল ও পরশু কবে কোথায় জানুন

নতুন ৩ জাতের ধান উদ্ভাবন করেছে গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৪৬:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
  • / 548

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবন করেছে তিনটি নতুন ধানের জাত যেগুলো উচ্চফলনশীল, লবণাক্ততা সহনশীল এবং ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী। জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৪তম সভায় গত বুধবার এসব জাত অনুমোদন পায়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্রি’র মহাপরিচালক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলো হলো ব্রি ধান-১১২, ব্রি ধান-১১৩ এবং ব্রি ধান-১১৪। এর মধ্যে ব্রি-১১২ লবণাক্ততা সহনশীল, ব্রি-১১৩ উচ্চফলনশীল বোরো এবং ব্রি-১১৪ ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী।

ব্রি ধান-১১২ একটি মাঝারি জীবনকালীন রোপা আমনের জাত, যা লবণাক্ততা সহ্য করতে সক্ষম। ডিগপাতা খাড়া এবং গাছের কাণ্ড মজবুত। হেক্টরপ্রতি ফলন ৪.১৪ থেকে ৬.১২ টন পর্যন্ত হতে পারে। গাছের উচ্চতা প্রায় ১০৫ সেন্টিমিটার এবং জীবনকাল ১২০-১২৫ দিন। চাল মাঝারি চিকন ও সাদা, ভাত ঝরঝরে এবং শীষ থেকে সহজে ধান পড়ে না। এই জাতটি উপকূলীয় এলাকায় চাষের পর লবণ সহনশীল সরিষা বা সূর্যমুখী চাষে সহায়ক হবে।

ব্রি ধান-১১৩ হচ্ছে বোরো মৌসুমের জন্য একটি বিকল্প উচ্চফলনশীল জাত। এর গড় জীবনকাল ১৪৩ দিন এবং হেক্টরপ্রতি ফলন ৮.১৫ টন, যা ব্রি ধান-৮৮ এর চেয়ে প্রায় ১১.৫% বেশি। উপযুক্ত পরিচর্যায় ১০.১ টন পর্যন্ত ফলন দিতে পারে। চাল দেখতে অনেকটা নাজিরশাইলের মতো, অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৮% এবং প্রোটিন ৮.৪%। গাছ শক্ত ও মজবুত হওয়ায় সহজে হেলে পড়ে না।

ব্রি ধান-১১৪ একটি ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী জাত, যা দীর্ঘ জীবনকালীন। এর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৭.৭৬ টন। দানা মাঝারি মোটা ও সোনালি বর্ণের, ভাত ঝরঝরে এবং পাতার রং গাঢ় সবুজ। গাছ শক্ত হওয়ায় ঢলে পড়ে না।

ব্রি’র মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান ড. খোন্দকার মো. ইফতেখারুদ্দৌলা বলেন, “নতুন জাতগুলোর মধ্যে কিছু ভিন্নতা থাকলেও, প্রতিটি জাত অধিক ফলন দেবে। কৃষকেরা এ জাতগুলো চাষ করে ভালো লাভ করতে পারবেন।”

ব্রি এখন পর্যন্ত মোট ১২১টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে, যার মধ্যে ৮টি হাইব্রিড। এই নতুন তিনটি জাত দেশের খাদ্য উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

নতুন ৩ জাতের ধান উদ্ভাবন করেছে গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)

আপডেট সময় ০৫:৪৬:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

 

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবন করেছে তিনটি নতুন ধানের জাত যেগুলো উচ্চফলনশীল, লবণাক্ততা সহনশীল এবং ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী। জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৪তম সভায় গত বুধবার এসব জাত অনুমোদন পায়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্রি’র মহাপরিচালক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলো হলো ব্রি ধান-১১২, ব্রি ধান-১১৩ এবং ব্রি ধান-১১৪। এর মধ্যে ব্রি-১১২ লবণাক্ততা সহনশীল, ব্রি-১১৩ উচ্চফলনশীল বোরো এবং ব্রি-১১৪ ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী।

ব্রি ধান-১১২ একটি মাঝারি জীবনকালীন রোপা আমনের জাত, যা লবণাক্ততা সহ্য করতে সক্ষম। ডিগপাতা খাড়া এবং গাছের কাণ্ড মজবুত। হেক্টরপ্রতি ফলন ৪.১৪ থেকে ৬.১২ টন পর্যন্ত হতে পারে। গাছের উচ্চতা প্রায় ১০৫ সেন্টিমিটার এবং জীবনকাল ১২০-১২৫ দিন। চাল মাঝারি চিকন ও সাদা, ভাত ঝরঝরে এবং শীষ থেকে সহজে ধান পড়ে না। এই জাতটি উপকূলীয় এলাকায় চাষের পর লবণ সহনশীল সরিষা বা সূর্যমুখী চাষে সহায়ক হবে।

ব্রি ধান-১১৩ হচ্ছে বোরো মৌসুমের জন্য একটি বিকল্প উচ্চফলনশীল জাত। এর গড় জীবনকাল ১৪৩ দিন এবং হেক্টরপ্রতি ফলন ৮.১৫ টন, যা ব্রি ধান-৮৮ এর চেয়ে প্রায় ১১.৫% বেশি। উপযুক্ত পরিচর্যায় ১০.১ টন পর্যন্ত ফলন দিতে পারে। চাল দেখতে অনেকটা নাজিরশাইলের মতো, অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৮% এবং প্রোটিন ৮.৪%। গাছ শক্ত ও মজবুত হওয়ায় সহজে হেলে পড়ে না।

ব্রি ধান-১১৪ একটি ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী জাত, যা দীর্ঘ জীবনকালীন। এর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৭.৭৬ টন। দানা মাঝারি মোটা ও সোনালি বর্ণের, ভাত ঝরঝরে এবং পাতার রং গাঢ় সবুজ। গাছ শক্ত হওয়ায় ঢলে পড়ে না।

ব্রি’র মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান ড. খোন্দকার মো. ইফতেখারুদ্দৌলা বলেন, “নতুন জাতগুলোর মধ্যে কিছু ভিন্নতা থাকলেও, প্রতিটি জাত অধিক ফলন দেবে। কৃষকেরা এ জাতগুলো চাষ করে ভালো লাভ করতে পারবেন।”

ব্রি এখন পর্যন্ত মোট ১২১টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে, যার মধ্যে ৮টি হাইব্রিড। এই নতুন তিনটি জাত দেশের খাদ্য উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।