ঢাকা ০৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

কারাগার থেকেই ভার্চুয়াল শুনানিতে জিয়াউল আহসান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 19

ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির আশঙ্কায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি। আদালতের অনুমতি নিয়ে তিনি কারাগারে থেকেই ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে চলমান মামলার শুনানি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকতে পারে বলে তিনি ও তাঁর পরিবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার থেকে তাঁকে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি।

আরও পড়ুন  শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ, আদেশ ১০ জুলাই

এর আগে ৮ অক্টোবর জিয়াউল আহসানকে একক প্রিজন ভ্যানে করে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়া নিরাপদ না হলে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়াল শুনানির ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষ।

সেদিন শুনানিতে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী ও বোন নাজনীন নাহার বলেন, অন্য আসামিদের সঙ্গে আনা-নেওয়া করা হলেও ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে জিয়াউল আহসানকে একা একটি প্রিজন ভ্যানে করে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হচ্ছে। এতে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নাজনীন নাহার বলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে একা আনা-নেওয়ার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে তাঁকে অন্য আসামিদের সঙ্গে আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। অন্য আসামিদের একা আনা না হলেও তাঁকে কেন একা আনা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, জিয়াউল আহসানের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকলে তাঁকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে না এনে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে মামলার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। কারাগার থেকেই ভিডিওর মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন নাজনীন নাহার। অন্য আসামিদের সঙ্গে জিয়াউল আহসানকে আনা হলে নিরাপত্তার সমস্যা কোথায়, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

শুনানির একপর্যায়ে কাঠগড়ায় থাকা জিয়াউল আহসানও কথা বলার অনুমতি চান। ট্রাইব্যুনালের অনুমতি পেয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে একা গাড়িতে আনার উদ্দেশ্য হলো নিজেরাই কোনো ঘটনা ঘটিয়ে পরে তাঁর ওপর দায় চাপানো।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের বক্তব্য শোনার পর ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।

শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। এখন তাঁর জেরা শুরু হওয়ার কথা।

এই মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কারাগার থেকেই ভার্চুয়াল শুনানিতে জিয়াউল আহসান

আপডেট সময় ০১:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির আশঙ্কায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি। আদালতের অনুমতি নিয়ে তিনি কারাগারে থেকেই ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে চলমান মামলার শুনানি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকতে পারে বলে তিনি ও তাঁর পরিবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার থেকে তাঁকে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি।

আরও পড়ুন  মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে শুনানি আজ

এর আগে ৮ অক্টোবর জিয়াউল আহসানকে একক প্রিজন ভ্যানে করে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়া নিরাপদ না হলে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়াল শুনানির ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষ।

সেদিন শুনানিতে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী ও বোন নাজনীন নাহার বলেন, অন্য আসামিদের সঙ্গে আনা-নেওয়া করা হলেও ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে জিয়াউল আহসানকে একা একটি প্রিজন ভ্যানে করে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হচ্ছে। এতে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নাজনীন নাহার বলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে একা আনা-নেওয়ার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে তাঁকে অন্য আসামিদের সঙ্গে আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। অন্য আসামিদের একা আনা না হলেও তাঁকে কেন একা আনা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, জিয়াউল আহসানের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকলে তাঁকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে না এনে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে মামলার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। কারাগার থেকেই ভিডিওর মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন নাজনীন নাহার। অন্য আসামিদের সঙ্গে জিয়াউল আহসানকে আনা হলে নিরাপত্তার সমস্যা কোথায়, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

শুনানির একপর্যায়ে কাঠগড়ায় থাকা জিয়াউল আহসানও কথা বলার অনুমতি চান। ট্রাইব্যুনালের অনুমতি পেয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে একা গাড়িতে আনার উদ্দেশ্য হলো নিজেরাই কোনো ঘটনা ঘটিয়ে পরে তাঁর ওপর দায় চাপানো।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের বক্তব্য শোনার পর ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।

শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। এখন তাঁর জেরা শুরু হওয়ার কথা।

এই মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।