০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

চাল উৎপাদনে ঘাটতি নেই, বিশ্ববাজারে দরপতন, তবু চালের দাম চড়া কেন— সিপিডি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫৯:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 88

ছবি সংগৃহীত

 

আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, দেশেও উৎপাদনে কোনো ঘাটতি নেই। তারপরও ভোক্তাকে বাড়তি দামে চাল কিনতে হচ্ছে। এই বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। তাদের মতে, চালের দাম বাড়ার পেছনে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বড় ভূমিকা রাখছে।

শনিবার ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০২৫-২৬: নির্বাচনী বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ব্রিফিংয়ে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ২০২৩ সাল থেকে দেশের অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সেই গতি খুব ধীর এবং এখনও লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে। ডিসেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশে রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, খাদ্যপণ্যের মধ্যে চালের দাম কমার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। সরকারি ও বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশে চালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩১ মিলিয়ন মেট্রিক টন, যেখানে উৎপাদন প্রায় ৪৪ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ উৎপাদনে কোনো সংকট নেই। অথচ বাজারে চালের দাম বাড়ছে। সিপিডির বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, চাল উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারে শক্তিশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর প্রভাব এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ।

ড. ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। কিন্তু দেশের বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে চিনি ও ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেও। বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশীয় বাজারে দাম কমছে না, যা বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে আসে।

সামনের জাতীয় নির্বাচন ও অর্থনৈতিক গতি মন্থর হওয়ার প্রেক্ষাপটে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে সিপিডি। ফাহমিদা খাতুন জানান, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম। নভেম্বর পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে প্রায় ১৫ শতাংশে। এই পরিস্থিতিতে এনবিআরকে বছরের বাকি সময়ে প্রায় ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে, যা বর্তমান বাস্তবতায় অত্যন্ত কঠিন।

তিনি বলেন, সংশোধিত বাজেটে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা আরও ৫৫ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, মূল বাজেটের লক্ষ্যমাত্রাই অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়ে। সামনে নির্বাচন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের শ্লথ গতির মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

সরকারি ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে সরকারি ব্যয় বাস্তবায়নের হার গত দশ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র সাড়ে ১১ শতাংশ। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি বড় মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়ন হার খুবই কম।

বাজেট ঘাটতির বিশ্লেষণে সিপিডি জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সরকার অনুদান বাদ দিয়ে বাজেট উদ্বৃত্ত দেখিয়েছে। এই সময়ে উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। তবে এই উদ্বৃত্ত মূলত উন্নয়ন ব্যয়ের ধীরগতির ফল।

একই সময়ে সরকারের বৈদেশিক উৎস থেকে নিট ঋণ গ্রহণ কমেছে। বিপরীতে ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। প্রথম তিন মাসে সরকার ব্যাংক খাত থেকে নিট ১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে সরকার ব্যাংক খাতকে ঋণ পরিশোধ করেছিল। অব্যাংকিং খাত থেকে নিট ঋণ গ্রহণ নেমে এসেছে ঋণাত্মক পর্যায়ে, যার বড় কারণ জাতীয় সঞ্চয়পত্রের বিক্রি প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যাওয়া।

সিপিডি সতর্ক করে বলেছে, সরকারের ব্যাংকনির্ভর অর্থায়ন বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ও সুদের হারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি দুর্বল পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করতে সরকারের ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া পরিশোধে আরও ২০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। গ্রীষ্মকালে লোডশেডিং কমাতে এই অর্থ পরিশোধ জরুরি বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে বাজারে চালের দাম সাম্প্রতিক সময়ে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে সিপিডির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

সুপারিশে সিপিডি বলেছে, রাজস্ব বাড়াতে ডিজিটাল অর্থনীতি, সম্পদ ও সম্পত্তির ওপর কার্যকর কর আরোপ জরুরি। বাস্তব বাজারমূল্যের ভিত্তিতে সম্পত্তি কর হালনাগাদ করে এনবিআরের সম্পদ কর ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা যেতে পারে। একই সঙ্গে অকার্যকর কর ছাড় ও অব্যাহতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে বাতিল করতে হবে এবং খেয়ালখুশিমতো কর সুবিধা দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। অবৈধ আর্থিক প্রবাহ ঠেকাতে নীতি ও বাস্তব প্রয়োগ—দুই ক্ষেত্রেই কর কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছে সিপিডি।

