ঢাকা ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

নওগাঁয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে টানাপোড়েন: ১০ নেতাকর্মীর একযোগে পদত্যাগ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৫০:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 2111

ছবি সংগৃহীত

 

নওগাঁ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কমিটি থেকে সংগঠক ও জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধাসহ মোট ১০ জন একযোগে পদত্যাগ করেছেন। কমিটি গঠন ও কার্যক্রমে স্বচ্ছতার ঘাটতি, আদর্শগত বিচ্যুতি এবং আন্দোলনের মূল চেতনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যের অভিযোগ তুলে তারা এই সিদ্ধান্ত নেন।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা আহ্বায়কের কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা। পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন— কমিটির সংগঠক শিহাব হোসেন, জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধা সালমানসহ সদস্য সাদমান সাকিব সাদাফ, আহনাফ হোসেন, ইফাত রাব্বী, সাদ্দাম হোসেন, ইলিয়াস হোসেন, গোলাম রাব্বী, এমরান হোসেন ও অমিত হোসেন নিরব।

আরও পড়ুন  স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীদের প্রতিবাদ, কার্যালয় অভিমুখে পুলিশি বাধা

পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়, কেন্দ্রীয় অনুমোদনে গঠিত নওগাঁ জেলা আহ্বায়ক কমিটি শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া ও পরবর্তী কর্মকাণ্ড আন্দোলনের নৈতিক অবস্থান, আদর্শ এবং ছাত্রসমাজের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় সদস্য হিসেবে থাকা তাদের জন্য বিব্রতকর হয়ে ওঠে। আন্দোলনের আদর্শ ও ব্যক্তিগত আত্মসম্মান বজায় রাখতেই তারা একযোগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে সংগঠনটির সাংগঠনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যুগ্ম সদস্য সচিব শাফিক মোয়াম্মার রিয়ানও পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগকারীদের একজন, জুলাই আন্দোলনে আহত সালমান বলেন, “আমরা রাজপথে লড়াই করেছি, নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে সেই ত্যাগের সুফল ভোগ করছে সুবিধাবাদীরা। যারা সামনে ছিল না, তারাই এখন নেতৃত্বে— এটি আমাদের জন্য হতাশাজনক।”

অন্যদিকে সংগঠক শিহাব হোসেন বলেন, “এই কমিটি আন্দোলনের চেতনা ধারণ করছে না। গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমরা চেয়েছিলাম সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি কমিটি— কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন হওয়ায় বাধ্য হয়েই পদত্যাগ করেছি।”

তবে এসব অভিযোগ নাকচ করেছেন নওগাঁ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরমান হোসেন। তিনি জানান, পদত্যাগপত্রে উল্লিখিত স্বাক্ষর নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে এবং বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার দাবি, কমিটিতে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য নেই এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনে ২০৬ সদস্যের নওগাঁ জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

নওগাঁয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে টানাপোড়েন: ১০ নেতাকর্মীর একযোগে পদত্যাগ

আপডেট সময় ০৯:৫০:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

 

নওগাঁ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কমিটি থেকে সংগঠক ও জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধাসহ মোট ১০ জন একযোগে পদত্যাগ করেছেন। কমিটি গঠন ও কার্যক্রমে স্বচ্ছতার ঘাটতি, আদর্শগত বিচ্যুতি এবং আন্দোলনের মূল চেতনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যের অভিযোগ তুলে তারা এই সিদ্ধান্ত নেন।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা আহ্বায়কের কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা। পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন— কমিটির সংগঠক শিহাব হোসেন, জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধা সালমানসহ সদস্য সাদমান সাকিব সাদাফ, আহনাফ হোসেন, ইফাত রাব্বী, সাদ্দাম হোসেন, ইলিয়াস হোসেন, গোলাম রাব্বী, এমরান হোসেন ও অমিত হোসেন নিরব।

আরও পড়ুন  পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়, কেন্দ্রীয় অনুমোদনে গঠিত নওগাঁ জেলা আহ্বায়ক কমিটি শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া ও পরবর্তী কর্মকাণ্ড আন্দোলনের নৈতিক অবস্থান, আদর্শ এবং ছাত্রসমাজের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় সদস্য হিসেবে থাকা তাদের জন্য বিব্রতকর হয়ে ওঠে। আন্দোলনের আদর্শ ও ব্যক্তিগত আত্মসম্মান বজায় রাখতেই তারা একযোগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে সংগঠনটির সাংগঠনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যুগ্ম সদস্য সচিব শাফিক মোয়াম্মার রিয়ানও পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগকারীদের একজন, জুলাই আন্দোলনে আহত সালমান বলেন, “আমরা রাজপথে লড়াই করেছি, নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে সেই ত্যাগের সুফল ভোগ করছে সুবিধাবাদীরা। যারা সামনে ছিল না, তারাই এখন নেতৃত্বে— এটি আমাদের জন্য হতাশাজনক।”

অন্যদিকে সংগঠক শিহাব হোসেন বলেন, “এই কমিটি আন্দোলনের চেতনা ধারণ করছে না। গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমরা চেয়েছিলাম সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি কমিটি— কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন হওয়ায় বাধ্য হয়েই পদত্যাগ করেছি।”

তবে এসব অভিযোগ নাকচ করেছেন নওগাঁ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরমান হোসেন। তিনি জানান, পদত্যাগপত্রে উল্লিখিত স্বাক্ষর নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে এবং বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার দাবি, কমিটিতে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য নেই এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনে ২০৬ সদস্যের নওগাঁ জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।