ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জিয়াউর রহমান আধুনিক বাংলাদেশের কারিগর: এ্যানি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:১৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 33

ছবি সংগৃহীত

 

পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাঁর নেতৃত্বের মাধ্যমে নতুন ও আধুনিক বাংলাদেশের চিন্তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তার ভাষায়, জিয়াউর রহমান ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের কারিগর।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘জিয়া স্মৃতি বই মেলা-২০২৬’-এর ষষ্ঠ দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

আরও পড়ুন  টেকনাফে অপহরণে ব্যর্থ হয়ে এক যুবককে গুলি

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বিএনপি আজ যে পর্যায়ে এসেছে, এর নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া। তবে দলটির ত্যাগ, পরিশ্রম এবং আন্দোলন-সংগ্রামের বড় অংশের অর্জন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের।

তিনি বলেন, এই ক্যাম্পাসেই প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছাত্রদলের যাত্রা শুরু করেছিলেন। দেশ ও মানুষের প্রতি তার চিন্তা এবং উদার মানসিকতার প্রতিফলন ছাত্রদল গঠনের মধ্য দিয়ে দেখা গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সময় জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। তিনি স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন এবং অস্ত্র হাতে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তার ভাষায়, জিয়াউর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের নেতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নেতা।

স্বাধীনতার পরের সময়ের কথা উল্লেখ করে এ্যানি বলেন, ১৯৭২, ১৯৭৩, ১৯৭৪ ও ১৯৭৫ সালে যারা দেশের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের পর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে মহান বিপ্লব ও সংহতির মাধ্যমে দেশের মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল।

নিজেদের রাজনৈতিক চর্চার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ছাত্রদলের রাজনীতি করার সময় এবং বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্বে থাকাকালে তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে অশালীন শব্দচয়ন বা গালিগালাজ করতে দেখেননি। শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই তারা রাজনীতিতে এসেছেন বলে জানান তিনি।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে এ্যানি বলেন, আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করার সময়ও তারা এমন অশালীন ভাষার ব্যবহার দেখেননি।

তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর পাটওয়ারী-সিফাত গংদের পক্ষ থেকে অশালীন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারকে লক্ষ্য করে শিষ্টাচারবহির্ভূত ও নীতিবর্জিত গালিগালাজ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, এসব কর্মকাণ্ড সুস্পষ্ট অপরাধ।

বিরোধী দলগুলোর প্রসঙ্গে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, অতীতে ফ্যাসিবাদ এতটা সাহস দেখাতে পারেনি, যতটা এখন দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালে তারা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বৈরাচারকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছিল। ১৯৯৬ সালেও ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ১৭২ দিন হরতাল-অবরোধ করে জনগণকে দুর্ভোগে ফেলেছিল বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় তিনি ওই পক্ষের সঙ্গে ‘ওই পাড়ের’ একটি যোগসূত্র রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া।

জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আ ন ম সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম বুলবুলসহ অন্যরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

জিয়াউর রহমান আধুনিক বাংলাদেশের কারিগর: এ্যানি

আপডেট সময় ০৮:১৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাঁর নেতৃত্বের মাধ্যমে নতুন ও আধুনিক বাংলাদেশের চিন্তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তার ভাষায়, জিয়াউর রহমান ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের কারিগর।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘জিয়া স্মৃতি বই মেলা-২০২৬’-এর ষষ্ঠ দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

আরও পড়ুন  শপআপের নতুন দিগন্ত: মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তার, পেল হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বিএনপি আজ যে পর্যায়ে এসেছে, এর নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া। তবে দলটির ত্যাগ, পরিশ্রম এবং আন্দোলন-সংগ্রামের বড় অংশের অর্জন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের।

তিনি বলেন, এই ক্যাম্পাসেই প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছাত্রদলের যাত্রা শুরু করেছিলেন। দেশ ও মানুষের প্রতি তার চিন্তা এবং উদার মানসিকতার প্রতিফলন ছাত্রদল গঠনের মধ্য দিয়ে দেখা গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সময় জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। তিনি স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন এবং অস্ত্র হাতে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তার ভাষায়, জিয়াউর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের নেতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নেতা।

স্বাধীনতার পরের সময়ের কথা উল্লেখ করে এ্যানি বলেন, ১৯৭২, ১৯৭৩, ১৯৭৪ ও ১৯৭৫ সালে যারা দেশের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের পর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে মহান বিপ্লব ও সংহতির মাধ্যমে দেশের মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল।

নিজেদের রাজনৈতিক চর্চার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ছাত্রদলের রাজনীতি করার সময় এবং বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্বে থাকাকালে তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে অশালীন শব্দচয়ন বা গালিগালাজ করতে দেখেননি। শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই তারা রাজনীতিতে এসেছেন বলে জানান তিনি।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে এ্যানি বলেন, আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করার সময়ও তারা এমন অশালীন ভাষার ব্যবহার দেখেননি।

তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর পাটওয়ারী-সিফাত গংদের পক্ষ থেকে অশালীন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারকে লক্ষ্য করে শিষ্টাচারবহির্ভূত ও নীতিবর্জিত গালিগালাজ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, এসব কর্মকাণ্ড সুস্পষ্ট অপরাধ।

বিরোধী দলগুলোর প্রসঙ্গে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, অতীতে ফ্যাসিবাদ এতটা সাহস দেখাতে পারেনি, যতটা এখন দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালে তারা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বৈরাচারকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছিল। ১৯৯৬ সালেও ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ১৭২ দিন হরতাল-অবরোধ করে জনগণকে দুর্ভোগে ফেলেছিল বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় তিনি ওই পক্ষের সঙ্গে ‘ওই পাড়ের’ একটি যোগসূত্র রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া।

জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আ ন ম সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম বুলবুলসহ অন্যরা।