ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ

মিসরে ভিন্ন আমেজে এবারের রমজান উদযাপন, এবার শুধু উপবাস নয়, সংহতিরও প্রতীক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫
  • / 410

ছবি: সংগৃহীত

 

গাজার চলমান ইসরাইলি হামলা মিসরের রমজান উদযাপনকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। এবারের রমজান শুধুই আত্মশুদ্ধি আর সংযমের নয়, এটি ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের প্রতীক হয়ে উঠেছে। আলেকজান্দ্রিয়ার রাস্তায় হাঁটলেই বোঝা যায়, মিসরীয়রা তাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনের দাবি ও সংগ্রামকে প্রতিফলিত করছে।

রমজানে ঐতিহ্যগতভাবে মিসরের রাস্তাঘাটে চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা দেখা যায়। এবার সেই আলোয় ফুটে উঠেছে ফিলিস্তিনের প্রতিচ্ছবি। লণ্ঠন, ফেয়ারি লাইটের সঙ্গে উড়ছে ফিলিস্তিনি পতাকা। প্রতিটি গলি যেন ফিলিস্তিনের মুক্তির স্বপ্ন ধারণ করছে। শুধু আলোকসজ্জা নয়, মিসরের ব্যবসায়ীরাও ফিলিস্তিনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশে নেমেছেন।

আরও পড়ুন  অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৬০ ফিলিস্তিনি নিহত

আলেকজান্দ্রিয়ার বিখ্যাত হাক্কানিয়া বাজারের খেজুর বিক্রেতারা ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন। বাজারের বিভিন্ন খেজুরের নামকরণ করা হয়েছে গাজার বিভিন্ন স্থানের নামে ‘আরব গাজা খেজুর’, ‘মিসরীয় রাফাহ খেজুর’। ব্যবসায়ী মুহাম্মদ হামদান বললেন, এই নামকরণের উদ্দেশ্য শুধু বাণিজ্য নয়, এটি গাজার মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা প্রকাশের মাধ্যম।

ক্রেতারাও এই উদ্যোগে আনন্দিত। ৫১ বছর বয়সী আহমদ সাঈদ খেজুর কিনে জানালেন, এটি তাঁর জন্য শুধু কেনাকাটা নয়, বরং একাত্মতা প্রকাশের প্রতীক। গৃহবধূ সালমা ফুয়াদ বললেন, “ব্যবসার সঙ্গে সংহতি মেশানোয় কোনো ভুল নেই। আমরা শুধু ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছি না, বরং কিছু দেশের পণ্য বর্জন করেও প্রতিবাদ করছি।”

শিশুরাও রমজানের নতুন এই পরিবর্তন নিয়ে কৌতূহলী। রাস্তায় উড়তে থাকা ফিলিস্তিনি পতাকা দেখে ছোট্ট এক ছেলে মাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, “এটা কোন দেশের পতাকা?” মা উত্তর দিয়েছিলেন, “এটা গাজার পতাকা। সেখানে তোমার মতো শিশুরা কষ্ট পাচ্ছে। আমাদের তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।”

মিসরীয়দের কাছে এবারের রমজান শুধুই রোজার মাস নয়, এটি প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও সংহতির মাস। তাদের বিশ্বাস, এই রমজান ফিলিস্তিনের মুক্তির স্বপ্ন আরও জোরালো করবে, তাদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার আরও দৃঢ় করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মিসরে ভিন্ন আমেজে এবারের রমজান উদযাপন, এবার শুধু উপবাস নয়, সংহতিরও প্রতীক

আপডেট সময় ১২:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫

 

গাজার চলমান ইসরাইলি হামলা মিসরের রমজান উদযাপনকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। এবারের রমজান শুধুই আত্মশুদ্ধি আর সংযমের নয়, এটি ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের প্রতীক হয়ে উঠেছে। আলেকজান্দ্রিয়ার রাস্তায় হাঁটলেই বোঝা যায়, মিসরীয়রা তাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনের দাবি ও সংগ্রামকে প্রতিফলিত করছে।

রমজানে ঐতিহ্যগতভাবে মিসরের রাস্তাঘাটে চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা দেখা যায়। এবার সেই আলোয় ফুটে উঠেছে ফিলিস্তিনের প্রতিচ্ছবি। লণ্ঠন, ফেয়ারি লাইটের সঙ্গে উড়ছে ফিলিস্তিনি পতাকা। প্রতিটি গলি যেন ফিলিস্তিনের মুক্তির স্বপ্ন ধারণ করছে। শুধু আলোকসজ্জা নয়, মিসরের ব্যবসায়ীরাও ফিলিস্তিনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশে নেমেছেন।

আরও পড়ুন  ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনে রাজি নয় জর্ডান ও মিশর

আলেকজান্দ্রিয়ার বিখ্যাত হাক্কানিয়া বাজারের খেজুর বিক্রেতারা ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন। বাজারের বিভিন্ন খেজুরের নামকরণ করা হয়েছে গাজার বিভিন্ন স্থানের নামে ‘আরব গাজা খেজুর’, ‘মিসরীয় রাফাহ খেজুর’। ব্যবসায়ী মুহাম্মদ হামদান বললেন, এই নামকরণের উদ্দেশ্য শুধু বাণিজ্য নয়, এটি গাজার মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা প্রকাশের মাধ্যম।

ক্রেতারাও এই উদ্যোগে আনন্দিত। ৫১ বছর বয়সী আহমদ সাঈদ খেজুর কিনে জানালেন, এটি তাঁর জন্য শুধু কেনাকাটা নয়, বরং একাত্মতা প্রকাশের প্রতীক। গৃহবধূ সালমা ফুয়াদ বললেন, “ব্যবসার সঙ্গে সংহতি মেশানোয় কোনো ভুল নেই। আমরা শুধু ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছি না, বরং কিছু দেশের পণ্য বর্জন করেও প্রতিবাদ করছি।”

শিশুরাও রমজানের নতুন এই পরিবর্তন নিয়ে কৌতূহলী। রাস্তায় উড়তে থাকা ফিলিস্তিনি পতাকা দেখে ছোট্ট এক ছেলে মাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, “এটা কোন দেশের পতাকা?” মা উত্তর দিয়েছিলেন, “এটা গাজার পতাকা। সেখানে তোমার মতো শিশুরা কষ্ট পাচ্ছে। আমাদের তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।”

মিসরীয়দের কাছে এবারের রমজান শুধুই রোজার মাস নয়, এটি প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও সংহতির মাস। তাদের বিশ্বাস, এই রমজান ফিলিস্তিনের মুক্তির স্বপ্ন আরও জোরালো করবে, তাদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার আরও দৃঢ় করবে।