ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঈদে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা লোকজনের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে: শফিকুর রহমান ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে বিপাকে ট্রাম্প টিকটকার রাকিব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যেভাবে চলে কিলিং মিশন ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু রাজবাড়ীতে রেলব্রিজে ধাক্কা লেগে ট্রেনের ছাদে থাকা যুবকের মৃত্যু শাহেদ ধাঁচে নতুন ড্রোন: ব্যাপক উৎপাদনে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘লুকাস’ সস্তা ড্রোনে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের সমীকরণ: ব্যয়ের অসমতায় চাপে প্রচলিত শক্তি আফগানিস্তানে আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কমপ্লেক্সের একটি ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলা বিশ্বজুড়ে তিন দিন ঈদ: আজ, কাল ও পরশু কবে কোথায় জানুন

পটুয়াখালীর লবণাক্ত জমিতে সোনালি সম্ভাবনার বোরো ধান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৪৫:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
  • / 230

ছবি সংগৃহীত

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লবণাক্ত জমিগুলোতে এখন দোল খাচ্ছে সোনালি বোরো ধানের ক্ষেত। আগে যেখানে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় আমন ধানই ছিল একমাত্র ভরসা, সেই জমিগুলো বছরের বাকি সময় পড়ে থাকত অনাবাদি। কিন্তু এখন বদলে গেছে চিত্র। স্থানীয় কৃষকেরা লবণাক্ত জমিতে লবণ সহিষ্ণু উন্নত জাতের বোরো ধান চাষে সফলতা পেয়েছেন।

এই অঞ্চলের কৃষকদের মতে, আগে তারা শুধুমাত্র বর্ষার মৌসুমে আমন ধান চাষ করতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে নদী ও জলাশয়ের নোনা পানির প্রভাবে জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছিল। অনেকেই হতাশ হয়ে চাষাবাদ থেকে পিছিয়ে পড়ছিলেন। তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবং উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় তারা এখন লবণ সহিষ্ণু জাতের ধান চাষে আগ্রহী হয়েছেন এবং ভালো ফলনও পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন  টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত ২১ জেলার কৃষি, তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন ও ফসলি জমি

চলতি মৌসুমে কলাপাড়ায় প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে লবণ সহিষ্ণু বোরো ধানের চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি। কৃষকেরা জানান, যদি সঠিক সময়মতো সেচের পানি পাওয়া যেত, তাহলে উৎপাদন আরও দ্বিগুণ হতো।

কৃষক মুজিবুর রহমান বলেন, “আগে এই জমিতে শুধু আমন ধান হতো। এখন বোরো ধানও হচ্ছে। লাভও ভালো হচ্ছে। তবে পানির সমস্যা না থাকলে ফসল আরও ভালো হতো।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কলাপাড়া উপজেলা কর্মকর্তা জানান, “আমরা কৃষকদের উন্নত জাত ও চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। লবণাক্ত জমিতে চাষের জন্য ‘বিনা-৮’, ‘বিআর-২৩’ এর মতো লবণ সহিষ্ণু জাতের ধান সরবরাহ করা হয়েছে। কৃষকেরা এ উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন।”

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে দেখা গেছে, বোরো ধানের সবুজ ক্ষেত এখন প্রায় সোনালি রঙ ধারণ করেছে। কৃষকেরা জমিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা আশাবাদী, ভালো দাম পেলে এ বছরের পরিশ্রম সফল হবে।

এভাবে কলাপাড়ার লবণাক্ত জমিগুলো এখন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। সময়মতো পানি সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকলে আগামী দিনে এই এলাকা আরও বেশি ধান উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পটুয়াখালীর লবণাক্ত জমিতে সোনালি সম্ভাবনার বোরো ধান

আপডেট সময় ০৪:৪৫:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লবণাক্ত জমিগুলোতে এখন দোল খাচ্ছে সোনালি বোরো ধানের ক্ষেত। আগে যেখানে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় আমন ধানই ছিল একমাত্র ভরসা, সেই জমিগুলো বছরের বাকি সময় পড়ে থাকত অনাবাদি। কিন্তু এখন বদলে গেছে চিত্র। স্থানীয় কৃষকেরা লবণাক্ত জমিতে লবণ সহিষ্ণু উন্নত জাতের বোরো ধান চাষে সফলতা পেয়েছেন।

এই অঞ্চলের কৃষকদের মতে, আগে তারা শুধুমাত্র বর্ষার মৌসুমে আমন ধান চাষ করতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে নদী ও জলাশয়ের নোনা পানির প্রভাবে জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছিল। অনেকেই হতাশ হয়ে চাষাবাদ থেকে পিছিয়ে পড়ছিলেন। তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবং উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় তারা এখন লবণ সহিষ্ণু জাতের ধান চাষে আগ্রহী হয়েছেন এবং ভালো ফলনও পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন  বাগেরহাটে লবণাক্ত জমিতে সবজির বিপ্লব: কৃষকদের মুখে হাসি

চলতি মৌসুমে কলাপাড়ায় প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে লবণ সহিষ্ণু বোরো ধানের চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি। কৃষকেরা জানান, যদি সঠিক সময়মতো সেচের পানি পাওয়া যেত, তাহলে উৎপাদন আরও দ্বিগুণ হতো।

কৃষক মুজিবুর রহমান বলেন, “আগে এই জমিতে শুধু আমন ধান হতো। এখন বোরো ধানও হচ্ছে। লাভও ভালো হচ্ছে। তবে পানির সমস্যা না থাকলে ফসল আরও ভালো হতো।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কলাপাড়া উপজেলা কর্মকর্তা জানান, “আমরা কৃষকদের উন্নত জাত ও চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। লবণাক্ত জমিতে চাষের জন্য ‘বিনা-৮’, ‘বিআর-২৩’ এর মতো লবণ সহিষ্ণু জাতের ধান সরবরাহ করা হয়েছে। কৃষকেরা এ উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন।”

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে দেখা গেছে, বোরো ধানের সবুজ ক্ষেত এখন প্রায় সোনালি রঙ ধারণ করেছে। কৃষকেরা জমিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা আশাবাদী, ভালো দাম পেলে এ বছরের পরিশ্রম সফল হবে।

এভাবে কলাপাড়ার লবণাক্ত জমিগুলো এখন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। সময়মতো পানি সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকলে আগামী দিনে এই এলাকা আরও বেশি ধান উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করবে।