ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
মিলনের পর স্ত্রী খাদ্যে পরিণত হয় পুরুষ অক্টোপাস কাশ্মীরে কথিত বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় ফিফা নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে লড়বেন সাবেক ফুটবলার রেমন ভেগা ইলিশের নিরাপদ প্রজননে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, জেলেদের সহযোগিতা চাইলেন প্রতিমন্ত্রী পাবনায় সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গা চুক্তি, মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান: এ্যানি মেসির বিদায়ী পোস্টে রোনালদোর শ্রদ্ধা টেক্সটাইল শিল্পে পানি সংরক্ষণের আহ্বান এ্যানির নিরাপদ পানি জন্য ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প: মঈন খান নোবেলজয়ীদের হাতে আঁকা পোর্ট্রেটের নেপথ্যে যে কারণ!

কাশ্মীরে কথিত বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড়

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 18

ছবি সংগৃহীত

ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে কথিত বাংলাদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের দাবি, প্রথম ধাপে প্রায় ৩০০ ‘বাংলাদেশি নাগরিককে’ ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযানের পরই কথিত বাংলাদেশিদের নিয়েও এই কার্যক্রম শুরু হলো।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাশ্মীর উপত্যকা ও জম্মুতে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কথিত বাংলাদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করা এবং তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি সূত্রের বরাতে বিবিসি নিউজ উর্দু জানিয়েছে, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গত মে মাসে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনকে জানায়, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রায় ৬০০ অবৈধ অভিবাসী কয়েক বছর ধরে কাশ্মীর উপত্যকা ও জম্মুতে বসবাস করছেন।

আরও পড়ুন  জাতিসংঘ মহাসচিবের বাংলাদেশ সফর: রোহিঙ্গা সংকট ও রাখাইনের মানবিক বিপর্যয় নিয়ে আলোচনা

ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা মুসলিমদের একটি অংশ গত কয়েক দশক ধরে জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে জম্মুতে বসবাস করছেন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, তাদের অনেকেই ভিসা ছাড়াই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, সোমবার ও মঙ্গলবার প্রায় ৩০০ ‘বাংলাদেশিকে’ দুটি পৃথক দলে ভাগ করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

কথিত বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে এই সাম্প্রতিক অভিযানকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর ধারাবাহিকতা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

ভারত সরকার রোহিঙ্গাদের আইনি শরণার্থীর মর্যাদা দেয় না। দেশটি ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী নয়। একই নীতির আওতায় ২০১৭ সালে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে রোহিঙ্গাদের আটক করে ফেরত পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে।

বিজেপি ও দলটির সমর্থকদের যুক্তি, অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতি বিশেষ করে জম্মু অঞ্চলে স্থানীয় সম্পদের ওপর চাপ তৈরি করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবিকার সুযোগকে প্রভাবিত করছে। পরিচয়পত্রহীন ব্যক্তিদের চরমপন্থা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হতে পারে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলা হচ্ছে।

তবে মানবাধিকারকর্মীরা এসব যুক্তির সঙ্গে একমত নন।

সাংবাদিক ও বিশ্লেষক হারুন রেশির মতে, আন্তর্জাতিক আইনের গুরুত্বপূর্ণ একটি নীতি হলো ‘নন-রিফাউলমেন্ট’, যার আওতায় কোনো ব্যক্তিকে এমন দেশে ফেরত পাঠানো যায় না, যেখানে তার জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অভিবাসীদের একটি অংশ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্যানিটেশনসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে পর্যাপ্তভাবে বঞ্চিত।

হারুন রেশির ভাষ্য, ভারত ১৯৫১ সালের ওই আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশ না হলেও দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন সময়ে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় বিদেশিদের মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কাশ্মীরে কথিত বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড়

আপডেট সময় ০৭:৪৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে কথিত বাংলাদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের দাবি, প্রথম ধাপে প্রায় ৩০০ ‘বাংলাদেশি নাগরিককে’ ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযানের পরই কথিত বাংলাদেশিদের নিয়েও এই কার্যক্রম শুরু হলো।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাশ্মীর উপত্যকা ও জম্মুতে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কথিত বাংলাদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করা এবং তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি সূত্রের বরাতে বিবিসি নিউজ উর্দু জানিয়েছে, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গত মে মাসে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনকে জানায়, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রায় ৬০০ অবৈধ অভিবাসী কয়েক বছর ধরে কাশ্মীর উপত্যকা ও জম্মুতে বসবাস করছেন।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের বোয়িং চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বললেন ট্রাম্প

ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা মুসলিমদের একটি অংশ গত কয়েক দশক ধরে জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে জম্মুতে বসবাস করছেন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, তাদের অনেকেই ভিসা ছাড়াই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, সোমবার ও মঙ্গলবার প্রায় ৩০০ ‘বাংলাদেশিকে’ দুটি পৃথক দলে ভাগ করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

কথিত বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে এই সাম্প্রতিক অভিযানকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর ধারাবাহিকতা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

ভারত সরকার রোহিঙ্গাদের আইনি শরণার্থীর মর্যাদা দেয় না। দেশটি ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী নয়। একই নীতির আওতায় ২০১৭ সালে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে রোহিঙ্গাদের আটক করে ফেরত পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে।

বিজেপি ও দলটির সমর্থকদের যুক্তি, অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতি বিশেষ করে জম্মু অঞ্চলে স্থানীয় সম্পদের ওপর চাপ তৈরি করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবিকার সুযোগকে প্রভাবিত করছে। পরিচয়পত্রহীন ব্যক্তিদের চরমপন্থা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হতে পারে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলা হচ্ছে।

তবে মানবাধিকারকর্মীরা এসব যুক্তির সঙ্গে একমত নন।

সাংবাদিক ও বিশ্লেষক হারুন রেশির মতে, আন্তর্জাতিক আইনের গুরুত্বপূর্ণ একটি নীতি হলো ‘নন-রিফাউলমেন্ট’, যার আওতায় কোনো ব্যক্তিকে এমন দেশে ফেরত পাঠানো যায় না, যেখানে তার জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অভিবাসীদের একটি অংশ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্যানিটেশনসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে পর্যাপ্তভাবে বঞ্চিত।

হারুন রেশির ভাষ্য, ভারত ১৯৫১ সালের ওই আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশ না হলেও দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন সময়ে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় বিদেশিদের মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।