ঈদে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা লোকজনের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে: শফিকুর রহমান
- আপডেট সময় ০৬:০৬:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
- / 2
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষেরা চরম ভোগান্তি ও জুলুমের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঈদ উপলক্ষে সারা বছর অপেক্ষায় থাকা মানুষগুলো যখন একবুক প্রত্যাশা ও আনন্দ নিয়ে স্বজনদের কাছে ফিরতে চাচ্ছেন, তখন তাদের ওপর অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। এবারের ঈদযাত্রায় যে ধরনের অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে, তাকে তিনি ‘ইতিহাসের জঘন্যতম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এর সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
জামায়াত আমির তার বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সরকার গঠনের পরপরই মন্ত্রীর দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্যই বর্তমানের এই বিশৃঙ্খলার মূল ভিত্তি তৈরি করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বাস মালিকরা স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়েও কম ভাড়া নিচ্ছেন বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা মূলত জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য একটি ‘চরম মিথ্যাচার’।
সাধারণ মানুষের এই দুঃখ ও আফসোস দেখার কেউ নেই বলে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সড়ক ও জনপথের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির ফলে সাধারণ যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ, যা উৎসবের আনন্দকে ম্লান করে দিচ্ছে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রিয় বাংলাদেশ কি আবারও ফ্যাসিবাদের কবলে পড়তে যাচ্ছে কি না-সেটি এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কেউ যদি দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়, তবে তাদের জন্য বড় দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে।
বর্তমানের জেগে ওঠা যুবসমাজ ও সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই এই ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ বরদাশত করবে না। তিনি সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি সময় থাকতে সাবধান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্যের মাধ্যমে ঈদযাত্রায় পরিবহনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং সড়কের অব্যবস্থাপনার বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। তিনি মনে করেন, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদেরই এই সমস্ত ব্যর্থতার দায়ভার শেষ পর্যন্ত বহন করতে হবে।

























