তাইওয়ানের আশপাশে চীনের ৫৩ জাহাজ শনাক্ত
- আপডেট সময় ০৩:০৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / 20
জাপানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তাইওয়ান হয়ে ফিলিপাইনের কাছাকাছি বিস্তীর্ণ সমুদ্র এলাকায় চীনের ৫৩টি নৌবাহিনী ও সরকারি জাহাজের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে তাইওয়ান। এর মধ্যে ৩৪টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। এসব জাহাজের তৎপরতাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে তাইপে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে চীনা যুদ্ধজাহাজ ও কোস্টগার্ডের অবস্থান মানচিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেছে দেশটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব জোসেফ উ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। সেখানে চীনের মোট ৫৩টি জাহাজের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। এসব জাহাজের মধ্যে চীনের বিমানবাহী রণতরি লিয়াওনিংও রয়েছে।
জোসেফ উ জানান, চীনা জাহাজগুলোর গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তাইওয়ান। তাঁর মতে, একই সময়ে তাইওয়ান, জাপান ও ফিলিপাইনের আশপাশে এ ধরনের সামরিক তৎপরতা তিন দেশের নিরাপত্তার জন্য স্পষ্ট উদ্বেগ তৈরি করছে।
প্রকাশিত মানচিত্রে দেখা যায়, লিয়াওনিংয়ের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধজাহাজের বহর ফিলিপাইনের পূর্বদিকে অবস্থান করছিল। এ ছাড়া কয়েকটি চীনা জাহাজ তাইওয়ানের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি ছিল। জাপানের দক্ষিণ উপকূলের কাছেও তিনটি জাহাজের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। এর আগে গত মে মাসেও একই ধরনের মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন জোসেফ উ।
তবে চীন এসব তৎপরতাকে নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাং শিয়াওগাং বলেন, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে বিমানবাহী রণতরি লিয়াওনিংয়ের মহড়া স্বাভাবিক সামরিক কার্যক্রম। দূরবর্তী সমুদ্র এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা যাচাই করাই এর উদ্দেশ্য। কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে এ মহড়া চালানো হচ্ছে না।
এদিকে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার তিনটি চীনা যুদ্ধজাহাজ ও একটি কোস্টগার্ড জাহাজের চলাচল শনাক্ত করা হয়েছে। জাহাজগুলো জাপানের কিউশু দ্বীপের কাছে ওসুমি প্রণালি অতিক্রম করে প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে যায়।
চীন চলতি মাসেও জানিয়েছিল, লিয়াওনিং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। বেইজিংয়ের দাবি, এ মহড়ার সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা জড়িত নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে জাপান ও ফিলিপাইনের সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। তাইওয়ানের প্রতি জাপানের সমর্থন নিয়ে অসন্তুষ্ট বেইজিং। অন্যদিকে দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন এলাকা নিয়ে ফিলিপাইনের সঙ্গে চীনের বিরোধও ক্রমে জটিল হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার তাইপেতে পার্লামেন্টের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু। তিনি বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন সামরিক শক্তি প্রদর্শন দেখতে চায় না তাঁর দেশ।
তাইওয়ানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফিলিপাইন সাগরে প্রশিক্ষণ শেষ করে লিয়াওনিংয়ের নেতৃত্বাধীন বহর উত্তর দিকে জাপানের দিকে অগ্রসর হয় কি না, তা বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, বহরটি উত্তরমুখী হলে তা জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরির কৌশল হতে পারে।
এদিকে তাইওয়ানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা কখনোই নাকচ করেনি চীন। যদিও বেইজিংয়ের আনুষ্ঠানিক অবস্থান, তারা দ্বীপটির সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পুনরেকত্রীকরণ চায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংবাদপত্র ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর চীন তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে মার্কিন সেনাবাহিনী।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) হাওয়াইয়ে আয়োজিত এক ফোরামে এ কথা জানান প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার রোনাল্ড ক্লার্ক।
সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় তাইওয়ানও নিজেদের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু। তিনি বলেন, তাইওয়ান দখলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিকল্প কখনোই পুরোপুরি বাদ দেয়নি চীন।
উল্লেখ্য, চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং দ্বীপটির স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয় না। অন্যদিকে তাইওয়ান সরকারের অবস্থান, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র সেখানকার জনগণের। তাইওয়ানের দাবি, তাদের ভূখণ্ডের ওপর বেইজিংয়ের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই।






















