০৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
প্রকৃতির হাতে আঁকা ভূমি: নর্থ ডাকোটা ব্যাডল্যান্ড সাংবাদিকতার স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখতে আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বনির্ভরতা জরুরি: শফিক রেহমান হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল চরমোনাইয়ের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে জামায়াত জোট আইসিসি ভারতীয় কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি বাংলাদেশ, ভারতীয় মিডিয়ার দাবি একটি দল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ খুঁজছে: সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে : তারেক রহমান আচরণবিধি লঙ্ঘন: অপসাংবাদিকতার শিকার বললেন মামুনুল হক পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনছে ইসি গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে তারেক রহমান

প্রকৃতির হাতে আঁকা ভূমি: নর্থ ডাকোটা ব্যাডল্যান্ড

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:২৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 23

ছবি: সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত নর্থ ডাকোটা ব্যাডল্যান্ড এক বিস্ময়কর ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চল। খাড়া পাহাড়, গভীর ক্যানিয়ন, রঙিন শিলাস্তর আর বিস্তীর্ণ প্রান্তর মিলিয়ে এই এলাকা গড়ে উঠেছে হাজার হাজার বছরের প্রাকৃতিক ক্ষয়ের ফলে। মিসৌরি নদীর পশ্চিম তীরে বিস্তৃত এই ব্যাডল্যান্ড আজ প্রকৃতি ও ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এক আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য।

নর্থ ডাকোটা ব্যাডল্যান্ডের ইতিহাস শুরু হয় লক্ষ লক্ষ বছর আগে। এক সময় এই অঞ্চল ছিল ঘন বন আর জলাভূমিতে ভরা। ধীরে ধীরে জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর প্রবাহ এবং বাতাসের ক্ষয়ের মাধ্যমে গড়ে ওঠে আজকের এই রুক্ষ ভূদৃশ্য। এখানকার মাটির স্তরে পাওয়া গেছে ডাইনোসরের জীবাশ্ম, প্রাচীন উদ্ভিদের চিহ্ন এবং বহু বিলুপ্ত প্রাণীর অস্তিত্ব, যা উত্তর আমেরিকার প্রাকৃতিক ইতিহাস বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিজ্ঞাপন

এই ব্যাডল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত আছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬তম প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্টের নাম। তরুণ বয়সে তিনি এই এলাকায় এসে কাউবয় জীবনযাপন করেন। এখানকার প্রকৃতি তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে এবং পরবর্তীতে তার সংরক্ষণবাদী চিন্তাধারার জন্ম দেয়। তার সম্মানে গড়ে ওঠা থিওডোর রুজভেল্ট ন্যাশনাল পার্ক আজ এই অঞ্চলের প্রধান আকর্ষণ।

পর্যটনের দিক থেকে নর্থ ডাকোটা ব্যাডল্যান্ড অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক এখানে আসেন হাইকিং, বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। এখানকার প্রান্তরে দেখা যায় বাইসন, বন্য ঘোড়া, হরিণ ও নানা প্রজাতির পাখি। সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের সময় ব্যাডল্যান্ডের রঙিন পাহাড় দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

প্রকৃতি, ইতিহাস আর মানবসভ্যতার ছোঁয়ায় গড়ে ওঠা নর্থ ডাকোটা ব্যাডল্যান্ড শুধু একটি ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চল নয়, এটি আমেরিকার অতীত ও বর্তমানের এক জীবন্ত দলিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রকৃতির হাতে আঁকা ভূমি: নর্থ ডাকোটা ব্যাডল্যান্ড

আপডেট সময় ০৯:২৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত নর্থ ডাকোটা ব্যাডল্যান্ড এক বিস্ময়কর ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চল। খাড়া পাহাড়, গভীর ক্যানিয়ন, রঙিন শিলাস্তর আর বিস্তীর্ণ প্রান্তর মিলিয়ে এই এলাকা গড়ে উঠেছে হাজার হাজার বছরের প্রাকৃতিক ক্ষয়ের ফলে। মিসৌরি নদীর পশ্চিম তীরে বিস্তৃত এই ব্যাডল্যান্ড আজ প্রকৃতি ও ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এক আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য।

নর্থ ডাকোটা ব্যাডল্যান্ডের ইতিহাস শুরু হয় লক্ষ লক্ষ বছর আগে। এক সময় এই অঞ্চল ছিল ঘন বন আর জলাভূমিতে ভরা। ধীরে ধীরে জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর প্রবাহ এবং বাতাসের ক্ষয়ের মাধ্যমে গড়ে ওঠে আজকের এই রুক্ষ ভূদৃশ্য। এখানকার মাটির স্তরে পাওয়া গেছে ডাইনোসরের জীবাশ্ম, প্রাচীন উদ্ভিদের চিহ্ন এবং বহু বিলুপ্ত প্রাণীর অস্তিত্ব, যা উত্তর আমেরিকার প্রাকৃতিক ইতিহাস বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিজ্ঞাপন

এই ব্যাডল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত আছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬তম প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্টের নাম। তরুণ বয়সে তিনি এই এলাকায় এসে কাউবয় জীবনযাপন করেন। এখানকার প্রকৃতি তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে এবং পরবর্তীতে তার সংরক্ষণবাদী চিন্তাধারার জন্ম দেয়। তার সম্মানে গড়ে ওঠা থিওডোর রুজভেল্ট ন্যাশনাল পার্ক আজ এই অঞ্চলের প্রধান আকর্ষণ।

পর্যটনের দিক থেকে নর্থ ডাকোটা ব্যাডল্যান্ড অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক এখানে আসেন হাইকিং, বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। এখানকার প্রান্তরে দেখা যায় বাইসন, বন্য ঘোড়া, হরিণ ও নানা প্রজাতির পাখি। সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের সময় ব্যাডল্যান্ডের রঙিন পাহাড় দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

প্রকৃতি, ইতিহাস আর মানবসভ্যতার ছোঁয়ায় গড়ে ওঠা নর্থ ডাকোটা ব্যাডল্যান্ড শুধু একটি ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চল নয়, এটি আমেরিকার অতীত ও বর্তমানের এক জীবন্ত দলিল।