০৫:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
প্রকৃতির হাতে আঁকা ভূমি: নর্থ ডাকোটা ব্যাডল্যান্ড সাংবাদিকতার স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখতে আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বনির্ভরতা জরুরি: শফিক রেহমান হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল চরমোনাইয়ের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে জামায়াত জোট আইসিসি ভারতীয় কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি বাংলাদেশ, ভারতীয় মিডিয়ার দাবি একটি দল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ খুঁজছে: সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে : তারেক রহমান আচরণবিধি লঙ্ঘন: অপসাংবাদিকতার শিকার বললেন মামুনুল হক পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনছে ইসি গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে তারেক রহমান

পাকিস্তানে বন্দুকধারীর হামলায় ১ নিরাপত্তাকর্মীসহ ৬ জন নিহত, আতঙ্কে জনপদ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:১১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫
  • / 100

ছবি: সংগৃহীত

 

দক্ষিণ-পশ্চিম পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে আবারও রক্তাক্ত হামলার ঘটনা ঘটেছে। সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বর্বর হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন, যাদের মধ্যে পাঁচজন যাত্রী এবং একজন নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন। বৃহস্পতিবার গোয়াদর জেলার উপকূলীয় শহর পাসনিতে সংঘটিত এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, সমন্বিতভাবে হামলাকারীরা মহাসড়কে তল্লাশিচৌকি স্থাপন করে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। যারা স্থানীয় নয়, এমন যাত্রীদের আলাদা করে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, একাধিক জেলায় হামলা চালিয়েছে এই সশস্ত্র দলটি। কিছু কিছু এলাকায় এখনো টানা অভিযান চালাচ্ছে তারা। যদিও এখনো কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, এর পেছনে বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাত রয়েছে।

বেলুচিস্তান প্রদেশে গত কয়েক দশক ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চললেও সম্প্রতি এদের হামলার কৌশল ও দৃষ্টিভঙ্গিতে রূপান্তর এসেছে। শুধুমাত্র নিরাপত্তা বাহিনী নয়, এখন তারা টার্গেট করছে বহিরাগত যাত্রীদের, যারা এই অঞ্চলের বাসিন্দা নন।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি এক বিবৃতিতে বলেছেন, “নিরীহ যাত্রীদের পরিচয় জেনে তাদের হত্যা করা এক কাপুরুষোচিত এবং অমানবিক কাজ। এটি সরাসরি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।”

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই অঞ্চলে একের পর এক হামলা ঘটেছে। মাসের শুরুতেই প্রায় ৪৫০ যাত্রী নিয়ে যাত্রারত একটি ট্রেনকে জিম্মি করে দুইদিন ধরে, যেখানে বহু প্রাণহানি ঘটে। কয়েকদিন পরই আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন কয়েকজন আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য। এই হামলার দায় স্বীকার করে বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অঞ্চলটির খনিজ সম্পদ এবং চীনের অর্থায়নে নির্মীয়মাণ প্রকল্পগুলোকে ঘিরে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীর অসন্তোষ রয়েছে। তারা বিশ্বাস করে, এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের বাদ দিয়ে বাইরের লোকেরা সুবিধা নিচ্ছে এবং এতে বাড়ছে বিদ্রোহীদের ক্ষোভ ও সহিংসতা।

নিউজটি শেয়ার করুন

পাকিস্তানে বন্দুকধারীর হামলায় ১ নিরাপত্তাকর্মীসহ ৬ জন নিহত, আতঙ্কে জনপদ

আপডেট সময় ১২:১১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫

 

দক্ষিণ-পশ্চিম পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে আবারও রক্তাক্ত হামলার ঘটনা ঘটেছে। সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বর্বর হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন, যাদের মধ্যে পাঁচজন যাত্রী এবং একজন নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন। বৃহস্পতিবার গোয়াদর জেলার উপকূলীয় শহর পাসনিতে সংঘটিত এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, সমন্বিতভাবে হামলাকারীরা মহাসড়কে তল্লাশিচৌকি স্থাপন করে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। যারা স্থানীয় নয়, এমন যাত্রীদের আলাদা করে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, একাধিক জেলায় হামলা চালিয়েছে এই সশস্ত্র দলটি। কিছু কিছু এলাকায় এখনো টানা অভিযান চালাচ্ছে তারা। যদিও এখনো কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, এর পেছনে বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাত রয়েছে।

বেলুচিস্তান প্রদেশে গত কয়েক দশক ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চললেও সম্প্রতি এদের হামলার কৌশল ও দৃষ্টিভঙ্গিতে রূপান্তর এসেছে। শুধুমাত্র নিরাপত্তা বাহিনী নয়, এখন তারা টার্গেট করছে বহিরাগত যাত্রীদের, যারা এই অঞ্চলের বাসিন্দা নন।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি এক বিবৃতিতে বলেছেন, “নিরীহ যাত্রীদের পরিচয় জেনে তাদের হত্যা করা এক কাপুরুষোচিত এবং অমানবিক কাজ। এটি সরাসরি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।”

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই অঞ্চলে একের পর এক হামলা ঘটেছে। মাসের শুরুতেই প্রায় ৪৫০ যাত্রী নিয়ে যাত্রারত একটি ট্রেনকে জিম্মি করে দুইদিন ধরে, যেখানে বহু প্রাণহানি ঘটে। কয়েকদিন পরই আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন কয়েকজন আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য। এই হামলার দায় স্বীকার করে বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অঞ্চলটির খনিজ সম্পদ এবং চীনের অর্থায়নে নির্মীয়মাণ প্রকল্পগুলোকে ঘিরে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীর অসন্তোষ রয়েছে। তারা বিশ্বাস করে, এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের বাদ দিয়ে বাইরের লোকেরা সুবিধা নিচ্ছে এবং এতে বাড়ছে বিদ্রোহীদের ক্ষোভ ও সহিংসতা।