মুক্তিযোদ্ধাদের মত জুলাই যোদ্ধাদের ক্ষেত্রেও দায়মুক্তির বৈধতা আছে: আইন উপদেষ্টা
- আপডেট সময় ০৬:৫৬:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / 123
মহান মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দায়মুক্তি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধানেই দায়মুক্তির আইনি ভিত্তি রয়েছে। সেই নজির অনুসরণ করেই জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিতে একটি অধ্যাদেশের খসড়া প্রস্তুত করেছে আইন মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।
ড. আসিফ নজরুল লেখেন, জুলাই যোদ্ধারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশকে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত করেছেন। সে কারণে তাদের দায়মুক্তি পাওয়ার নৈতিক ও আইনি অধিকার রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনার শাসনামলের দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে যেসব প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম তারা চালিয়েছে, সেগুলোর জন্য দায়মুক্তি দিয়ে আইন করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইন উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের আইন প্রণয়ন সম্পূর্ণ সাংবিধানিক ও বৈধ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে আরব বসন্তসহ নানা গণ-অভ্যুত্থান বা বিপ্লবের পর জনবিচ্ছিন্ন সরকারের পতনের পর এমন দায়মুক্তির আইন প্রণয়নের নজির রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদে দায়মুক্তি আইন করার সুযোগ স্পষ্টভাবে রয়েছে। একই সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭৩ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যও দায়মুক্তি আইন করা হয়েছিল। এসব ঐতিহাসিক নজির ও সাংবিধানিক বিধানের আলোকে আইন মন্ত্রণালয় জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করেছে।
ড. আসিফ নজরুল জানান, এই খসড়া শিগগিরই উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। তিনি লেখেন, “ইনশা আল্লাহ, আগামী উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকেই এটি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। জুলাইকে নিরাপদ রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৬ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিতে অধ্যাদেশ জারির উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকে প্রয়োজনীয় খসড়া প্রস্তুতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
