নিউজটি শেয়ার করুন

চাল উৎপাদনে ঘাটতি নেই, বিশ্ববাজারে দরপতন, তবু চালের দাম চড়া কেন— সিপিডি

আপডেট সময় ১০:৫৯:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

 

আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, দেশেও উৎপাদনে কোনো ঘাটতি নেই। তারপরও ভোক্তাকে বাড়তি দামে চাল কিনতে হচ্ছে। এই বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। তাদের মতে, চালের দাম বাড়ার পেছনে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বড় ভূমিকা রাখছে।

শনিবার ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০২৫-২৬: নির্বাচনী বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ব্রিফিংয়ে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ২০২৩ সাল থেকে দেশের অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সেই গতি খুব ধীর এবং এখনও লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে। ডিসেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশে রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, খাদ্যপণ্যের মধ্যে চালের দাম কমার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। সরকারি ও বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশে চালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩১ মিলিয়ন মেট্রিক টন, যেখানে উৎপাদন প্রায় ৪৪ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ উৎপাদনে কোনো সংকট নেই। অথচ বাজারে চালের দাম বাড়ছে। সিপিডির বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, চাল উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারে শক্তিশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর প্রভাব এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ।

ড. ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। কিন্তু দেশের বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে চিনি ও ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেও। বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশীয় বাজারে দাম কমছে না, যা বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে আসে।

সামনের জাতীয় নির্বাচন ও অর্থনৈতিক গতি মন্থর হওয়ার প্রেক্ষাপটে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে সিপিডি। ফাহমিদা খাতুন জানান, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম। নভেম্বর পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে প্রায় ১৫ শতাংশে। এই পরিস্থিতিতে এনবিআরকে বছরের বাকি সময়ে প্রায় ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে, যা বর্তমান বাস্তবতায় অত্যন্ত কঠিন।

তিনি বলেন, সংশোধিত বাজেটে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা আরও ৫৫ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, মূল বাজেটের লক্ষ্যমাত্রাই অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়ে। সামনে নির্বাচন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের শ্লথ গতির মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

সরকারি ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে সরকারি ব্যয় বাস্তবায়নের হার গত দশ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র সাড়ে ১১ শতাংশ। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি বড় মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়ন হার খুবই কম।

বাজেট ঘাটতির বিশ্লেষণে সিপিডি জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সরকার অনুদান বাদ দিয়ে বাজেট উদ্বৃত্ত দেখিয়েছে। এই সময়ে উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। তবে এই উদ্বৃত্ত মূলত উন্নয়ন ব্যয়ের ধীরগতির ফল।

একই সময়ে সরকারের বৈদেশিক উৎস থেকে নিট ঋণ গ্রহণ কমেছে। বিপরীতে ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। প্রথম তিন মাসে সরকার ব্যাংক খাত থেকে নিট ১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে সরকার ব্যাংক খাতকে ঋণ পরিশোধ করেছিল। অব্যাংকিং খাত থেকে নিট ঋণ গ্রহণ নেমে এসেছে ঋণাত্মক পর্যায়ে, যার বড় কারণ জাতীয় সঞ্চয়পত্রের বিক্রি প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যাওয়া।

সিপিডি সতর্ক করে বলেছে, সরকারের ব্যাংকনির্ভর অর্থায়ন বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ও সুদের হারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি দুর্বল পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করতে সরকারের ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া পরিশোধে আরও ২০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। গ্রীষ্মকালে লোডশেডিং কমাতে এই অর্থ পরিশোধ জরুরি বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে বাজারে চালের দাম সাম্প্রতিক সময়ে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে সিপিডির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

সুপারিশে সিপিডি বলেছে, রাজস্ব বাড়াতে ডিজিটাল অর্থনীতি, সম্পদ ও সম্পত্তির ওপর কার্যকর কর আরোপ জরুরি। বাস্তব বাজারমূল্যের ভিত্তিতে সম্পত্তি কর হালনাগাদ করে এনবিআরের সম্পদ কর ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা যেতে পারে। একই সঙ্গে অকার্যকর কর ছাড় ও অব্যাহতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে বাতিল করতে হবে এবং খেয়ালখুশিমতো কর সুবিধা দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। অবৈধ আর্থিক প্রবাহ ঠেকাতে নীতি ও বাস্তব প্রয়োগ—দুই ক্ষেত্রেই কর কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছে সিপিডি।