আইনি জটিলতায় পাবনা–১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিত
- আপডেট সময় ০২:৩২:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / 97
আইনি জটিলতার কারণে পাবনা–১ ও পাবনা–২ আসনের সংসদ নির্বাচন আপাতত স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে এই দুই আসনে সব ধরনের নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ শুক্রবার বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। তিনি জানান, আপিল বিভাগ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দুই আসনের নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। আপিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে শুক্রবার সকালে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, মহামান্য আদালত পাবনা–১ ও পাবনা–২ আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা না করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের সেই আদেশ প্রতিপালন করেই নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণসহ সব কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রেখেছে।
আখতার আহমেদ আরও জানান, নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে সৃষ্ট আইনি জটিলতার কারণে বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। আদালতের পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ পাবনা–১ ও পাবনা–২ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে নির্বাচন কমিশন হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়। হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে গত ২৪ ডিসেম্বর পাবনা–১, পাবনা–২ ও ফরিদপুর–২ আসনের সীমানা পরিবর্তন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।
সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী, পাবনা–১ আসন গঠন করা হয় সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন নিয়ে। অপরদিকে পাবনা–২ আসন থেকে ওই পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন বাদ দিয়ে কেবল সুজানগর উপজেলা ও বেড়া উপজেলা রাখা হয়। তবে আপিল বিভাগ ইসির ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত গেজেটের একটি অংশ স্থগিত করেন এবং লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই স্থগিতাদেশ বহাল রাখার নির্দেশ দেন।
এই আদেশের অনুলিপি নির্বাচন কমিশনে পৌঁছানোর পরই পাবনা–১ ও পাবনা–২ আসনের নির্বাচন আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হঠাৎ এই ঘোষণায় সংশ্লিষ্ট দুই আসনের প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আইনি জটিলতা নিষ্পত্তি হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে দেশের অন্য সব আসনে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচনী কার্যক্রম চলমান থাকবে।
























