ফিজি: প্রশান্ত মহাসাগরের বহুজাতিক ও প্রাণবন্ত দ্বীপ রাষ্ট্র
- আপডেট সময় ০৫:০২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 16
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত ফিজি ওশেনিয়া মহাদেশের মেলানেশিয়া অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। ফিজি প্রায় ৩৩০টিরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে ভিটি লেভু ও ভানুয়া লেভু সবচেয়ে বড়। রাজধানী সুভা, যা ভিটি লেভু দ্বীপে অবস্থিত।
ইতিহাসের শুরুতে, হাজার বছর আগে মেলানেশীয় জনগোষ্ঠী এখানে বসতি স্থাপন করে। ১৯শ শতকে ইউরোপীয় প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং ১৮৭৪ সালে ফিজি ব্রিটিশ উপনিবেশে পরিণত হয়। এই সময়ে আখ চাষের জন্য ভারতীয় শ্রমিকদের আনা হয়, যার ফলে ফিজিতে একটি বড় ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। ১৯৭০ সালে ফিজি স্বাধীনতা লাভ করে।
রাজনৈতিকভাবে, ফিজি একটি প্রজাতন্ত্র। স্বাধীনতার পর কয়েকবার সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠনের মাধ্যমে স্থিতিশীলতার চেষ্টা চলছে। প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রপ্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী সরকার পরিচালনা করেন।
নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে, ফিজিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা তুলনামূলকভাবে উন্নত, বিশেষ করে অন্যান্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় ছোট দেশের তুলনায়। পর্যটন, কৃষি, চিনি উৎপাদন এবং প্রবাসী আয় অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। তবে ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ু পরিবর্তন বড় ঝুঁকি। এছাড়া শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে উন্নয়নের পার্থক্য রয়েছে।
ধর্মীয়ভাবে, ফিজি একটি বহুধর্মীয় সমাজ। খ্রিস্টানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হিন্দু ও মুসলিম রয়েছে, প্রধানত ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর মধ্যে। মুসলিম সম্প্রদায় শিক্ষা, ব্যবসা ও সমাজসেবায় অবদান রাখছে এবং দেশের সামাজিক কাঠামোর অংশ হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
ভ্রমণ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে, ফিজি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় একটি পর্যটন গন্তব্য। পরিষ্কার সমুদ্র, প্রবাল প্রাচীর, বিলাসবহুল রিসোর্ট এবং উষ্ণ আতিথেয়তা পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ডাইভিং, স্নরকেলিং ও দ্বীপভ্রমণ এখানে খুব জনপ্রিয়। পর্যটন ফিজির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি।
সব মিলিয়ে, ফিজি একটি বৈচিত্র্যময় ও প্রাণবন্ত দেশ, যেখানে ভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্ম একসঙ্গে সহাবস্থান করছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ও আধুনিক উন্নয়নের সমন্বয়ে ফিজি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে।

























