ঢাকা ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় এবছর ইইউ’র ৬৮ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৫৮:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ মার্চ ২০২৫
  • / 282

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগণের সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এ বছর ৬৮ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা ঘোষণা করেছে। বিশেষ করে, মিয়ানমারের পশ্চিম রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শিকার মানুষের জন্য এই সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যাতে মানবিক সংকটের তীব্রতা কমানো যায়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কমিশনার হাজা লাহবিব সম্প্রতি ঢাকা সফরে এসে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য এই আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন। তবে, ইইউ কমিশনার মন্তব্য করেন যে, সহায়তার পরিমাণ গত বছরের অনুদানের তুলনায় বেশি হলেও রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক পরিস্থিতি উন্নত করার জন্য তা যথেষ্ট নয়।

আরও পড়ুন  কক্সবাজারে জাতিসংঘ মহাসচিব ও ড. ইউনূসের সফর: রোহিঙ্গাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস

অধ্যাপক ইউনূস রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘকালীন প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা, এবং বছরের পর বছর ধরে চলছে। তবে, এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই সংকটের গুরুত্ব বোঝাতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

ইইউ কমিশনার শান্তির প্রতি জোর দিয়ে বলেন, ‘এই সংকটের একমাত্র সমাধান শান্তি। আমাদের সবাইকে দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, এবং ভুল তথ্য (ডিসইনফরমেশন) ছড়ানোও এক ধরনের দুর্যোগ।’

এছাড়া, বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে জলবিদ্যুৎ আমদানির সম্ভাবনা, জ্বালানি সংযোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আরও সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে বলেন, ‘নেপাল ও ভুটান আমাদের কাছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিক্রিতে আগ্রহী, যা বাংলাদেশে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাবে।’

ইইউ কমিশনার বাংলাদেশ সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আরও সহযোগিতার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রস্তুত।’

নিউজটি শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় এবছর ইইউ’র ৬৮ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা

আপডেট সময় ১১:৫৮:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ মার্চ ২০২৫

 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগণের সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এ বছর ৬৮ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা ঘোষণা করেছে। বিশেষ করে, মিয়ানমারের পশ্চিম রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শিকার মানুষের জন্য এই সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যাতে মানবিক সংকটের তীব্রতা কমানো যায়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কমিশনার হাজা লাহবিব সম্প্রতি ঢাকা সফরে এসে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য এই আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন। তবে, ইইউ কমিশনার মন্তব্য করেন যে, সহায়তার পরিমাণ গত বছরের অনুদানের তুলনায় বেশি হলেও রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক পরিস্থিতি উন্নত করার জন্য তা যথেষ্ট নয়।

আরও পড়ুন  উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই সশস্ত্র গ্রুপের সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ১

অধ্যাপক ইউনূস রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘকালীন প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা, এবং বছরের পর বছর ধরে চলছে। তবে, এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই সংকটের গুরুত্ব বোঝাতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

ইইউ কমিশনার শান্তির প্রতি জোর দিয়ে বলেন, ‘এই সংকটের একমাত্র সমাধান শান্তি। আমাদের সবাইকে দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, এবং ভুল তথ্য (ডিসইনফরমেশন) ছড়ানোও এক ধরনের দুর্যোগ।’

এছাড়া, বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে জলবিদ্যুৎ আমদানির সম্ভাবনা, জ্বালানি সংযোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আরও সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে বলেন, ‘নেপাল ও ভুটান আমাদের কাছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিক্রিতে আগ্রহী, যা বাংলাদেশে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাবে।’

ইইউ কমিশনার বাংলাদেশ সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আরও সহযোগিতার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রস্তুত।’